জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার ॥ সুনির্দ্দিষ্ট নীতি মালা না মানার কারনের এবং শহর-শহরতলীতে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত থাকার কারনে ঘিঞ্জি শহরে পরিণত হয়েছে কক্সবাজার। ফলে দিন দিন শ্রীহীন হয়ে পড়ছে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকর্ষনীয় পর্যটন শহর কক্সবাজার।
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত নগরী কক্সবাজারে দালান কোটা নিমার্ণে প্রচলিত বিল্ডিং কোড (ইমারত নিমার্ণ আইন) বা নীতিমালা মানা হচ্ছে না বললে চলে। শহর ও শহরতলীর যত্রতত্র ও অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে নানা রকম স্থাপনা।
ফলে প্রাকৃতিক সৌন্দয্যের লীলাভূমি কক্সবাজার একটি ঘিঞ্জি শহরে রূপ নিতে যাচ্ছে। পাশাপাশি এই শহরের পয়ঃ নিস্কাশন ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। এই সব কারনে শহরে নাগরিক সুবিধা ক্রমাগত সীমিত হয়ে পড়ছে।
জানা গেছে, কক্সবাজার শহরে গড়ে তোলা অধিকাংশ স্থাপনা নির্মাণে প্রচলিত বিল্ডিং কোড যথাযথ মানা হয়নি। সে বিবেচনায় কক্সবাজার শহরে বিদ্যমান ও নির্মিতব্য অধিকাংশ স্থাপনাই আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ বলে সচেতন মহল মনে করেন কক্সবাজারের সচেতন নাগরিক সমাজ।
কর্তৃপরে কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের উদাসীনতা পপাত মূলক আচরনের কারনেই প্রচলিত আইন কানুন না মেনেই যত্রতত্র অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে বলে দাবী করলেও পৌর কর্তৃপরে আন্তরিক প্রচেষ্টা রয়েছে, ইতিবাচক কর্মকান্ড বাস্তবায়ন ও অনিয়মের বিরুদ্ধে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের বড় বড় নালা-নদর্মা ও ছড়ার পয়ঃ নিস্কাশন হতো তাতে এখন শোভা পাচ্ছে প্রভাবশালী ধনার্ঢ্য ব্যক্তিদের গড়ে তোলা দালানকোঠা বা স্থাপনা।
এতে করে পানি চলাচলের স্বাভাবিক গতিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়ে কালের স্মৃতিতে পরিণত হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই শহরের জনবহুল প্রধান প্রধান সড়ক ও অভ্যন্তরিন উপ-সড়ক গুলো পানিতে ডুবে যায়। সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। পানির নিচে থাকায় সড়ক গুলোর স্থায়ীত্ব ও নষ্ট হয়ে যায়। প্রচলিত বিল্ডিং কোড অনুযায়ী (ইমারত আইন) কক্সবাজার পৌর এলাকায় স্থাপনা নির্মার্ণের জন্য পৌর কর্তৃপরে অনুমতি নিতে হয়।
অনুমতি নেয়ার সময় দলিল, প্রস্তাবিত স্থাপনার আকৃতিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়। আবেদন পাওয়ার পর পৌরসভা প্রকৌশল ও জরিপ বিভাগ সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদন ইতিবাচক বা পৌর নীতিমালা মতো হলে মেয়র ইমারত আইন অনুসরনপূর্বক স্থাপনা নিমার্ণের অনুমতি দেন।
সূত্রে জানা গেছে, পৌর শহর ও শহরতলীতে পৌর কর্তৃপরে অনুমতি বিহীন শতশত স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। অপরদিকে ধনার্ঢ্য প্রভাবশালী ও বিত্তশালী ব্যক্তি স্থাপনা নিমার্ণের জন্য জমা দেয়া ডিজাইন বা আকৃতির নমুনার বাইরে খেয়াল খুশিমতে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলছে।
অনেকে নিজের জায়গায় স্থাপনা নিমার্ণে জমির সীমার অন্তত ২/৩ ফুট খালি জায়গা রেখে স্থাপনা নিমার্ণের নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। স্থাপনা নিমার্ণ করে যাচ্ছে ঘেঁষে ঘেঁষে লাগোয়ায়। শহর ও শহরতলীর অধিকাংশ ভবন নিমার্ণে এ নিয়ম মানা হয়নি। নিয়ম মানা তো দূরের কথা পাবলিক চলাচলের তৎ সংলগ্ন অনেক জায়গা দখল করে সেখানেও গড়ে তুলেছে অবৈধ স্থাপনা।
সওজ, খাসজমি ও পৌরসভার মালিকাধীন অনেক জায়গায় অনেক স্থাপনা বিদ্যমান রয়েছে বলে সচেতন মহলের দাবী। পৌর কর্তৃপ এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নোটিশ ইস্যু করলে মাঝেমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান চালালেও তার সন্তোষ জনক নয় বলে অনেকের অভিযোগ।
কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র সরওয়ার কামাল বলেন, পর্যটন শহরকে একটি আধুনিক ও পর্যটন নির্ভর শহর হিসেবে সাজিয়ে তুলতে পৌর পরিষদ কাজ করে যাচ্ছে। এ নগরীর সৌন্দর্য্য রার্থে যেসব অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
