Skip to content

আশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ চলছে, শিল্পাঞ্চল রনক্ষেত্র

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নতুন মুজুরী কাঠামো বাস্তবায়নের দাবিতে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়া উত্তাল হয়ে ওঠে শ্রমিক পুলিশ সংঘর্ষে। দফায় দফায় চলে পুলিশের সাথে বিক্ষুব্ধ শ্যমিকদের সংঘর্ষ। এতে পথচারীসহ দুই শতাধিক আহত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে আশুলিয়ার জামগড়া, বেরন, সরকার মার্কেট, নরসিংহপুর, জিরাব, কাঠগড়া, শিশুলতলা, ইউনিক, বাংলাবাজারসহ পুরো শিল্পাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে শ্রমিক অসন্তোষ।

পুলিশ জানায়, সকালে শ্রমিকরা কারখানায় প্রবেশ করে কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করতে থাকে। সকাল ৯টায় জামগড়া বটতলা এলাকার বিজিএমইএ’র সভাপতির মালিকানাধীন পোশাক কারখানার দ্যা রোজ ড্রেসেজ লিঃ এর শ্রমিকেরা রাস্তায় নেমে আসে। তাদের সাথে আন্দোলনে যোগদেন আশপাশের প্রায় অর্ধশতাধিক পোশাক কারখানার শ্রমিক। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়কের জামগড়া শিমুলতলা, ছয়তলা ও সরকার মার্কেট এলাকায় অবস্থান নিয়ে শতাধিক যানবাহন ভাংচুর করেন। এসময় শ্রমিকদের ইট-পাটকেলের আঘাতে অর্ধ শতাধিক যাত্রী ও পথচারী আহত হয়েছে। বিভিন্ন মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে শ্রমিকরা পুলিশের সাজোয়াযান ও টহলরত পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশও শ্রমিকদের রাস্তা থেকে সড়াতে রাবার বুলেট, টিয়ারসেল, ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ জলকামান ব্যবহার করেন। ইভয়পক্ষের সংঘর্ষে সরকার মার্কেট থেকে ইউনিক পর্যন্ত রনক্ষেত্রে পরিনত হয়ে যায়।

এদিকে একই দাবিতে শিল্পাঞ্চলের নরসিংহপুর এলাকার হা-মীম গ্রুপের শ্রমিকরা প্রথমে রাস্তায় নেমে আসে। এসময় তাদের সাথে নতুন বতেন কাঠামো বাস্তবায়নের দাবিতে যোগদেন ওই এলাকার আরো ৩০ কারখানা শ্রমিক। ওই এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ রেখে যানবাহনে ইটপাটকেলসহ বিভিন্ন কারখানা ভাংচুর চালায় আন্দোলনরত শ্রমিকেরা। পুলিশ ও র‌্যাবের টহল গাড়ি মহাসড়কে টহল শুরু করলে শ্রমিকেরা বিভিন্ন গলিপথে প্রবেশ করে। গলি থেকে বেরিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করতে থাকে ইট-পাটকেল। পুলিশও শ্রমিকদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট টিয়ারসেল, জলকামান ব্যবহার করেন।

সকাল ৯টার দিকে আন্দোলনরত শ্রমিকদের বৃহত একটি অংশ জামগড়া এলাতকার রূপায়ন হাউজিং মাঠে অবস্থান নিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটের ঢিল ছুড়তে থাকে। এসময় ঘন্টা ব্যাপী চলে শ্রমিক পুলিশ সংঘর্ষ। শ্রমিকদের সাথে ওই সংঘর্ষে নেতৃত্বদেন শিল্প পুলিশের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান। এসময় পথচারীসহ আহত হয় প্রায় ৪০ ব্যাক্তি।

একই সময়ে শিমুলতলা এলাকায় আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে শ্রমিকদের অপর একটি দল। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদেরা ভাংচুর করে রিক্সা,ভ্যান, সিএনজি, লেগুনাসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক যান। এতে আহত হয় যাত্রীসহ অর্ধশত। পরে পুলিশ এসে রাবার বুলেট, টিয়ারসেল, জলকামান ব্যবহারে শ্রমিকদের রাস্তা থেকে সড়িয়ে দেন।

অপরদিকে শিল্পাঞ্চলের জিরাব এলাকায় রেডিয়ান্স, মাসকট, ম্যাগপাইসহ প্রায় অর্ধশতাধিক কারখানার শ্রমিক একই দাবিতে সকাল ৯টায় কারখানা থেকে বেরিয়ে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়ক ও জিরাব-বিশমাইল সড়ক অবরোধ রেখে বিক্ষোভসহ যানবাহন ভাংচুর করে। এসময় দফায় দফায় চলে শ্রমিকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ। এখানেও ৩০ শ্রমিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

শিল্পাঞ্চলের পল্লীবিদ্যুৎ, পলাশবাড়ী, বাইপাইল, গনকবাড়ী, শ্রীপুর, কবিরপুরসহ জিরানী এলাকায়ও শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। পলাশবাড়ী এলাকার স্কাইলেন গ্রুপ, পিজিসিএল, গিলড্রেন শাহরিয়ার লিঃ কারখানা ভাংচুর করেছে। এসময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা বশে কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করেছে। শ্রমিক অসন্তোষের কারনে জিরানী এলাকার সবকটি কারখানা ছুটি ঘোষনা করেন কর্তৃপক্ষ।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, মালিকপক্ষ তাদের নতুন বেতন কাঠামোন না মেনে নেয়া পর্যন্ত তারা কাজে ফিরে যাবেন না। পুলিশদিয়ে তাদের আন্দোলন ধমিয়ে রাখতে পারবেনা সরকার ও মালিকপক্ষ।

জানতে চাইলে শিল্প পুলিশ-১ এর পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শ্রমিকদের দাবী মালিকপক্ষ না মেনে নেয়ার কারনেই এই শ্রমিক অসন্তোষ। তিনি আরো বলেন, দ্রুত এই সমস্যার সামাধান না হলে শ্রমিক অসন্তোষ ব্যাপক আকাড় ধারন করার আশংকা প্রকাশ করেন।

এখবর লেখা পর্যন্ত শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থানরত শ্রমিকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ চলছে।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫