জেলা প্রতিনিধি, কালীগঞ্জ(ঝিনাইদহ) ॥ খেজুরের গাছের মিষ্টি রস সংগ্রহে কালীগঞ্জের গাছীরা এখন ব্যস্ত। কালীগঞ্জ উপজেলার সর্বত্রই মধু বৃক্ষ খেজুর গাছ তোলার মহাউৎসব শুরু হয়েছে। কিছুদিন পরই গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের প্রাকৃতিক মধুবৃক্ষ(খেজুর গাছ) ঘিরে গ্রামীন জনপদে শুরু হবে উৎসব মুখর পরিবেশ। আসছে পুরো শীত মৌসুমে সৃষ্টি হবে এক নতুন আমেজ। তাই খেজুর গাছ থেকে সুমিষ্ট রস সংগ্রহের জন্য গাছ তোলা চাচা সহ বিভিন্ন রকমের পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে গেছে গাছীরা। ছোট বড় বিভিন্ন রকমের খেজুর গাছ অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়েই তোলা-কাটা করতে হয়। কোমরে মোটা রশি দিয়ে বেধে গাছে ঝুলে ঝুলে করতে হয় এ কাজ। পেশাদার গাছীদের তেমন কোন সমস্যা হয়না বলে জানালেন গাছীরা।
আশ্বিনের শুরুতে গাছ তোলা ও পরিচর্যা করার সঠিক সময়। খেজুর গাছের চাহিদা ইটভাটায় বেশি কদর হওয়ায় গ্রামের লোকজন অভাবের তাড়নায় গাছগুলো অবলিলায় বিক্রি করে দিচ্ছেন। তাই তুলনামুলকভাবে খেজুর গাছ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় পথে। তাই আগের মতো মাঠ জুড়ে আর দেখা যায় না।
তারপরও উপজেলার গ্রায় গ্রামের মাঠে আর গ্রামীণ মেঠো পথের ধারে কতক গাছ দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে। অতীতে এখানকার খেজুররসের যে সুখ্যাতি ছিল তা এখন ক্রমেই কমে যাচ্ছে। খেজুরের রস শীতের সকালে বসে গ্লাস ভরে খেতে বেশ মজা লাগে। সন্ধ্যা রস আরো মজাদার, বেশ লোভনীয় গুড় ও পাটালী।
কদিন পরেই প্রতিটি ঘরে খেজুরের রস দিয়ে পিঠা পুলি পায়েস তৈরি ধুম পড়বে। মুড়ি, চিড়া, পিঠা খাওয়া কৃষক পরিবার থেকে শুরু করে সবার কাছেই প্রিয়। এসব আশা নিয়ে শীত মৌসুমে গাছ তোলা চাচা কাটানিয়ে গাছীদের বেশ ব্যস্ত সময় পার হয়। উপজেলার প্রায় শতাধিক গাছির সারা বছরের রুজি নির্ভর করে এ পেশার উপর।
এ ব্যাপারে উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের সন্ন্যাসী গ্রামের নজিউল্লা জানান, শীত আসা মাত্রই আমরা খেজুর গাছ তোলার জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লেগেই আছি। খেজুর গাছ অনেক কমে গেছে। আগের মত এখন বেশি রস সংগ্রহ হচ্ছে না। এছাড়াও রস জালাতে যে পরিমান জালানী প্রয়োজন তাও পাওয়া যায় না। তবে যা আছে তা দিয়েই আমার পেশা চালিয়ে যাচ্ছি। এবার আমি প্রায় এক পণ(৮০)গাছ কাটার জন্য ইতি মধ্যে তোলা ও চাচার কাজ শেষ করেছি। বছরে পাঁচ মাস খেজুরগাছ কেটে রস সংগ্রহ করে তা জালিয়ে গুড় বানিয়ে বাজারে বিক্রি করে বেশ আর্থিক সচ্ছলতা পাই।’
নিজেদের প্রয়োজনীয় খাবারের চাহিদা মিটিয়েও বিক্রি করে যে অর্থ পায় তা দিয়ে পুরো বছর চলে। এখনো শীত জেঁকে না বসলেও গাঁছিরা গাছ তোলা চাচ দেয়ার জন্য দা তৈরি, ঠুঙি, দড়ি, ও মাটির কলস (ভাড়) কেনার কাজ সেরে নিচ্ছেন। কিছু দিনের মধ্যে রস সংগ্রহ করা করবেন গাছিরা-তৈরী হঠে গুড়, পাটালী, পিঠা-পায়েস।
বানিজ্যিকভাবে খেজুর গাছের বাগান গড়ে তুললে রস,গুড়,পাটালীর চাহিদা অনেকাংশেই পুরণ হবে। ফিরে আসবে এ এলাকার অতীত গৌরব। সম্ভাবনাময় এ অর্থনৈতিক খাতে সরকারী পৃষ্টপোষকতা আর জনসচেতনতা গড়ে তুলতে এলাকা বাসীর দাবী।
