Skip to content

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৩৩ জন

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী এক হাজার ১০৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৬০ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তারা। অসম্পূর্ণ মনোনয়নপত্র দাখিল, ঋণখেলাপি, বকেয়া বিল, হলফনামায় তথ্য গোপনসহ বিভিন্ন কারণে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ৮৪৭ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় একক প্রার্থী হিসেবে মহাজোট সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রীসহ অন্তত ৩৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।

জাতীয় নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বৃহস্পতি ও শুক্রবার যাচাই-বাছাই করা হয়। এতে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ ১৩টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আগামী রোববার পর্যন্ত আপিল আবেদন করা যাবে। একইসঙ্গে বৈধ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে ওই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কমিশনের কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন। ইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ইসি সূত্র জানায়, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত আসনগুলো হচ্ছে লালমনিরহাট-২, রংপুর-৫, রাজশাহী-১, রাজশাহী-৪, নাটোর-১, ২, ৩, সিরাজগঞ্জ-৩, যশোর-১, বাগেরহাট-১ ও ২, ভোলা-১, পিরোজপুর-১, টাঙ্গাইল-৩, কিশোরগঞ্জ-১ ও ৪, মানিকগঞ্জ-২ ও ৩, গাজীপুর-২, নরসিংদী-৫, ফরিদপুর-১ ও ৩, সিলেট-১, মৌলভীবাজার-৪, কুমিল্লা-৭ ও ১০, চাঁদপুর-১ ও ৩, ফেনী-২, নোয়াখালী-২ ও ৫ এবং চট্টগ্রাম-৭। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৫ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ ২০টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। বিএনপিসহ বিরোধীজোটভুক্ত দলগুলো নির্বাচন বয়কট করে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছে।

যুগান্তর ব্যুরো ও প্রতিনিধিরা জানান-

চাঁদপুর: চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। একমাত্র ও বৈধ প্রার্থী হওয়ায় মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষ দিনে শুক্রবার বিকালে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোঃ ইসমাইল হোসেন তাকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

ভোলা: ভোলা-১ আসনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শিল্প ও গৃহায়ন গণপূর্তমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের প্রতিদ্বন্দ্বী কেউ না থাকায় তিনি এককভাবেই নির্বাচিত হচ্ছেন। শুক্রবার মনোনয়নপত্র বাছাইতে ওই আসনের অপর প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন আজিম গোলদারের মনোনয়নপত্র বাতিল বলে ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার। আজিমের আয়কর রিটার্নের সঙ্গে হলফনামার মিল না থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিলযোগ্য বলে প্রথমে সিদ্ধান্ত দেন উপজেলা রিটার্নিং অফিসার মোঃ কামরুল আরিফ, জেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ জিয়াউর রহমান ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ সফিকুল ইসলাম। এদের লিখিত রিপোর্টের ভিত্তিতে রিটার্নিং অফিসার জেলা প্রশাসক মনোনয়নপত্র বাতিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে ওই আসনে তোফায়েল আহমেদের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে জানালেও প্রত্যাহারের শেষ তারিখ না যেতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার বিষয় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা যাচ্ছে না বলেও সাংবাদিকদের জানান। এদিকে তোফায়েল আহমেদ মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময়ও সব দলের অংশগ্রহণে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন চান বলে জানিয়েছিলেন। জনগণ ভোট দিলে ওই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে বলেও তিনি মনে করেন। এদিকে আওয়ামী লীগ নেতারা মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকার পক্ষে অবস্থান থাকায় জাপা প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার বিষয়ে তারা খুব একটা খুশি হননি। আওয়ামী লীগ সম্পাদক জেলা পরিষদ প্রশাসক আবদুল মমিন টুলু জানান, জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দল নির্বাচনে আসুক এটা তারা প্রথম থেকে চেয়েছেন। এজন্য আজিম গোলদারের মনোনয়নপত্র বাতিল না করার জন্যও তিনি বাছাই হাউসে দাবি জানিয়েছিলেন।

কবিরহাট (নোয়াখালী) : নোয়াখালীর ৬টি সংসদীয় আসনের ১৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে ৭ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

এর মধ্যে নোয়াখালী-৫ আসনে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও নোয়াখালী-২ আসনে মোরশেদ আলম আওয়ামী লীগ থেকে একক প্রার্থী হয়েছেন।

শুক্রবার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান এ ঘোষণা দেন।

কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনের মধ্যে দুটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বিপরীতে প্রার্থী হওয়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাইন বিল্লাহের মনোনয়নপত্র শুক্রবার বাতিল হয়ে যাওয়ায় এ আসনে ভোট নিতে হবে না। একমাত্র বৈধ প্রার্থী হিসেবে সৈয়দ আশরাফই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী রাষ্ট্রপতিপুত্র রেজওয়ান আহমেদ তৌফিক ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেয়নি। ফলে তিনিও এ আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন।

গতকাল কালেক্টরেট সম্মেলন কক্ষে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক এসএম আলম এবং জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আলমের উপস্থিতিতে গত দুই দিনে মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়।

সিলেট: সিলেট-১ (সদর-মহানগর) আসনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) আসনে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহিদ ও সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে সাবেক দফতরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এই তিন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন। আগামী ১৩ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ার পর তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। জাতীয় পার্টি নির্বাচনে না থাকলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। এই আসনে তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির কেন্দ ীয় যুগ্ম মহাসচিব সেলিম উদ্দিন।

ফরিদপুর: ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ফরিদপুর-১ (মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাংগা) আসনের এমপি আবদুর রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। ফরিদপুর-১ ও ফরিদপুর-৩ আসন থেকে জাতীয় পার্টি (জাপা) প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় এ দুই মন্ত্রী-এমপির কপাল খুলতে যাচ্ছে।

নাটোর: নাটোরের চারটি আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর তিনটিতেই রয়েছেন আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী এবং মাত্র একটিতে আওয়ামী লীগসহ দু’জন প্রার্থী। এর মধ্যে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ আবুল কালাম আজাদ, নাটোর-২ (লালপুর-বাগাতিপাড়) আসনে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদ্য সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ শফিকুল ইসলাম শিমুল এবং নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি জুনাইদ আহম্মেদ পলকের বিরুদ্ধে অন্য কোনো প্রার্থী নেই। তারা তিনজনই এখন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে চলেছেন। একমাত্র নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনেই আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে জাসদে প্রার্থী রয়েছেন অধ্যক্ষ মোঃ মোখলেসুর রহমান এলিন।

জয়পুরহাট: জয়পুরহাট-২ (কালাই-ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর উপজেলা) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী আর কোনো প্রার্থী না থাকায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এখন একক প্রার্থী। শুক্রবার যাচাই-বাছাইয়ে ওই আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ও আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক বাবলু ওই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ না করায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। অন্যদিকে শুক্রবার দুপুরে জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনীত প্রার্থী আবুল কাশেম রিপন তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেয়ায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন একক প্রার্থী রয়েছেন।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫