বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ গুদামজুড়েই চা-পাতা ভর্তি বস্তা। তাতেও সব চা-পাতার ঠাঁই হয়নি। বস্তা রাখা হয়েছে গুদামের বাইরে, কারখানার ভেতরের ফাঁকা জায়গাতেও। যেন কারখানাকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে বস্তার স্তূপ।
মৌলভীবাজার জেলার লংলা ভ্যালির রাজনগর চা-বাগানের কারখানার চিত্র এটি। টানা অবরোধে চট্টগ্রামের নিলামে চা-পাতা পাঠানো পারছে না কর্তৃপক্ষ। তাই বলে তো আর চায়ের উৎপাদন থেমে নেই। সে কারণে বস্তার স্তূপ বেড়েই চলেছে।
এই চা-বাগানটির ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বাগানে প্রচুর চা-পাতা জমে গেছে। কিন্তু তা নিলামকেন্দ্রে পাঠাতে পারছি না। বাইরের ক্রেতারাও আসতে পারছেন না। চা-পাতা বাজারজাত করতে না পেরে গুদামের বাইরে রাখায় এবং একটি বস্তার ওপর আরেকটি বস্তা রাখায় এর গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে। এসব পাতা রি-প্রসেস করতে হতে পারে।’
মৌলভীবাজারের অন্য চা-বাগানগুলোরও একই অবস্থা। চা-বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ চা সংসদ বলছে, সিলেট বিভাগের ১৩৩টি চা-বাগানে এখন প্রায় এক কোটি কেজি চা-পাতা জমেছে। টানা অবরোধে এই চা-পাতা চট্টগ্রামের চায়ের নিলামকেন্দ্রে পাঠানো যায়নি।
চা-বাগানের মালিকেরা বলছেন, এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর হচ্ছে চা-পাতা উৎপাদনের ভরা মৌসুম। এমন কিছু বাগান আছে, যারা প্রতি সপ্তাহে নিলামে অংশ নিয়ে চা-পাতা বিক্রি করেই বাগান পরিচালনা করে। অবরোধে এসব বাগান অর্থসংকটে পড়েছে।
রাজনগর চা-বাগানে দৈনিক প্রায় তিন হাজার কেজি চা-পাতা উৎপাদিত হয়। এ পর্যন্ত এ বাগানে প্রায় ছয় লাখ কেজি চা-পাতা তোলা হয়েছে।
বাগানের ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম জানান, এ বাগানের গুদামে এক লাখ কেজি চা-পাতা রাখা যায়। কিন্তু এখন সেখানে এক লাখ ৭০ হাজার কেজি চা-পাতা জমে গেছে।
লংলা ভ্যালির রাজনগর উপজেলার ইটা চা-বাগানের ৮৮ হাজার কেজি চা-পাতা পড়ে আছে। আটটি গাড়িতে এগুলো বোঝাই করা হলেও তা চট্টগ্রামে পাঠানো যাচ্ছে না। এ বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক মাসুম চৌধুরী বলেন, ‘প্রায় এক মাস হলো আমরা এক গাড়ি চা-পাতাও পাঠাতে পারিনি।’
লংলা ভ্যালির কুলাউড়া উপজেলার লংলা চা-বাগানের ব্যবস্থাপক কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের বাগানে সাত-আটটি গাড়িতে এক লাখ কেজি চা-পাতা আটকে আছে।’
চা সংসদের সিলেট অঞ্চলের চেয়ারম্যান জি এম শিবলী বলেন, ‘উৎপাদিত চা-পাতার ২০ শতাংশ আমরা বিক্রির জন্য নিলামকেন্দ্রে পাঠাতে পারিনি। সিলেট বিভাগের চা-বাগানগুলোতে প্রায় এক কোটি কেজি চা-পাতা আটকে আছে।’
কমলগঞ্জের চৌদ্দটি চা-বাগানের গুদামে এক মাসে ১৪ লাখ কেজি চা-পাতা জমেছে, যার দাম প্রায় ৩০ কোটি টাকা। অনেক বাগানে গুদামের ধারণক্ষমতার চেয়ে মজুত বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বাগানের মালিকেরা। কমলগঞ্জের নন্দরানী চা-বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক শফিউল আলম ও পাত্রকলা চা-বাগানের ব্যবস্থাপক শামছুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে প্রতিটি বাগান থেকেই যেখানে সপ্তাহে দু-তিনটি ট্রাকে চা-পাতা নিলামকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল, সেখানে গত তিন সপ্তাহে একটি চালানও পাঠানো যায়নি।
যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠান ডানকান ব্রাদার্সের মালিকানাধীন চাতলাপুর, শমশেরনগর ও আলীনগর চা-বাগানের প্রতিটিতে তিন সপ্তাহে লক্ষাধিক কেজি করে চা-পাতা উৎপাদিত হয়েছে। এগুলো সব বস্তায় ভরে রাখা হয়েছে।
কয়েকজন চা-বাগান ব্যবস্থাপক জানান, শ্রীমঙ্গলে চায়ের নিলামকেন্দ্র থাকলে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না। অবরোধের মধ্যেও নিলাম চলত।
অবশ্য গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অবরোধ শেষ হওয়ায় এখন চা-পাতাগুলো চট্টগ্রামে নিলামকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
