বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ দেবযানী খোবরাগাড়যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গ্রেপ্তারের পর জামিনে থাকা ভারতীয় কূটনীতিক দেবযানী খোবরাগাড়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার অধিকার তাঁর রয়েছে। এ দাবি ভারত সরকারের। টাইমস অব ইন্ডিয়ায় আজ বুধবার প্রকাশিত খবরে এ তথ্য জানানো হয়।
দেবযানীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার বা তাঁকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ক্ষমা চাওয়ার কোনো পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই বলে সংবাদ প্রকাশের পর ভারতের সরকার এ কথা বলেছে।
মার্কিন বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম গতকাল খবর প্রকাশ করে, দেবযানীর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র নমনীয় হবে না। এর পরই সরকারের তরফ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৈয়দ আকবরউদ্দিন জানিয়ে দেন, জাতিসংঘের কর্মকর্তার মর্যাদা থাকায় অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার সুযোগ দেবযানীর আছে।
গৃহকর্মী সংগীতা রিচার্ডের ভিসার আবেদনে তথ্য জালিয়াতি এবং তাঁকে নির্ধারিত হারের চেয়ে কম মজুরি দেওয়ার অভিযোগে গত ১২ ডিসেম্বর ভারতের নিউইয়র্ক কনস্যুলেটের কর্মকর্তা দেবযানীকে তাঁর সন্তানের সামনে হাতকড়া পরিয়ে আটক করা হয়। এরপর তাঁকে বিবস্ত্র করে তল্লাশি ও মাদকাসক্তদের সঙ্গে একই কক্ষে রেখে হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে ভারত। এ নিয়ে সরব হয়ে ওঠে ভারতীয় গণমাধ্যম। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে দেখা দেয় শীতলতা। দেবযানীকে ‘অপমান’ করায় যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে ভারতের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়। ভারতে বসবাসরত মার্কিন কূটনীতিকসহ সংশ্লিষ্টদের সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাহার করে নেওয়াসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয় ভারত। একপর্যায়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি দেবযানীকে গ্রেপ্তারের সময় হয়রানির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করলেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিচার চলবে বলে জানিয়ে দেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষ দেবযানীর বিরুদ্ধে আরও সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করার শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ জানুয়ারি।
বাড়তি কূটনীতিক সুবিধা দিতে ভারত সরকার ঘটনার পর দেবযানীকে জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনে উপদেষ্টা হিসেবে বদলি করে। এই পদ তাঁকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতির সুযোগ দেয় বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৈয়দ আকবরউদ্দিন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘের কর্মকর্তা হিসেবে দেবযানীর যে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার সুযোগ আছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অজানা নয়। সেই সঙ্গে যোগ করলেন, দেবযানী কূটনীতিক ছিলেন, আছেন ও ভবিষ্যতেও থাকবেন। গ্রেপ্তারের সময় দেবযানীর কাছে জানতে চাওয়া হয়নি তিনি অতিরিক্ত কোনো মর্যাদা ভোগ করেন কি না।
দেবযানী বরাবরই তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। উল্টো তিনি গৃহকর্মী সংগীতার বিরুদ্ধে চুরি ও ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ তোলেন।
