স্টাফ রিপোর্টার ॥ ‘সংবিধানে নির্বাচনের যে বিধান আছে সে অনুযায়ী আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এ ক্ষেত্রে ৯০ দিন পূর্বে না পরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সেটা সংসদের বিষয়। সংসদ যেভাবে সিদ্ধান্ত নেবে সেভাবেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’
সোমবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের কাছে এমন কথা বলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কীভাবে হবে সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা নেই। সংবিধানের বাইরে গিয়ে আমরা কিছু করতে পারি না।’
‘৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হলে লেভেল প্লেইং ফিল্ড ঠিক থাকবে কি না’ এ প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘এটা কীভাবে স্টাবলিস্ট করা যায় সেটা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করলে হবে কি হবে না সেটা মূল বিষয় না। মূল বিষয় হচ্ছে নির্বাচন কীভাবে করা হবে। সবাইকে সমান সুবিধা দেয়া হলে কোনো সমস্যা থাকবে না। গণতান্ত্রিক দেশের রীতিনীতি দেখেই আমরা সে সিদ্ধান্ত নেবো।’
বিরোধী দলের অনাস্থায় ইসি প্রেসারে নেই দাবি করে বলেন, ‘আমরা প্রেসার ফিল করছি না। যার যার মতবাদ তারা ব্যক্ত করেছেন। কাজ দিয়ে আমাদেরকে প্রমাণ করতে চাই আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারি। জনগণের ভোট আমাদের কাছে আমানত। এটা ইনসিওর করাই আমাদের কাজ।’
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘আমাদের পূর্ববর্তী কমিশনও দুই দফায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসেছে। সেখানে যেসব অসঙ্গতি ও কনফ্লিক্ট পাওয়া গেছে সেগুলো পর্যালোচনা করছি। তাছাড়া আমরাও সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসেছি। আমাদের দরজা খোলা আছে। যেকোনো রাজনৈতিক দল চাইলে আমাদের সঙ্গে আলোচনা ও যোগাযোগ করতে পারে।’
‘জামায়াতকে কমিশনের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না’ এমন অভিযোগের উত্তরে সিইসি বলেন, ‘তারা যেসময়ে দেখা করতে চেয়েছেন তখন আমাদের মিটিং থাকার কারণে সময় দিতে পারিনি। আজও গুরুত্বপূর্ণ মিটিং ছিল বলে তাদের সঙ্গে বসতে পারিনি।’
জামায়াত নিবন্ধিত দল কি না সাংবাদিকরা এমন প্রশ্ন করলে সিইসি বলেন, ‘আদালতের রায় যতোক্ষণ পর্যন্ত বহাল থাকে ততোক্ষণ এটা কার্যকর। কমিশনের প্রত্যেকটা কার্যক্রম জুডিশিয়াল স্কুটিনির আওতাভূক্ত। আদালতের রায় যখন যেরকম হবে সেটাই আমাদের মেনে নিতে হবে।’
উল্লেখ্য, ভোটার তালিকা থেকে যুদ্ধাপরাধীদের নাম বাতিল করা প্রসঙ্গে জামায়াতের একটি প্রতিনিধিদল কমিশনের সঙ্গে সোমবার দেখা করার কথা ছিল।
নির্বাচন কমিশনারদের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যে কোনো সংশয় সৃষ্টি হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন কাজী রকিবউদ্দীন। তিনি বলেন, ‘সবার ভিন্ন ভিন্ন মতামত আছে। তবে সেগুলো ব্যক্তিগত মত। কমিশনের সিদ্ধান্ত অন্য বিষয়। কিন্তু সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচনের ব্যাপারে কোনো মতানৈক্য নেই।’
এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্রের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান সিইসি। তবে ঢাকায় সেগুলো কীভাবে বিতরণ করা হবে সে বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। পোস্ট অফিসের মাধ্যমে নাকি বাড়ি বাড়ি গিয়ে এ পরিচয় পৌঁছানো হবে সে বিষয়ে দু’একদিনের মধ্যেই আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
তবে ঢাকার বাইরের পরিচয়পত্র নির্ধারিত অফিস থেকে বিতরণ করার কথা জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
