বিনোদন ডেস্ক ॥ বাংলা চলচ্চিত্রের নায়ক অনন্ত জলিল ছবি আর ছবির বাইরের নানা বিষয় নিয়েই তুমুল আলোচনায় ছিলেন বছরজুড়ে।
২০১৩ সাল কেমন কাটল, জানতে চাইলে অনন্ত বলেন, ‘অনেক ভালো কেটেছে। প্রাপ্তিও অনেক বেশি। ২০১৩ সালে আমার প্রযোজিত, পরিচালিত ও অভিনীত “নিঃস্বার্থ ভালোবাসা” চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেয়েছে এবং চলচ্চিত্রটি অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।’
অনন্ত বলেন, চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর টিকিট নিয়ে সারা বাংলাদেশের প্রতিটি হলে মানুষের ঢল, টিকিট নিয়ে মারামারি—এ সবকিছুই আমার প্রতি আমার দর্শকদের অগাধ ভালোবাসা, যা আমার প্রাপ্তি এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি। চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশংসিত হওয়া, এটাও আমার প্রাপ্তি। ২০১৩ সালে “মোস্ট ওয়েলকাম” ছবিটি যথাযথ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সিনে ওয়ার্ল্ড ইউকেতে মুক্তির মাধ্যমে বিদেশে বাংলা চলচ্চিত্রের রপ্তানির দ্বার খুলে যাওয়াও আমার আরেকটা প্রাপ্তি।’
২০১৪ সালের প্রত্যাশা প্রসঙ্গে অনন্ত বলেন, ‘২০১৪ সালে আমার প্রযোজিত, পরিচালিত ও অভিনীত “মোস্ট ওয়েলকাম ২” চলচ্চিত্রটি মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা আছে। এ ছাড়া আরও ভালো মানের কিছু চলচ্চিত্র নির্মাণেরও পরিকল্পনা আছে।’
‘মোস্ট ওয়েলকাম ২’ প্রসঙ্গে অনন্ত আরও বলেন, ‘২০১৪ সালে মুক্তি পেলে “মোস্ট ওয়েলকাম ২” ছবিটি ২০১৩ সালের “নিঃস্বার্থ ভালোবাসা”কে ছাড়িয়ে যাবে বলেই আমার বিশ্বাস। কারণ, আমি সব সময় চেষ্টা করি দর্শকদের ভিন্ন কিছু উপহার দিতে আর আমি কোয়ালিটি নিয়ে কখনো সমঝোতা করি না।’
অনন্ত জানান, ‘“নিঃস্বার্থ ভালোবাসা”র সঙ্গে “মোস্ট ওয়েলকাম ২” ছবির নির্মাণে অনেক ভ্যারিয়েশন আছে। এখানে অ্যাকশন, রোমান্স, ইমোশন—সবকিছু টোটালি ডিফারেন্ট। “মোস্ট ওয়েলকাম ২” তে দর্শকেরা সুপার স্লো মোশন গান পাবেন, দুইটা থ্রিডি অ্যানিমেশন গানও পাবেন। এ ছবির মাধ্যমে আমি বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে হাইলাইট করতে চাই আরও অনেক বেশি। আমার প্রত্যাশা, তাতে আমি আগের ছবিগুলোর মতো দর্শকদের ভালোবাসা ও সমর্থন পাব।’
‘খোঁজ—দ্য সার্চ’ ছবির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের এ সময়ের আলোচিত নায়ক অনন্তর অভিষেক ঘটে। প্রথম ছবি থেকেই তিনি নানাভাবে আলোচিত। পরবর্তী সময় একে একে ‘হূদয় ভাঙা ঢেউ’, ‘দ্য স্পিড’, ‘মোস্ট ওয়েলকাম’, ‘নিঃস্বার্থ ভালোবাসা’—যা সব দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছে। গত বছরের ঈদুল ফিতরে মুক্তি পায় অনন্ত অভিনীত ও পরিচালিত ‘নিঃস্বার্থ ভালোবাসা’ ছবিটি। অভিনয়ের বাইরে অনন্ত একজন সফল ব্যবসায়ী। সাভারের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডের কাছে সাড়ে ২৮ বিঘা জমির ওপর তৈরি করেছেন এজিআই গ্রুপ। এখানে এখন সাড়ে পাঁচ হাজারের মতো শ্রমিক কাজ করেন। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও অবদানের জন্য অনন্ত দুবার সি আইপি নির্বাচিত হয়েছেন।
