জেলা প্রতিনিধি, রাজশাহী ॥ পদ্মার পানি বিপদসীমার দশ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বুধবার রাত ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত নগরীর বোয়ালিয়া পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৮ দশমিক ৬০ মিটার। পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ পাঠক শহিদুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
গেজ পাঠক শহিদুল ইসলাম জানান, গত মঙ্গলবার বিপদসীমার (১৮ দশমিক ৫০ মিটার) ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বুধবার রাতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
দশ বছরের মধ্যে এবার পদ্মার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন-উর-রশিদ জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের থেকে চলমান বৃষ্টিপাতের কারণে রাজশাহীর বর্তমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বুধবার রাজশাহী শহর রা বাঁধের কাছাকাছি পানি চলে এসেছে। তবে শুরু থেকেই পুরো এলাকা পর্যবেণে আছে। এখন পর্যন্ত বাঁধের কোনো তি হয়নি।
এদিকে গত মঙ্গলবারের চেয়ে ৫ সেন্টেমিটার পানি বেশী বাড়ায় রাজশাহীর পবা উপজেলার খানপুর, চর মাঝারদিয়াড়, চারঘাটের রাউথা, ইউসুফপুর, সাহাপুর মসজিদসহ চরাঞ্চলগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ভেঙে যাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তৈরি করা প্রাথমিক সুরা বাঁধ। ওইসব এলাকায় গত তিনদিন থেকে বাঁশের পাইলিং ও বালির বস্তা দিয়ে মেরামত কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া যে কোনো ধরণের পরিস্থিতি মোকাবেলায় পাউবো প্রস্তুত বলে জানান তিনি।
পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে রাজশাহী নগরীসহ বিভিন্ন এলাকায় প্লাবিত হয়েছে। নগরীর জিয়ানগর, পাঁচানির মাঠ, শ্রী রামপুর, বসরির নতুন কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, বন্যা দুর্গতদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ আমাদের মজুদ আছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বিশেষ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল সেই বিশেষ বরাদ্দ আমরা পেয়েছি।
