এম. নজরুল ইসলাম আজহার ॥ চিরতরে চলে গেলেন আলহাজ সামসুদ্দিন সরকার। সাপ্তাহিক বাংলাভূমি পত্রিকার চীফ অ্যাডভাইজার ছিলেন তিনি। ডাকতাম দুলাভাই বলে। কিন্তু তিনি ছিলেন আমার পিতার মতো আরেক অভিভাবক। সমাজসেবক এই সদালাপি মিষ্টি ভাষী লোকটির কথায় কেউ রাগ করতেন না। রসিকতা বা মজা করা ছিল তাঁর স্বভাবসুলভ বিষয়। কথা-বার্তা, চালচলন ও পোষাক-আশাকে বহিঃপ্রকাশ পেত তারণ্য ও চিরযৌবনময়তা। যদিও তাঁর বয়স ছিল প্রায় ৮৫ বছর। আমার বয়স যদিও চল্লিশোর্ধ্বÑ তবুও তাঁর তারণ্যের কাছে মনে মনে হার মানতাম।
আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই। চলে গেলেন না ফেরার দেশে। গত ৫ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৯টা কিংবা ১০টার দিকে চৌরাস্তা এলাকার আমার এক বন্ধু প্রথমে সেলফোনের মাধ্যমে সংবাদটি দেন। প্রথমে তেমন প্রতিক্রিয়া হয়নি। পরে আস্তে আস্তে প্রতিক্রিয়া শুরু হলো। আমার শরীর ঘেমে যায়। আমার বুকের ভিতর ক্রমশ ভারী হয়ে আসছে। চোখ ছল ছল করছে। বিভিন্ন স্মৃতি-কথা চোখের সামনে ভেসে উঠছে। আমার স্ত্রীকে আমার ভিতরে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি বললাম না। খুব স্বাভাবিক ভাবে তাঁর মৃত্যুর সংবাদটি জানালাম। পরে প্রথমে অফিসে যাই। দেখা হয় বাংলাভূমি পত্রিকার আরেক উপদেষ্টা আব্দুস সাত্তার খানের সাথে। তিনিও সংবাদটি জানেন। দু’জনে একত্রে বেলা প্রায় ১২টার দিকে ছুটে যাই চান্দনা চৌরাস্তা ভোগড়া এলাকার সামসুদ্দিন সরকারের বাড়িতে। গিয়ে দেখি শত শত সাধারণ মানুষ, আত্মীয়-স্বজন, শুভানুধ্যায়ীদের ভীড়। আলহাজ সামসুদ্দিন সরকারের ছেলে আলহাজ ফয়সাল সরকারের সাথে দেখা হয় সেখানে। ফয়সাল সরকার গত সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। তাঁর কাছ থেকে বিস্তারিত জানলাম। আগের দিন ৪ ডিসেম্বর বুধবার দুপুর ২টায় হযরত শাহজালাল বিমান বন্দর থেকে সাত দিনের সফরে চীন ও তাইওয়ানের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সফরটি ছিল রোটারী ক্লাবের সৌজন্যে। প্রথমে চীন পরে তাইওয়ানে যাবেন। অন্যান্যদের মধ্যে সফর সঙ্গী ছিলেন দু’পুত্র আজাদ সরকার ও রকিব সরকার। বিমান থেকে নেমে চীনের কুমিং শহরে রাত্রী যাপন করেন। সকাল ৮টার (বাংলাদেশ সময়) দিকে হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মৃত্যু বরণ করেন। মৃত্যুর আধাঘণ্টা পর বাংলাদেশে (বাড়িতে) সেলফোনে সংবাদ দেন। মুহূর্তেই চারদিকে নেমে আসে শোকের ছায়া। লাশের অপেক্ষায় সকলেই। তবে লাশ আসতে নাকি কয়েক দিন দেরি হবে। সর্বশেষ সংবাদ নেই গত ৬ ডিসেম্বর শুক্রবার রাত ৭টার দিকে মোতালেব সরকারের কাছ থেকে। তিনি জানান- ‘আগামী মঙ্গল বুধবার ছাড়া লাশ আসছে না’।
মানুষ পরলোক গমন করলে আল্লাহর দরবারে দোয়া ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। আমরা পিতার সমতুল্য অভিভাবক আলহাজ সামসুদ্দিন সরকারের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। তিনি যেন বেহেস্তবাসী হন। পাশাপাশি তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি। তাঁরা যেন এ শোক সইতে পারেন।
একজন অভিভাবক হারালাম
আপডেট :December 7, 2013
0
সম্পর্কিত আরও সংবাদ
সাম্প্রতিক সংবাদ
আর্কাইব
প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার
প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার
ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।
সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫
