স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এরশাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক শেষে রাত ১২টা ১০ মিনিটে প্রেসিডেন্ট পার্ক থেকে বের হন। এ সময় তার গাড়িতে পতাকা ছিল না। ব্যক্তিগত ল্যান্ডক্রুজার গাড়িতে ফ্ল্যাগ স্টান্ড থাকলেও পতাকা ছিল ঢাকা।
দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নির্বাচন বর্জন এবং নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা থেকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের সরে আসার নির্দেশ দেন। উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা ও দিক নির্দেশনা নেয়ার জন্য পার্টির চেয়ারম্যানের বাসায় আসেন মন্ত্রীদের অনেকেই। বুধবার রাত আটটা ৫০ মিনিটে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মজিবুল হক চুন্নু সাংবাদিকদের জানান, পার্টি চেয়ারম্যানের নির্দেশ অনুযায়ী বৃহস্পতিবারই তারা পদত্যাগ করবেন।
তিনি বলেন, “আমাদের দলের চেয়ারম্যান দলের মন্ত্রীদের পদত্যাগ করতে বলেছেন। ফলে তার নির্দেশ অনুযায়ী আমরা আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সকালে পদত্যাগ করবো।”
এদিকে পদত্যাগের আগেই গাড়ি থেকে পতাকা নামিয়ে ফেলেছেন এরশাদের বিশ্বস্ত মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। দীর্ঘ সময় তিনি এরশাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
রাত ১২টা ১০ মিনিটে তিনি প্রেসিডেন্ট পার্ক থেকে বের হয়ে আসেন। এ সময়ে অপেক্ষমান দলীয় নেতা-কর্মীরা এরশাদের নামে নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
এর আগে, বুধবার সন্ধ্যায় এরশাদের বাসভবনে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের জরুরি সভা থেকে দলের সদস্যদের পদত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন এরশদ, মহাসচিব রুহুল আমীন হাওলাদার সহ একাধিক প্রেসিডিয়াম সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, বুধবার দলীয় নেতাদের সঙ্গে এবং পরে ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষে নিজ দলের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের পদত্যাগের নির্দেশ দেন এইচএম এরশাদ। একই সঙ্গে দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারেরও নির্দেশ দেন তিনি।
এরশাদ বলেন, সব দলের অংশগ্রহণ না হলে তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন না এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ না করায় তিনিও নির্বাচন থেকে সরে দাড়িয়েছেন। একই সঙ্গে নির্বাচনকালীন সরকার থেকেও তার দল সরে আসবে। এ জন্য তিনি মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন।
