Skip to content

ইমারত বিধি ভেঙে বাড়ি উঠছে ঢাকায়; রাজউক নির্বিকার

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ ইমারত নির্মাণ বিধি ভেঙে যেখানে সেখানে বাড়ি উঠছে ঢাকায় কিন্তু রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপ (রাজউক) নির্বিকার। রাজউক কর্মকর্তাদের চোখের সামনেই বিধি ভেঙে বাড়ি নির্মাণ করা হলেও তারা না দেখার ভান করে থাকেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে নাগরিকেরা নিজ দায়িত্বে রাজউকে অভিযোগ করলেও কোনো কাজ হয় না। উপরন্তু অভিযুক্ত বাড়ি নির্মাণকারীদের কাছে অভিযোগকারীদের নাম-ঠিকানা বলে দেয়া হচ্ছে। ফলে অভিযুক্ত বাড়ি নির্মাণকারীরা নানাভাবে হয়রানি করে যাচ্ছে নাগরিক দায়িত্ব পালনকারী অভিযোগকারীদের। অভিযোগ পাওয়া গেছে, রাজউকের অথরাইজ অফিসের লোকজনই এ ধরনের কাজের সাথে জড়িত।

২০০৮ সালের ইমারত নির্মাণ বিধিমালা তৈরির পর এর আওতায় যেসব বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে তা পরিবেশসম্মত ও বাসযোগ্য বলে ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। এসব বাড়ির সামনে ও পেছনে যথেষ্ট ফাঁকা জায়গা থাকছে। ফলে এসব বাড়িতে প্রচুর আলো-বাতাস ঢুকে। ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার দিনেও বিদ্যুৎ চলে গেলে এসব বাড়ির বাসিন্দারা অপোকৃত ঠাণ্ডা অনুভব করেন খোলা হাওয়া প্রবেশ করে বলে। কিন্তু ২০০৮ সালের ইমারত নির্মাণ বিধিমালা কার্যকরের আগে নির্মিত বাড়িগুলো উঠেছে একটির সাথে আরেকটি লাগালাগি করে। ফলে সামনে কোনো রাস্তা না থাকলে এসব বাড়িতে আলো প্রবেশ তো দূরে থাক যথেষ্ট সতেজ বাতাসও প্রবেশ করে না। গুমোট একটা পরিবেশ সব সময় বিরাজ করে এসব বাড়িতে। ঘর ঠাণ্ডা রাখতে সারাণই বৈদ্যুতিক পাখা চালিয়ে রাখতে হয়। অন্ধকার দূর করতে দিনেও বাল্ব জালিয়ে রাখতে হয়। পরিতাপের বিষয় হলো বর্তমানেও কোনো কোনো এলাকায় এমন বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে রাজউকের কর্মকর্তাদের চোখের সামনেই।

বাড়িটি নির্মাণ হয়ে গেলে আর প্রমাণ করা সম্ভব হয় না যে এ সময়ে পুরনো বিধিমালায় তা করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজউকে এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিকার চাইলে দরখাস্ত ফাইল চাপা পড়ে থাকে বছরের পর বছর, অধিকাংশ েেত্র কোনো প্রতিকার পাওয়া যায় না। রামপুরা বনশ্রীর এ ধরনের এক অভিযোগকারী আব্দুল করিম নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, তার বাড়ির সামনেই গত বছর একটি বাড়ি নির্মাণ করা শুরু হয়েছে সামনে, পেছনে ও দুই পাশে কোনো জায়গা না ছেড়েই। ২০১২ সালে বাড়ি নির্মাণ শুরু হলে তা অবশ্যই ২০০৮-এর ইমারত নির্মাণ বিধিমালার আওতায় করতে হবে, ১৯৯৬ সালে নির্মাণ বিধিমালার আওতায় করার কোনো সুযোগ নেই। আব্দুল করিম জানান, স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে নাগরিক দায়িত্ব পালনের উদ্দেশেই কেবল রাজউকে তিনি অভিযোগটি করেছিলেন। কিন্তু রাজউকের লোকেরা আইন ভঙ্গ করে নির্মাণের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো নির্মাণকারীর কাছে তার নাম ও ঠিকানা জানিয়ে দেয়। এতে তাকে নানাভাবে হেনস্থা হতে হয় বলে জানান তিনি।

এ বিষয়টি রাজউকের সদস্য (পরিকল্পনা) প্রকৌশলী আব্দুল মান্নানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, ইমারত নির্মাণের অনুমোদন নেয়ার পর তিন বছরের মধ্যে নির্মাণ শুরু করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ফাউন্ডেশন করে রেখে দিলে পরে নির্মাণকারী ধীরে ধীরে তার বাড়ি ওপরে তুলতে পারবেন। বর্তমানে ১৯৯৬ সালের ইমারত নির্মাণ বিধিমালার আওতায় কেউ বাড়ি নির্মাণ শুরু করতে পারবেন না। তাকে অবশ্যই ২০০৮ সালের বিধিমালা মেনে চলতে হবে। কোথাও কোথাও এখনো ১৯৯৬ সালের বিধিমালার আওতায় বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু রাজউক এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এ ধরনের নির্মাণকাজ রাজউকের দৃষ্টিগোচর হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। তবে অনেক সময় রাজউক জানতে পারে না রাজউকের যথেষ্ট পরিমাণ জনবলের অভাবে। রাজউক জনবল নিয়োগের একটি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তখন হয়তো কেউ রাজউককে ফাঁকি দিতে পারবে না।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫