Skip to content

জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের আত্মপ্রকাশ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জনগণের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে তিন দলের সমন্বয়ে রাজনৈতিক জোট জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) আত্মপ্রকাশ করেছে। বিকল্পধারা বাংলাদেশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) এবং কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সমন্বয়ে গতকাল গঠিত হয়েছে এ নতুন রাজনৈতিক জোট। জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স হলে এ জোটের ঘোষণা দেয়া হয়। জোটের আত্মপ্রকাশের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন।

রাজনৈতিক এ জোটের অন্তর্ভুক্ত তিন দল বিকল্পধারার পক্ষে সাবেক প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) পক্ষে পতাকা উত্তোলক আ স ম আব্দুর রব এবং কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের পক্ষে বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী হাতে হাত রেখে নতুন এ রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশকে জানান দেন। জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন জাসদের সভাপতি আসম আব্দুর রব। সভায় এক তরফা নির্বাচন বাতিলের দাবি জানিয়ে সাধারণ মানুষ, পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে নির্বাচনে সহযোগিতা করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের ডাকা ঢাকা অভিমুখে ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিতে নৈতিক সমর্থন দেয়া হয় এনডিএফের পক্ষ থেকে। একই সঙ্গে এ কর্মসূচি অহিংস রাখার আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে বিকল্পধারার সভাপতি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব বক্তব্য রাখেন। অতিথি হিসেবে বিশিষ্ট নাগরিক কবি আল মাহমুদ, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ড. মাহবুব উল্লাহ, সৈয়দ আবুল মকসুদসহ তিন দলের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

নতুন জোটের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দেশে সুস্থ ও সৃজনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশ, এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেতৃত্বের অবসান ঘটিয়ে যৌথ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাজনীতিতে অর্থবহ পরিবর্তন করা। নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এমন কোনো কর্মসূচি গ্রহণ না করা। এছাড়াও সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট, স্ব শাসিত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গঠনের লক্ষ্যে সংবিধানের আমূল সংস্কার নিশ্চিত করা, পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ থেকে নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিধান করে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সংকটের স্থায়ী সমাধান করা।

এক নাগাড়ে দুই বারের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হতে পারবেন না, কোনো ব্যক্তি এক সঙ্গে সরকার প্রধান ও দলীয় প্রধান থাকতে পারবেন না এ মর্মে বিধান করা, প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা, স্বাধীন শক্তিশালী নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন ও বর্তমান সংশোধিত আরপিও পরিবর্তন করা। এক তরফা নির্বাচন বাতিল ও অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এ জোট কাজ করে যাবে বলে ঘোষণায় বলা হয়। এনডিএফের নীতি ও কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- রাজনীতিতে অর্থবহ ও গুণগত পরিবর্তন, নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনের বিধান নিশ্চিত করা, নির্বাচনের স্থায়ী সমাধানসহ বেশকিছু নীতি ও কর্মসূচি।

জোট গঠনের ঘোষণার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী। জোটে কি আরো কোনো নতুন দলকে দেখা যাবে? এ প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, তিন দল মিলে এ জোট গঠিত হলেও এর দরজা সবার জন্য খোলা। যে কোনো দেশপ্রেমিক, গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল জাতীয় পর্যায়ের দল বা সংগঠন এনডিএফের ঘোষণা ও নীতিমালার সঙ্গে একমত হলে যুক্ত হতে পারবে।

চলমান বিরোধী দলের কর্মসূচিতে এ জোটের সমর্থন থাকবে কি না এর জবাবে তিনি বলেন, তারা যদি সত্যিকার অর্থেই গণতন্ত্রকে রক্ষার জন্য আন্দোলন করে তবে অবশ্যই তাতে আমাদের সমর্থন থাকবে। কিন্তু সংযুক্তি থাকবে না। এ বক্তব্য দলীয় না জোটগত এর জবাবে তিনি বলেন, এটি ৫০ ভাগ জোটের বক্তব্য।

সম্মেলনে কাদের সিদ্দিকী আরো বলেন, বিদ্যমান দুই জোটের বাইরে দেশের মানুষের আশা আকাক্সক্ষা পূরণ করবে আমাদের এই নতুন জোট।

২৯ ডিসেম্বর বিএনপির মার্চ ফর ডেমোক্রেসির প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন আছে। তবে তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সমন্বয় নেই বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, জ্বলন্ত দেশকে জ্বালানোর হাত থেকে রক্ষার জন্য বৃহৎ দুই জোট থেকে সমদূরত্বের জোট গঠন করা হয়েছে। আমরা সাধারণ মানুষের ইচ্ছা-আকাক্সক্ষার ভিত্তিতে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে মানুষের মুক্তির সংগ্রম করতে চাই। আমাদের আন্দোলন বর্তমান অগণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে। পাকিস্তান আমলে আইয়ুব সরকার যেভাবে একতরফা নির্বাচন করেছিল; বর্তমান সরকার তার বশংবদ নিয়ে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সেই একই রমন নির্বাচন করতে চায়। এটা একটা দলের নির্বাচন। এটা নির্বাচন নামের সিলেকশন।

এর মাধ্যমে দেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, সরকার যেভাবে অগ্রসর হচ্ছে এভাবে ৫ বছর ক্ষমতায় থাকলে দেশে কোনো বিরোধী দল থাকবে না। যুগ যুগ ধরে রাজনীতির এ পরিণতি ভোগ করতে হবে। নির্বাচান কমিশনকে সরকারের আজ্ঞাবহ অবিহিত করে তিনি বলেন, এ নির্বাচনকে সারা পৃথিবী বিভিন্ন ভাষায় প্রতিবাদ করছে। দেশে বর্তমান এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে সকলে একতাবদ্ধ হয়ে লড়াই না করলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। অথচ নির্বাচন কমিশন নির্বাচন করিয়েই ছাড়বেন। আসম আবদুর রব বলেন, সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫