বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ জন্মনিয়ন্ত্রণের নির্ভরশীল হাতিয়ারটি হলো ওরাল কন্ট্রাসেপটিভ পিল বা জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি । সেই ষাটের দশক থেকে পিলের ব্যবহার চলছে। ঠিক মতো নেওয়া হলে ৯৯% ক্ষেত্রে পিল প্রেগন্যান্সি আটকায়। পিলে থাকে কৃত্রিম ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন। এই দুই হরমোন প্রতি মাসে ওভারি থেকে ডিম্বাণুর বেরনোকে আটকে দেয়। ফলে প্রেগন্যান্সি আসতে পারে না।
কীভাবে পিল কাজ করে
প্রতি মাসে পিট্যুইটারি গ্ল্যান্ড থেকে এফএসএইচ ও এলএইচ হরমোন বেরোয়। এই দুই হরমোন ওভারিকে উদ্দীপ্ত করে। যার ফলে ওভারি থেকে বেরোয় ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন। আবার এফএসএইচ ডিম্বাণুর ঘর বা ফলিকলকে বড় করে। আর এলএইচ ফলিকল ফাটিয়ে ডিম্বাণুকে মুক্ত করে।
পিলের হরমোন পিট্যুইটারি গ্ল্যান্ডকে বোকা বানায়। আসলে পিলে এই ভাবে হরমোন থাকে, যেন মনে হয় যিনি পিল খাচ্ছেন, তিনি ইতিমধ্যেই প্রেগন্যান্ট! ফলে পিট্যুইটারি থেকে আর হরমোন বেরোয় না। পাশাপাশি ওভারি থেকেও কোনো হরমোন তৈরি হয় না। ওভারি বিশ্রামে চলে যায়। মোদ্দা কথা, পিট্যুইটারি ও ওভারি এই দুই কারাখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এ দিকে এফএসএইচ ও এলএইচ না বেরোনোয় ফলিকল থেকেও ডিম্বাণু বেরোতে পারে না। ফলে প্রেগন্যান্সিও আসতে পারে না। পিল বন্ধ করার পর পিট্যুইটারি ও ওভারি আবার নিজেদের কাজ আগের মতোই শুরু করে দেয়।
বেরোতে না পারলে ডিমের কী হয়
ডিমগুলি ওভারির মধ্যে থেকে যায়। ঠিক যেমন প্রেগন্যান্ট মহিলাদের ক্ষেত্রে হয়। তবে জন্মের পর থেকে মেনোপজ হওয়া অবধি সব সময়ই ওভারির মধ্যে কিছু না কিছু ডিম্বাণু নষ্ট হতেই থাকে।
পিরিয়ড এবং পিল
বেশির ভাগ পিলই ২১ দিন নেওয়ার পর ৭ দিন বন্ধ রাখতে হয়। এই বন্ধ রাখার ফলে হরমোনের মাত্রা পরিবর্তিত হয়ে আবার স্বাভাবিক মেনস্ট্রুয়াল সাইকলের শেষের দিকের মতো হয়ে যায়। যার ফলে ইউটেরাসের গায়ে পাতলা আস্তরণ খসে পড়ে। সেটাই পিরিয়ড হয়ে বেরিয়ে আসে। তবে তা স্বাভাবিক পিরিয়ডের তুলনায় অনেক কম।
যদি পিল খাওয়া বন্ধ করে দেখেন যে পিরিয়ড হলো না, তাতেও ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আসলে ইউটেরাসের গায়ে লাইনিং কখনো এত কম তৈরি হয় যে ব্লিডিং হয় না। তাই বলে এটা ভাববেন না যেন খারাপ রক্ত শরীরের ভেতরে থেকে গেল। আসলে বেরনোর মতো রক্ত তৈরিই হয়নি। তাই বেরোয়নি। কারো কারো ক্ষেত্রে আবার উল্টো ঘটনা ঘটে। পিল খাচ্ছেন, সে সময়ই ব্লিডিং শুরু হয়ে গেল। একে বলে ব্রেক-থ্রু ব্লিডিং। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটা ঠিক হয়ে যায়। যদি না ঠিক হয় তবে অবশ্যই আপনার ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলবেন।
পিল ১% ক্ষেত্রে কাজ করে না
পিল খেতে ভুলে যাওয়ার জন্যই এমনটা হয়। যদি ১ বছর ধরে ১০০ জন মহিলা পিল খান, দেখা গেছে তার মধ্যে একজনের প্রেগন্যান্সি চলে আসতে পারে। তাই অবাঞ্ছিত প্রেগন্যান্সি না চাইলে প্রতি দিন নিয়ম করে নির্দিষ্ট সময়ে পিল খেয়ে যেতে হবে। কোনো এক দিন রাতে পিল খেতে ভুলে গেলে পরের দিন দুটি খেয়ে নিতে হবে। একটি সকালে ও একটি রাতে।
পিল কি অস্বাভাবিক?
সব শেষে বলি, পিল খাওয়া নিয়ে অনেকের মনে আতঙ্ক আছে। অনেকেরই ধারণা, প্রতি মাসে পিরিয়ড হওয়াটা স্বাভাবিক। সেটা আটকে দিলে, শরীরের ওপর তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়বে। এটা ঠিক নয়। পিল দিয়ে মেনস্ট্রুয়াল সাইকল আটকে দেওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। কন্ট্রাসেপশন আসার আগেও এই ঘটনা ঘটত। প্রেগন্যান্সির সময় ও বাচ্চা জন্মানোর পর ব্রেস্ট ফিডিংয়ের সময় মেনস্ট্রুয়াল সাইকল আটকে যায় প্রকৃতির নিয়মেই। তবে সব কিছুরই নিয়ম আছে। যেমন যাঁরা সিগারেট খান, তাঁদের ক্ষেত্রে কিন্তু পিল মারাত্মক হতে পারে। পিলও কারা, কী মাত্রায় খেতে পারবেন, তারও নিয়ম আছে। সেটা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকই বলতে পারবেন।
