স্টাফ রিপোর্টার ॥ ১৮ দলীয় জোট ঘোষিত আগামীকাল মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে ২০ ডিসেম্বর শুক্রবার ভোর ৬টা পর্যন্ত দেশব্যাপী লাগাতার ৭২ ঘণ্টার সর্বাত্মক সড়ক, নৌ ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সফল করার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডা: শফিকুর রহমান।
সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি এই আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা গুলি চালিয়ে জনগণকে হত্যা করা যেতে পারে, কিন্তু জনতার আন্দোলন দমন করা যাবে না। জনতার শক্তি অস্ত্রের শক্তির চাইতেও অনেক শক্তিশালী। জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে অতীতের স্বৈরশাসকদের যেমন পতন ঘটেছিল, এ সরকারকে তার চেয়ে করুণ পরিণতি বরণ করতে হবে। তাই গুলি চালানো বন্ধ করে গণহত্যা থেকে বিরত হোন। যে রক্তপাত আপনারা ঘটিয়েছেন তার প্রতিফোঁটা রক্তের জন্য আপনাদেরকে জনতার আদালতে দাঁড়াতে হবে।
তিনি দেশের সর্বস্তরের জনতাকে সরকারের উস্কানি, জুলুম, নির্যাতনের বিরুদ্ধে চরম ধৈর্য ও সহনশীলতার সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় শান্তিপূর্ণ উপায়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
একইসাথে এই ফ্যাসিস্ট, অগণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারী সরকারের প্রতিহিংসাপরায়ণ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জাতিসঙ্ঘ, দেশী-বিদেশী মানবাধিকার সংস্থা ও বিশ্বসম্প্রদায়কে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, সারাদেশে মন্দির,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান,ঘরবাড়ী ও সম্পত্তির উপর এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বাড়ী, বাস, ট্রাক, রেলগাড়ী ও লঞ্চে সরকারী দলের ক্যাডাররাই পরিকল্পিতভাবে বোমা হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে মানুষ হত্যা করছে। তারা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য জামায়াত ও শিবিরের উপর দোষ চাপিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের ষড়যন্ত্র করছে।
তিনি বলেন, সাতক্ষীরায় যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে জামায়াত-শিবির ও সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করেছে। রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত ৬ জনকে হত্যা করা হয়েছে। গত ৪ দিনে ৪৭ জন লোককে হত্যা করা হয়েছে। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১২ জন মানুষকে হত্যা করা দুনিয়ার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা।
