স্টাফ রিপোর্টার ॥ সারাদেশে শুরু হয়েছে হাম-রুবেলা ভাইরাস প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি। এই কর্মসূচির আওতায় ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত দেশের ৫ কোটি ২০ লাখ শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা দেয়া হবে।
শনিবার সকাল থেকে সরকারি উদ্যোগে এই টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। তবে আগামীকাল রবিবার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহত্তম এই টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
এই টিকাদান কর্মসূচি চলবে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত । যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুরা লেখাপড়া করে সেসব প্রতিষ্ঠানই টিকাদান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হবে।
এর আগে বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনকালে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, এতো বেশিসংখ্যক শিশুকে একযোগে একটি কর্মসূচির আওতায় টিকা দেয়া হয়নি। এ ছাড়াও এবারই প্রথম ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত ছেলে ও মেয়ে শিশু এই টিকা পাবে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারের খরচ হচ্ছে ৫১২ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
জানা গেছে, ২০০৬ সালে ক্যাচ আপ ক্যাম্পেইনের আওতায় ৯ মাস থেকে ১০ বছর বয়স পর্যন্ত সাড়ে ৩ কোটি শিশুকে হামের টিকা দেয়া হয়। ২০১০ সালে টিকা দেয়া হয়েছিল ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে।
প্রসঙ্গত, হাম একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ। যেকোনো বয়সে হাম হতে পারে। তবে শিশুদের মধ্যে এর প্রকোপ, জটিলতা ও মৃত্যু বেশি। জটিলতাগুলোর মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি, এনকেফেলাটিস, অন্ধত্ব, বধিরতা অন্যতম। অন্যদিকে রুবেলাও ভাইরাসজনিত রোগ। গর্ভধারণের তিন মাসের সময় রুবেলা ভাইরাস আক্রমণ করলে ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে মা থেকে গর্ভের শিশু আক্রান্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে গর্ভপাত এমনকি গর্ভের শিশুর মৃত্যুও হতে পারে। শিশুর হৃদযন্ত্রে ছিদ্র হতে পারে, শিশু অন্ধও হতে পারে।
বাংলাদেশে প্রতি ১০ লাখে ২ হাজার ৯৭৯ জন রুবেলায় আক্রান্ত হয়। রুবেলা নিয়ে কোনো শিশু যাতে জন্ম না নেয়, এ জন্য গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে সরকার বিনামূল্যে রুবেলা টিকা দিতে শুরু করে।
