স্টাফ রিপোর্টার ॥ জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট পরীক্ষার (জেএসসি) ফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ এর জয়জয়কার। ২৯শে ডিসেম্বর প্রকাশিত হয় এ দু’পরীক্ষার ফল। পরের দিনই প্রকাশিত হয় প্রাথমিক ও এবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষার ফল। এ ফল জেএসসি ও জেডিসির রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করে। কিন্তু রেকর্ডের আড়ালে বড় দু’টি পাবলিক পরীক্ষা থেকে ঝরে পড়েছে প্রায় ৫ লাখ ক্ষুদে শিক্ষার্থী। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, আমরা চাই প্রত্যেকটা শিক্ষার্থীই পাস করুক। ৮টি সাধারণ বোর্ডের অধীনে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছিল ১৯ লাখ ১ হাজার ৯৮১ জন শিক্ষার্থী।
এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮ লাখ ৬২ হাজার ৩৮০ জন। ঝরে পড়ে ৩৯ হাজার ৬০১ জন। আর পাস করে ১৬ লাখ ৭৫ হাজার ১০৯ জন। ফেল করে ১ লাখ ৮৭ হাজার ২৭১ জন। সবমিলে জেএসসিতেই ঝরে পড়ে ২ লাখ ২৬ হাজার ৮৭২ জন। ২৯শে ডিসেম্বর জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। জেএসসিতে পাসের হার ৮৯.৭১ ভাগ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৯৯৭ জন শিক্ষার্থী। অন্যদিকে জেডিসি পরীক্ষার জন্য অন্তর্ভুক্ত হয় ৩ লাখ ১৫ হাজার ৬২০ জন। এরমধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩ লাখ ১৩ হাজার ৬৮০ জন। ঝরে পড়ে ১ হাজার ৯৪০ জন। পরীক্ষায় পাস করে ২ লাখ ৮৫ হাজার ৭৯৬ জন। ফেল করে ২৭ হাজার ৮৮৪ জন। ঝরে পড়া ও ফেল নিয়ে এ সংখ্যা ২৯ হাজার ৮২৪ জন। জেডিসিতে পাসের হার ৯১.১১ ভাগ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৯ হাজার ২১১ জন। বিদেশ কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৪৭৫ জন। পাস করে ৪৬১ জন। ফেল করে ১৪ জন। জেএসসি ও জেডিসিতে ফেল করা ও ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭১০ জন। ৩০শে ডিসেম্বর প্রাথমিক ও এবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়।
প্রাথমিক সমাপনীতে পাসের হার ৯৮.৫৮ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৯৬১ জন। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিতে অন্তর্ভুক্ত হয় ২৬ লাখ ৩৯ হাজার ৪৫ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ২৫ লাখ ১৯ হাজার ৩২ জন। পরীক্ষার আগেই ঝরে পড়ে ১ লাখ ২০ হাজার ১৩ জন। পরীক্ষায় পাস করে ২৪ লাখ ৮৩ হাজার ১৪২ জন। ফেল করে ৩৫ হাজার ৮৯০ জন। ফেলকরা ও অনুপস্থিত শিক্ষার্থী মিলে মোট সংখ্যা ১ লাখ ৫৫ হাজার ৯০৩ জন। অন্যদিকে এবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিতে অন্তর্ভুক্ত হয় ৩ লাখ ২২ হাজার ১৯২ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ লাখ ৭৩ হাজার ৯৭৯ জন। ঝরে পড়ে ৪৮ হাজার ২১৩ জন। পরীক্ষায় পাস করে ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৭২ জন। ফেল করে ১১ হাজার ৫০৭ জন। ফেল ও অনুপস্থিত শিলে এসংখ্যা ৫৯ হাজার ৭২০ জন। প্রাথমিক ও এবতেদায়ি সমাপনীতে ফেল ও অনুপস্থিত মিলে ২ লাখ ১৫ হাজার ৬২৩ জন। জেএসসি-জেডিসি এবং প্রাথমিক ও এবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষায় ফেল ও অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ লাখ ৭২ হাজার ৩৩৩ জন।
প্রশ্নফাঁসে জর্জরিত ছিল এবারের প্রাথমিক-এবতেদায়ি সমাপনী ও জেএসসি-জেডিসির পরীক্ষা। অস্বাভাবিক ফল হওয়ায় অনেকেই মনে করছেন এর ফলে মেধা ধ্বংস হবে। কে মেধাবী আর কে মেধাবী নয় তা বোঝার উপায় থাকবে না। এরপরও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। দারিদ্য, ভীতিকর পরিস্থিতি ঝরে পড়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু বলেন, এবার পরীক্ষার নামে যা হয়েছে তা লজ্জাকর। তারপরও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ায় আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, প্রত্যেক অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক চায় তাদের ছেলেমেয়ে পাস করুক। আমরা সে লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি।
