বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের জটিলতা নিয়ে উদ্বিগ্ন সংস্থাটি। ৫৫ কোটি ডলার ব্যয়ে পাঁচটি প্রকল্পে গতি আনতে সংস্থাটি তাগাদা দিলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। এ পরিস্থিতিতে বড় প্রকল্পগুলোর অর্থের উল্লেখযোগ্য অংশ সংস্থাটি প্রত্যাহার করে নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।
২১ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ কার্যালয়ের অপারেশন অ্যাডভাইজর ক্রিস্টিন ই কিমস প্রকল্প বাস্তবায়নে হতাশাজনক অবস্থার কথা জানিয়ে ইআরডিতে চিঠি দেন। এরপর বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ কার্যালয়ের শীর্ষস্থানীয় এ কর্মকর্তা ইআরডিতে একাধিক ই-মেইল বার্তাও পাঠিয়েছেন। এরই পরিপ্রেেিত বাস্তবায়নকারী সংস্থা ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় বসছে ইআরডি।
আগামী ১ অক্টোবর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিশ্বব্যাংকের পে নেতৃত্ব দেবেন বাংলাদেশ কার্যালয়ের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইয়োহানেস জাট ও সরকারের পে ইআরডির অতিরিক্ত সচিব আরস্তু খান।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রস্তুত না থাকার কারণে প্রতিশ্রুত অর্থ ফেরত যাচ্ছে। বাস্তবায়নের প্রত্যেক পর্যায়ে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ঠিক করা প্রয়োজন।
জানা গেছে, ২০০৯ সালে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি ডলার ব্যয়ে ডিজঅ্যাবিলিটি অ্যান্ড চিলড্রেন অ্যাট রিস্ক প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়। প্রকল্প শুরুর পর চার বছর কেটে গেলেও ব্যয় হয়েছে ১ শতাংশের কম। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জটিলতা দিন দিন বাড়তে থাকায় বিশ্বব্যাংকের প থেকে বরাদ্দকৃত অর্থ আগামী সপ্তাহের বৈঠকে প্রত্যাহার করা হবে। এরই মধ্যে ইআরডিকে তা জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
আটকে থাকা প্রকল্পের আরেকটি হলো, সাড়ে ৭ কোটি ডলার ব্যয়ে রুরাল ওয়াটার সাপ্লাই প্রজেক্ট। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটিতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৯ হাজার ডলার। একই অবস্থা প্রায় ১৭ কোটি ডলার ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন চিটাগং ওয়াটার সাপ্লাই ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টেরও। কয়েক বছরে প্রকল্পটিতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১০ লাখ ডলার। চট্টগ্রাম ওয়াসার বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির মেয়াদ আছে দুই বছর।
বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ২০১১ সালে নয় কোটি ভোটারকে স্মার্ট কার্ড দিতে একটি প্রকল্প নেয় নির্বাচন কমিশন। এরপর কেটে গেছে প্রায় দুই বছরের বেশি সময়। এ দীর্ঘ সময়ে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের বেতন-ভাতা ও আনুষঙ্গিক কিছু কার্যক্রম ছাড়া আর কোনো অগ্রগতি নেই। এ অবস্থায় বাতিল হওয়ার পথে বিশ্বব্যাংকের ১৯ কোটি ৫০ লাখ ডলারের ঋণ। এর মধ্যে ব্যয় হয়েছে ২ শতাংশ অর্থ। থমকে আছে ৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার ব্যয়ে ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন প্রকল্পও।
আরস্তু খান এ প্রসঙ্গে বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, ইআরডি এবং বিশ্বব্যাংক একসঙ্গে বসে প্রকল্পগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এজন্য আগামী সপ্তাহে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
জানা গেছে, গতিহীন এসব প্রকল্পের বেশিরভাগের মেয়াদ শেষ পর্যায়ে থাকলেও অর্থ ছাড় হয়েছে খুবই কম। জনবল নিয়োগ ও উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরিতে ত্রুটি রয়েছে। জটিলতা রয়েছে ক্রয় প্রক্রিয়ায়ও। এসব বিষয় ইআরডিকে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি বাংলাদেশের পুরনো সমস্যা। সরকারের প থেকে উদ্যোগ নেয়ার পরও এ সমস্যা সমাধান করা যাচ্ছে না। বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের সমতা না থাকাই এর মূল কারণ। এজন্য দ কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ জুন ইআরডি সচিব আবুল কালাম আজাদকে চিঠির মাধ্যমে দুটি প্রকল্পের বিপরীতে ১ হাজার ২২৪ কোটি টাকা বাতিলের বিষয়টি জানিয়ে দেন ইয়োহানেস জাট।
