Skip to content

টিকফা সই হচ্ছে আজ

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বহুপ্রতীক্ষিত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার রূপরেখা চুক্তি (টিকফা) সই হচ্ছে আজ।

ওয়াশিংটন ডিসিতে চুক্তি সইয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। এ উপলক্ষে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমদ যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। ওই দলে শ্রম সচিব মিকাইল সিপার, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক অমিতাভ চক্রবর্তী, উপ-প্রধান (বস্ত্র) রুহুল আমিন, বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মোস্তফা আবিদ খান, পররাষ্ট্র দপ্তরে মহাপরিচালক মাহফুজুর রহমানসহ বেপজা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন করে কর্মকর্তা রয়েছেন। একাধিক কূটনৈতিক সূত্র মতে, দীর্ঘ ১১ বছর ধরে চলা আলোচনার পর দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার ওই চুক্তি সই হচ্ছে।

এতে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য সচিব এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) সমমর্যাদার এক কর্মকর্তা সই করবেন। চুক্তি সইয়ের আনুষ্ঠানিকতার পরপরই টিকফা কাউন্সিলের প্রথম বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিনিধি দলের সদস্যদের আগামীকাল দেশের পথে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। উভয় দেশের জাতীয় আইনকে ক্ষতিগ্রস্ত না করার শর্তে টিকফা’র খসড়া গত ১৭ই জুন মহাজোট সরকারের মন্ত্রিসভা অনুমোদন করে। এর ১০ দিনের মথায় (২৭শে জুন) যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের জিএসপি স্থগিত হয়। চুক্তিটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর থেকেই বাংলাদেশের তরফে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এটি সইয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার তাগিদ দিয়ে আসছিল। তাদের যুক্তি ছিল, টিকফা সই হলে জিএসপি ফিরে পাওয়া সহজ হবে। যদিও একটির সঙ্গে অন্যটির কোন সম্পর্ক নেই সেটি যুক্তরাষ্ট্র খুব স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে।

টিকফা’র খসড়ায় যা আছে: উভয় দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের বন্ধন দৃঢ়, বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার উদ্দেশ্য নিয়ে আজ টিকফা সই হচ্ছে। চুক্তিটির খসড়ায় বলা হয়েছে, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য উভয় পক্ষের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা ও ভাল পরিবেশ তৈরি করা হবে। আলোচনার মধ্য দিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পথে প্রতিবন্ধকতা এবং রক্ষণশীল উপাদানগুলো কমিয়ে আনা হবে।

সমপ্রসারিত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ থেকে উভয়েই লাভবান হবে। এতে আরও বলা হয়েছে, জাতিসংঘের সদস্য হিসেবে উভয় দেশই সংস্থার দুর্নীতিবিরোধী সনদের প্রতি আনুগত্য দেখাবে। বিশেষ করে, সনদের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কিত ধারাগুলো অনুসরণ করবে। দেশীয় এবং বৈদেশিক উভয় ক্ষেত্রেই বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে প্রবৃদ্ধি বাড়ে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাত তথা অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। চুক্তিতে উভয় দেশের সেবা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা দূরীভূত করা; বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আওতায় মেধাস্বত্ব আইন বাস্তবায়ন; আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মূল নীতি মেনে উভয় দেশের শ্রম অধিকার বাস্তবায়ন এবং পরিবেশের সুরক্ষা ও সংরক্ষণ করতে পরিবেশ আইন মেনে চলার কথা বলা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে একটি ফোরাম গঠন করা হবে, যে ফোরাম বছরে কমপক্ষে একবার বৈঠক করবে। বাংলাদেশের পক্ষে এতে প্রতিনিধিত্ব করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে করবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর)।

উভয় দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক পর্যবেক্ষণ করা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা চিহ্নিত করবে ফোরাম। এ ছাড়া উভয় দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বিষয় চিহ্নিত করবে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে তা অপসারণেও পদক্ষেপ নেবে। ক্ষেত্রবিশেষে বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজের পরামর্শ চাইবে ওই ফোরাম।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫