স্পোর্টস ডেস্ক ॥ ক্রীড়াঙ্গনে অনেক দিন ধরেই পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কটা ভালো যাচ্ছে না। ক্রিকেট দলের পাকিস্তান সফরে রাজি না হওয়ার দেশটির সঙ্গে সম্পর্কে অবনমন শুরু হয়। ওই ইস্যু ধরে বাংলাদেশের প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগ (বিপিএল)-এ কোনও ক্রিকেটারকে ছাড়পত্র দেয়নি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। ঢাকা প্রিমিয়ার লীগেও অনুপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানিরা।
এবার জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির ইস্যুতে বাংলাদেশ-পাকিস্তানে টানাপড়েন আরও স্পষ্ট। তাকে ফাঁসি দেয়াতে নিন্দা প্রস্তাবও পাস হয়েছে পাকিস্তানের সংসদে। বিষয়টি ভালো চোখে দেখেনি বাংলাদেশ সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় এশিয়া কাপ ক্রিকেট ও আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান অংশ না নেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। যদিও এ সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট করে কিছু বলেনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। ক্রিকেটের পর কূটনৈতিক সম্পর্কের রেশ হকিতেও পড়তে পারে।
বাংলাদেশের ঘরোয়া হকিতে বিদেশী খেলোয়াড় সংগ্রহে প্রথমেই আসে পাকিস্তানের নাম। সর্বশেষ লীগে আবাহনী, মোহামেডান, ঊষা ক্রীড়াচক্র ছাড়াও অন্যান্য দলের অধিকাংশ বিদেশী খেলোয়াড় পাকিস্তান থেকেই সংগ্রহ করা হয়েছিল। বয়কটের কারণে আসন্ন লীগে নেই মোহামেডান ও মেরিনার্স। দুই হকি পরাশক্তি আবাহনী ও ঊষার সংগ্রহের তালিকার শীর্ষে ছিল পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা। তবে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের কারণে বিকল্প ভাবছেন ক্লাব দুটির কর্মকর্তারা। দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও অবনতি হলে পাকিস্তানি কোচ নাভিদ আলমকে নিয়ে ভাববে পাকিস্তান হকি ফেডারেশন।
আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু হচ্ছে ক্লাব কাপ হকি। লীগের আগে এ টুর্নামেন্টেই বিদেশীদের পরখ করে নেয়ার সুযোগ পায় ক্লাবগুলো। সে অনুযায়ী ক্লাব কাপের জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে কথাও চূড়ান্ত করেন আবাহনীর কোচ মাহবুব হারুন। তিনি বলেন, আমরা পাকিস্তানি বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথাবার্তা একপ্রকার চূড়ান্ত করে রেখেছিলাম।
আমাদের সিগন্যাল পেলে ঢাকায় আসতো তারা। তবে পাকিস্তানের সঙ্গে দেশের সম্পর্কের কারণে আমরা বিকল্প খেলোয়াড় নিয়ে ভাবছি।’ সাবেক এ তারকা যোগ করেন, ‘আমরা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হলে আমরা হয়তো ভারত থেকে খেলোয়াড় সংগ্রহ করবো।
সে প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে।’ ভারতীয় খেলোয়াড়রা বছরজুড়েই স্থানীয় কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকেন। তাছাড়া জার্মানিসহ ইউরোপিয়ান লীগেও নিয়মিত খেলছেন দেশটির খেলোয়াড়রা। এ অবস্থায় প্রতিবেশী দেশটির নামী তারকাদের প্রিমিয়ার লীগের জন্য আদৌ পাওয়া যাবে কিনা তা পরিষ্কার নয়। পাওয়া গেলেও ভারতীয় খেলোয়াড়দের পেছনে ঢাকার ক্লাবগুলোর ব্যয়ের অঙ্ক বড় হবে- তাতে সন্দেহ নেই। এ সম্পর্কে ঊষা ক্রীড়াচক্রের ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম কামাল বলেন, ‘কেবল খেলোয়াড় নয়, পাকিস্তান থেকে কোচ আনার পরিকল্পনা ছিল আমাদের।
অতীতে আমাদের দল নিয়ে কাজ করা রানা জহিরের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে। দু’দেশের সম্পর্কের অবনতি হলে আমাদের বিকল্প ভাবতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রিমিয়ার লীগের জন্য পাকিস্তানিদের উড়িয়ে আনলেই চলবে না। কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি হলে তাদের নিরাপত্তার বিষয় নিয়েও ভাবতে হবে আমাদের।’ নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহেই ক্লাব হকি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তারপরই টার্ফে গড়াবে প্রিমিয়ার লীগ। এর আগেই বিষয়টির সুরাহা হয়ে যাবে বলে জানান বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক খাজা রহমতউল্লাহ। গতকাল আলাপকালে তিনি বলেন, পাকিস্তানি খেলোয়াড় আনার ব্যাপারে আমাদের কোনও বিধিনিষেধ ছিল না। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমরা গভর্নিং বডির মিটিংয়ে (নির্বাহী কমিটির সভা) বিষয়টি উপস্থাপন করবো।
সেখানেই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে বলে জানান তিনি। এদিকে আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে দেশে বসছে এশিয়া কাপ ক্রিকেট আসর। মার্চ-এপ্রিলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজকও বাংলাদেশ। দুই ক্রিকেট যজ্ঞে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ ইস্যুতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন দেশটির নীতিনির্ধারকরা। এদিকে হকি লীগে পাকিস্তানি খেলোয়াড় সংগ্রহের বিষয়ে কূটনৈতিক সম্পর্কের দিকে তাকিয়ে ক্লাবগুলো। এরই ওপর নির্ভর করছে পাকিস্তানি কোচ নাভিদ আলমকে রাখা না রাখা।
