স্টাফ রিপোর্টার ॥ চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী ২৪ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা। এবার বিদেশিদের অংশগ্রহণ কঠোরভাবে মনিটরিং করবে সরকার। ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে নয়টি দেশের ব্যাপারে কঠোর সর্তকতা অবলম্বন করা হবে।
দেশগুলো হলো, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, আফগানিস্তান, ইরাক, সুদান, সিরিয়া, মিশর, ইয়েমেন ও পাকিস্তান। এসব দেশের কোন স্বার্থান্বেষী মহল ইজতেমার নামে বাংলাদেশে ঢুকে অনাকাঙ্খিত ঘটনার সৃষ্টি করতে পারে, এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে দু’টি গোয়েন্দা সংস্থা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদনও দিয়েছে। এর পরই সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে সর্তক করে চিঠি দেয়া হয়।
সম্প্রতি পাঠানো চিঠিতে ওই নয়টি দেশের নাগরিকদের অধিকতর যাচাই-বাছাই ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষভাবে নিশ্চিত হওয়ার পরই ভিসা দিতে বলা হয়। সংশ্লিষ্ট দেশের কেন্দ্রীয় তাবলীগ মারকাজের সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে ভিসা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ কোন ভ্রমণ সুবিধা ছাড়া সর্বোচ্চ ১৩০ দিনের ভিসা দিতে পারবে।
বিদেশি তাবলীগ জামাতের মেহমানদের ক্যাটাগরিতে ভিসা দেওয়া যাবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। ভিসার শ্রেণী অবশ্যই টিআই (তাবলীগ ইজতিমা) হতে হবে। সাধারণভাবে ৪৫ দিনের ভিসা দেওয়া যাবে। ভিসানীতি ২০০৬ এর ৩০(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, তাবলীগ জামাতে আগমনেচ্ছুক বিদেশি নাগরিকদের অনুকূলে সংশ্লিষ্ট মারকাজের সুপারিশ বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস কর্তৃক ভিসা প্রদান করা যাবে।
এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সি কিউ কে মুশতাক আহমদ বলেন, অনেক সময় ইজতেমার নাম করে নানা মতের মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করে থাকে। আমরা এ বিষয়ে এবার কঠোর মনিটরিং করবো। বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্বার্থন্বেষী মহল সুযোগ নিতেই পারে। তাই বাড়তি সর্তকতার জন্য সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে।
টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে আগামী ২৪ থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমার প্রথমপর্ব। দ্বিতীয়পর্ব ৩১ জানুয়ারি শুরু হয়ে চলবে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এবার ইজতেমায় বিশ্বের প্রায় ১২৫টি দেশের অর্ধলাখ মুসলমান অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
