স্টাফ রিপোর্টার ॥ হরতালে রাজধানী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বোমাবাজরা। এরা শুধু জনজীবনে আতঙ্কই সৃষ্টি করছে না, নিরীহ অনেক নাগরিকের প্রাণও কেড়ে নিচ্ছে। এসব বোমাবাজদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না শিশুরাও। গত কদিনের হরতাল নাশকতায় প্রায় ১২ জন শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। তাছাড়া চোখ হারিয়েছে ৩ জন। পাশাপাশি অঙ্গহানি ঘটেছে অনেকের। এসব বোমাবাজদের টার্গেট ভয়ভীতি দেওয়া হলেও নিরীহ লোকেরাই এদের হামলার শিকার হচ্ছেন। বিরোধী দলের টানা হরতাল ও বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই এসব বোমাবাজরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিনিময়ে এরা পাচ্ছে মোটা অংকের টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, হরতাল এলেই এদের কদর বেড়ে যায়। তখন টাকার বিনিময়ে এরা ভাড়া খাটে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মাঠপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে এদের যোগসূত্র রয়েছে। হরতালের আগে এরা অগ্রিম পাওনা বুঝে নেয়। প্রতি বোমা ফোটানো বাবদ এরা নির্দিষ্ট পরিমাণের টাকা নিয়ে থাকে। এসব বোমাবাজদের বেশিরভাগই বস্তি না হয় ঘিঞ্জি এলাকায় বসবাস করে। অনেকে ফুটপাতের টোকাই হলেও রাজনৈতিক এসব কর্মসূচিতে থাকে এরা চাঙ্গা।
জানা যায়, গত ২৮ ফেব্র“য়ারি থেকে রাজধানীসহ দেশেজুড়ে শুরু হওয়া সহিংসতায় এসব বোমাবাজরা মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। এরা শুধু বোমাবাজিই নয়, বিভিন্ন যানবাহনে অগ্নিসংযোগও করে আসছে। এদের বিস্ফোরক ব্যবহারের কারণে গত ফেব্র“য়ারি মাস থেকে শতাধিক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছে। সম্প্রতি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের হরতালগুলোতে রাজধানীজুড়ে এরা ব্যাপকভাবে বোমাবাজি করেছে। বোমা মারার পরপরই হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে এরা।
অপরদিকে গত শনিবার রাতে বাবুবাজার ব্রিজের সামনে থেকে বোমা তৈরির কারিগর বোমা হারুনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। এসময় তার কাছ থেকে বেশকিছু বোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে হারুন নিজেকে বোমা নিক্ষেপকারী এবং বোমা প্রস্তুতকারী বলে স্বীকার করেছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ‘বোমাবাজরা এত ক্ষিপ্রগতিতে বোমাবাজি করে যে তাদের নাগাল পাওয়াটা দুষ্কর। তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নগরীর অলিগলি পথ ব্যবহার করছে। তারপরও বিভিন্ন সময় ধরা পড়ছে। যারা বোমা মারছে তারা পেশাদার অপরাধী। খোলা বাজার থেকে বোমার মসলা সংগ্রহ করে বোমা তৈরি করে হরতালে ব্যবহার করছে।
রাজধানীতে বোমাবাজের সংখ্যা কত তার সঠিক পরিসংখ্যান পুলিশের হাতে নেই। তবে এ ধরনের পেশাদার বোমাবাজদের ৫০টি গ্র“প সক্রিয় বলে গোয়েন্দা পুলিশের ধারণা। পুরান ঢাকার বিভিন্ন দোকান থেকে বিস্ফোরকের উপকরণ সংগ্রহ করে বোমা তৈরি করছে পেশাদার বোমাবাজরা। এছাড়াও নগরীর বিভিন্ন ম্যাচ ফ্যাক্টরি থেকেও সালফার কিনছে বোমার কারিগররা। বোমাবাজদের আইনের আওতায় আনার পাশপাশি বোমা তৈরির উপকরণ কেনাবেচার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা দরকার। এ ধরনের উপকরণ যাতে সহজলভ্য না হয় সে ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়কে নিতে হবে বলে অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
