বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ এক সপ্তাহব্যাপী জাতীয় আয়কর মেলা রোববার শেষ হয়েছে। দেশব্যাপী আয়োজিত এ মেলায় ল্যমাত্রার চেয়ে ১৭ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। এবার ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা ল্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আহরণ হয় ১ হাজার ১১৭ কোটি টাকা।
১৬ সেপ্টেম্বর থেকে দেশব্যাপী সাত দিনের আয়কর মেলার আয়োজন করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। রাজধানী ঢাকাসহ সাত বিভাগীয় শহরে সাত দিন, ৫৪ জেলায় দু’দিন ও তিন পার্বত্য জেলায় এক দিন করে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এবার মেলায় সাত দিনই ছিল উপচেপড়া ভিড়। বিশেষ করে ই-টিআইএন নিতে করদাতাদের আগ্রহ ছিল বেশি। মেলায় সারা দেশে ৫ লাখ ১০ হাজার ১৪৫ জন করদাতা সেবা নেন। নতুন করদাতা হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন ১২ হাজার ৩৩৭ জন। আর ৭৪ হাজার ৩৫৬ করদাতা ই-টিআইএন পদ্ধতিতে পুনরায় নিবন্ধন করেছেন। মোট ১ লাখ ৩২ হাজার আয়কর রিটার্ন জমা পড়েছে।
গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর ইস্কাটনে অফিসার্স কাবে আয়কর মেলার সমাপনী অনুষ্ঠান হয়। এনবিআরের সদস্য (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মো. বশির উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আ হ ম মুস্তফা কামাল। এছাড়া এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বর্তমান সরকার আগামীতে মতায় এলে করপোরেট কর হার কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করা হবে। একই সঙ্গে ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের কর হার কমিয়ে আনা হবে। আয়কর আইন এখনো অনেক জটিল পর্যায়ে রয়েছে। সেটিকে আরো সহজ করে সাধারণ করদাতাদের উপযোগী করার ব্যবস্থা করা হবে।’
বর্তমান সরকারের আমলে রাজস্ব আহরণ ও রেমিট্যান্সের প্রবাহ দ্বিগুণ হয়েছে উল্লেখ করে তিন বলেন, ‘এ ধারা অব্যাহত থাকলে কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। বর্তমান সরকারের সময়ে দেশের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটেছে। মাথাপিছু আয় অনেক বেড়েছে। এখন মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৪ ডলার।’
এনবিআরের শুল্কনীতি বিভাগের সদস্য ফরিদ উদ্দিন বলেন, বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে করপোরেট কর হার কমিয়ে আনা দরকার। আয়কর মেলার পাশাপাশি সার্কেলগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। যাতে করদাতারা সার্কেলগুলোয় নির্বিঘ্নে কর দিতে পারে।
সভাপতির বক্তৃতায় এনবিআরের সদস্য বশির উদ্দিন করবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে রাজস্ব বোর্ডের নানা পদেেপর বিষয়টি তুলে ধরেন।
মেলার শেষ দিন গতকাল ১ লাখ ৭৮৭ জন করদাতা সেবা নেন। নতুন করদাতা হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন ২ হাজার ২৫৬ জন করদাতা। ১৬ হাজার ৮১০ জন করদাতা নতুন ই-টিআইএন পদ্ধতিতে পুনরায় নিবন্ধিত হয়েছেন। আয়কর রিটার্ন জমা পড়েছে ২৯ হাজার ৩১০টি।
