Skip to content

সরকারের নিয়ন্ত্রণে গ্রামীণের সহযোগী প্রতিষ্ঠানও চলবে

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ গ্রামীণ ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চাইছে সরকার। তবে ওই নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ থাকবে না। বরং গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমেই সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

যদিও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠান ইউনূস সেন্টার থেকে বলা হয়েছে গ্রামীণ নামধারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানার কোনো সম্পর্ক নেই। এগুলো স্বাধীন স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারি দফতরে নিবন্ধিত। তারপরও সরকার তা বিশ্বাস করছে না। সরকার মনে করছে সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমেই গড়ে উঠেছে। আর এ ধরনের মনোভাব থেকেই গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে সরকার।

সূত্র জানায়, পরোক্ষ এই নিয়ন্ত্রণ আরোপের ব্যাপারে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি মতামত দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মতামত ও সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে সরকারকে পরামর্শও দিয়েছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রক ওই সংস্থাটি। গত ২৪ ডিসেম্বর ওই মতামতটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো হয়। এর আগে সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপারে সরকার গঠিত রিভিও কমিটি গতবছর যে সুপারিশ দিয়েছিল মূলত সেসব ব্যাপারে মতামত জানানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

মতামতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, এখন থেকে গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে যেসব প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি হয়েছে তাদের কার্যক্রম ও অগ্রগতি সম্পর্কে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন নিয়মিতভাবে প্রতিবছর গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালকমণ্ডলীর সভায় অবগতির জন্য পেশ করতে হবে। ভবিষ্যতে গ্রামীণ ব্যাংক যেসব প্রতিষ্ঠানের বেলায় অন্য কোনো ব্যাংক বা অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে জামিনদার হবে তাদের বার্ষিক হিসাব বোর্ডে উপস্থাপনের সময় অডিট রিপোর্টে লিখিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করে বার্ষিক হিসাবসহ পরিচালকমণ্ডলীর সভায় পেশ করতে হবে। এ ছাড়া গ্রামীণ ব্যাংকের যেসব সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের মধ্যে পরিচালকদের গ্যারান্টি দ্বারা সীমাবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালকদের শেয়ার দ্বারা সীমাবদ্ধ করার ব্যাপারে মতামত দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, গ্রামীণ ব্যাংকের গ্যারান্টির বিপরীতে ওই ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে গৃহীত ঋণের দায় যত দ্রুত সম্ভব পরিশোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ধরনের গ্যারান্টির বিপরীতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণগ্রহণ গ্রামীণ ব্যাংকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রতিষ্ঠানটির আইনি কাঠামোর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলেও মতামতে উল্লেখ করা হয়।

প্রসঙ্গত, সরকারি হিসাবে গ্রামীণ ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫৪টি। সেগুলো হচ্ছে- গ্রামীণ ফান্ড, গ্রামীণ ব্যবসা সেবা লিমিটেড, গ্রামীণ বাইটেক লিমিটেড, গ্রামীণ সাইবারনেট লি., গ্রামীণ নিটওয়্যার লি., গ্রামীণ ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লি., গ্রামীণ সলিউশন, গ্রামীণ আইটি পার্ক, গ্রামীণ ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস, টিউলিপ ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস, গ্লোব কিডস ডিজিটাল, গ্রামীণ ইনফরমেশন হাইওয়ে, গ্রামীণ স্টার এডুকেশন, রফিক অটোভ্যান ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রিজ, গ্রামীণ উদ্যোগ, গ্রামীণ শিক্ষা, গ্রামীণ সামগ্রী, গ্রামীণ কল্যাণ, গ্রামীণ ব্যবসা বিকাশ, গ্রামীণ ডানন ফুডস, গ্রামীণ হেলথ কেয়ার সার্ভিস, গ্রামীণ টেলিকম, গ্রামীণ ডিস্ট্রিবিউশন, গ্রামীণ ফেব্রিক্স অ্যান্ড ফ্যাশনস, গ্রামীণ কৃষি ফাউন্ডেশন, গ্রামীণ সামগ্রী পূর্বাঞ্চল, গ্রামীণ সামগ্রী উত্তরাঞ্চল, প্যাকেজেস করপোরেশন, গ্রামীণফোন, গ্রামীণ হেলথ কেয়ার ট্রাস্ট, গ্রামীণ টেলকম ট্রাস্ট, গণস্বাস্থ্য গ্রামীণ টেঙ্টাইল মিলস, বিএএসএফ গ্রামীণ, গ্রামীণ ভিউলিয়া ওয়াটার, গ্রামীণ মৎস্য ও পশু সম্পদ ফাউন্ডেশন, গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস, গ্রামীণ ইউকুগুনি মুইতাকি লি. নোবেল লরিয়েট ট্রাস্ট, গ্রামীণ ট্রাস্ট, গ্রামীণ ক্রেডিট এগ্রিকোল, গ্রামীণ কমিউনিকেশন, গ্রামীণ ইন্টেল সোশ্যাল বিজনেস, ইউনূস সেন্টার ট্রাস্ট, গ্রামীণ আমেরিকা ইনকর্পোরেটেড, গ্রামীণ টেকনোলজি ল্যাব, গ্রামীণ ক্যালেডোনিয়ান নার্সিং কলেজ, গ্রামীণ শক্তি সামাজিক ব্যবসা লি.।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫