স্টাফ রিপোর্টার ॥ দপ্তরের দায়িত্বে থাকা বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে গ্রেপ্তারের পর থেকে কার্যত দল ও জোটের বক্তব্য তুলে ধরার মতো কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। হরতাল-অবরোধ চলাকালে প্রতিদিন বিকাল চারটায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দিনের পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। কিন্তু আজ শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া ৭২ ঘণ্টা অবরোধের প্রথম দিনে দল বা বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের কোনো সংবাদ সম্মেলন হয়নি। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দায়িত্বশীল কোনো নেতাকেও দেখা যায়নি। দলের বেশির ভাগ শীর্ষ নেতাই আছেন আত্মগোপনে।
তবে দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিবৃতির মাধ্যমে দলের বক্তব্য গণমাধ্যমে তুলে ধরা হবে। আজ ভোরে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা রুহুল কবির রিজভীকে গ্রেপ্তার করে। এরপর দলের আরেক যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদ দলের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে কথা বলেন। কিন্তু দুপুরের পর তাঁকেও আর পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পুলিশ তাঁর খোঁজে তাঁর গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়ায় তল্লাশি চালিয়েছে। দলের মুখপাত্র ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও আত্মগোপনে আছেন। তাঁর ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ফোন করে দলের স্থায়ী কমিটির বেশির ভাগ সদস্যের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
এর আগে গত ৮ নভেম্বর বিএনপির স্থায়ী কমিটির তিন সদস্যসহ পাঁচ নেতাকে গ্রেপ্তারের পরও দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ শীর্ষস্থানীয় বেশির ভাগ নেতা আত্মগোপনে গিয়েছিলেন। তবে সে সময় হরতালের চিত্র তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করে দলের বক্তব্য তুলে ধরতেন রিজভী। তাঁকে গ্রেপ্তার করার পর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আর কোনো নেতাকে যেতে দেখা যায়নি। সকাল থেকে কার্যালয়ে ছিলেন কর্মচারীরা। এর মধ্যে দুপুরে বিএনপিপন্থী পেশাজীবীদের একটি প্রতিনিধিদল বিএনপির কার্যালয় পরিদর্শন করে।
বিকেলে ঢাকা মহানগর বিএনপি এক ই-মেইল বার্তায় ঢাকায় বিভিন্ন স্থানে অবরোধের সমর্থনে মিছিল এবং নেতা-কর্মীদের আটক করার খবর জানিয়েছে। মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা ও সদস্যসচিব এম এ সালাম ওই বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের নির্যাতন ও নিপীড়নের মাধ্যমে নিশ্চিহ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। তাঁরা নেতা-কর্মীদের মুক্তি দাবি করেন।
