Skip to content

দস্যুদের কাছে বন্দি সুন্দরবন

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ সুন্দরবনে অপহরণ, হত্যা, গুম, লুটপাট এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। ফলে ঝুঁকির মধ্যে জেলে, বাওয়ালী ও মৌয়ালরা। এতে বনদস্যুদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন তারা। জেলেরা বলছেন, নাম-উপনামে গড়ে ওঠা দস্যুবাহিনীর কাছে রয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ও দ্রুতগতির জলযান। অন্যদিকে বন বিভাগের কাছে আছে নিম্নমানের সীমিত অস্ত্র ও ধীরগতির জলযান। ফলে বনরীদের পে এ বিশাল বনভূমি ও সাগর তীরবর্তী এলাকায় দস্যুদের সঙ্গে পেরে ওঠা সম্ভব হচ্ছে না। এসব কারণে বেড়ে যাচ্ছে জেলে, বাওয়ালী ও মৌয়ালদের অপহরণ, হত্যা, গুম ছিনতাই। সব মিলিয়ে অসহায় বনরীরা। বন বিভাগ সূত্র জানায়, সুন্দরবনে দস্যুতা দমনে আধুনিক অস্ত্র ও দ্রুতগতি সম্পন্ন জলযানের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

সুন্দরবন সংশ্লিষ্ট জেলে, বাওয়ালী ও স্থানীয় সূত্রগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুন্দরবন ও সাগর উপকূলে পেশাজীবী জেলে, বাওয়ালীদের অপহরণ, গুম, হত্যা, মুক্তিপণ আদায় এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। আর এ কারণেই বন্য হিংস্র জীব-জানোয়ারের চেয়ে জেলে, বাওয়ালীদের কাছে দস্যুরাই মূর্তিমান আতঙ্ক। বনদস্যুদের নিয়ন্ত্রণে সুন্দরবনের কয়েক হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা ও সাগর উপকূল। এ অঞ্চলে জলদস্যু ও বনদস্যুদের অস্ত্রের ঝনঝনানিতে বনরীরা অসহায়। বন বিভাগের কাছে ভারী অস্ত্র বলতে রয়েছে সাবেক আমলের থ্রি নট থ্রি রাইফেল। বিপরীতে বনদস্যুদের রয়েছে অত্যাধুনিক ভারি আগ্নেয়াস্ত্র, উন্নত প্রযুক্তির ওয়াকিটকি ও দ্রুতগতির নৌযান।

সূত্র আরও জানায়, ১০ থেকে ৩০ সদস্যের দস্যু বাহিনীর হাতে রয়েছে উন্নত মানের বন্দুক, পাইপগান, শটগান, চাইনিজ রাইফেল, সিক্স শুটারগান, রিভলবারসহ আধুনিক মানের আগ্নেয়াস্ত্র। রয়েছে বুলেট প্রুফ জ্যাকেট, হেলমেট, দূরবীণ যন্ত্র ইত্যাদি। সুন্দরবনের পেশাজীবী একাধিক জেলে ও বাওয়ালীরা জানান, যে কোন কাজে সুনরবনে যাওয়া মানে ডাকাত ও বনদস্যুদের চাঁদা দেয়া। সুন্দরবন সংশ্লিষ্ট যে কোন ব্যবসা মানে বনদস্যুদের সঙ্গে আপস করে চলা। মৎস্য, গোলপাতা ও গরান কাঠের আড়ৎদাররা টোকেনের মাধ্যমে মাসিক চুক্তিতে বনদস্যুদের চাঁদা দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে আসছে। বন এলাকায় চাউর রয়েছে, বাগেরহাট, খুলনা, মংলা, রামপাল, দাকোপসহ স্থানীয় এলাকার অনেকেই এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। গোপন মদদেই দস্যুরা তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। আর ভুক্তভোগীরা জীবন বাঁচাতে নীরবে তাদের পরিশ্রমের অর্থ দস্যুদের হাতে তুলে দিচ্ছে। সূত্রমতে, জেলে ও বাওয়ালীদের কাছ থেকে বনদস্যুরা মাথাপিছ ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে থাকে। এভাবে প্রতি মাসে ন্যূনতম ৫ থেকে ৭টি দস্যুবাহিনীকে তাদের চাঁদা দিতে হয়। অন্যথায় তাদের জিম্মি করে আদায় করা হয় মুক্তিপণ। হত্যা ও গুম করা হয় তাদের অনেককে।

সুন্দরবন ও সাগর উপকূলের ৩ লাধিক পেশাজীবীর দিন এভাবেই কেটে যায়। বন বিভাগের এসব অসহায়ত্বের কথা স্বীকার করে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আমির হোসেন চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে ১টি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। যা সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। এদিকে সুন্দরবনে দস্যুতা দমনে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কোস্টগার্ডের অপারেশন অফিসার লে. এম মহিউদ্দিন মজুমদার। তিনি বলেন, গত সপ্তাহে দস্যুদের ব্যবহৃত ২০টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ৩১০ রাউন্ড গুলি, দুটি নৌযান ও বিভিন্ন সরঞ্জাম আটক করেছে কোস্টগার্ড।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫