বাংলাভ’মি২৪ ডেস্ক ॥ ২০১৩ সালে সারা বিশ্বে মোট ২১ কোটি ৭১ লাখ ট্যাবলেট বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে বছরের শেষ প্রান্তিকেই (অক্টোবর-ডিসেম্বর) বিক্রি হয়েছে ৭ কোটি ৬৯ লাখ ট্যাবলেট। যা এর আগের প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) চেয়ে ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি এবং আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশন (আইডিসি) তাদের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করে। খবর বিবিসির।
বিশ্বজুড়ে মোবাইল ডিভাইসের বাজার ক্রমাগত বাড়ছে। স্মার্টফোন এ বাজারের বেশির ভাগ দখল করে রাখলেও ট্যাবলেটের বাজার ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গত বছর বড়দিনকে কেন্দ্র করে আগের বছরের তুলনায় অধিক পরিমাণ ট্যাবলেট বিক্রি হয়েছে।
একসময় ছিল যখন সবাই ডেস্কটপ কম্পিউটারের ওপরই নির্ভরশীল ছিলেন। এরপর বাজারে এল ল্যাপটপ। ল্যাপটপ বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ভালো জনপ্রিয়তা পায়। কিন্তু স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট আসার পর পার্সোনাল কম্পিউটার ও ল্যাপটপ বাজার হারাতে থাকে। এ কারণে সাম্প্রতিক সময়ে ইন্টেলের মতো শীর্ষস্থানীয় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানও কম্পিউটার চিপ নির্মাণের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি এখন চিপ নির্মাণের পাশাপাশি অন্যান্য সেবা প্রদানেরও দিকেও ঝুঁকছে বলে মন্তব্য করেন বিশ্লেষকরা।
বিভিন্ন সুবিধার কথা চিন্তা করলে স্মার্টফোনের চেয়েও অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে ট্যাবলেট। মোবাইল ডিভাইসগুলো ই-কমার্সের প্রসারে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। কিন্তু গ্রাহকরা অনলাইনে পণ্য কিনতে গেলে স্মার্টফোনের চেয়ে ট্যাবলেটকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে জানায় আইডিসি।
অনলাইনে কোনো পণ্য কিনতে গেলে পণ্য সম্পর্কে তার ছবি থেকেই প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। স্মার্টফোনের চেয়ে পর্দার আকার বড় হওয়ায় এ খাতে ট্যাবলেটের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে বড়দিনের মতো উত্সবগুলোর ট্যাবলেটের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানায় আইডিসি।
ট্যাবলেট নির্মাতাদের মধ্যে অ্যাপল, স্যামসাং, অ্যামাজন, আসুস ও লেনোভো এগিয়ে রয়েছে। গত বছরের শেষ প্রান্তিকে ট্যাবলেট বিক্রিতে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে মোট ২ কোটি ৬০ লাখ ট্যাবলেট সরবরাহ করে। এর আগের প্রান্তিকেই প্রতিষ্ঠানটির সরবরাহ করা ট্যাবলেটের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪১ লাখ। ২০১২ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে মোট ২ কোটি ২৯ লাখ ট্যাবলেট সরবরাহ করেছিল।
এ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরীয় ইলেকট্রনিকস পণ্য নির্মাতা স্যামসাং। গত প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি মোট ১ কোটি ৪৫ লাখ ট্যাবলেট সরবরাহ করে। এ সময় ট্যাবলেটের বাজারে প্রতিষ্ঠানটির দখল ছিল ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ।
এছাড়া এ তালিকার শীর্ষ পাঁচে রয়েছে অ্যামাজন, আসুস ও লেনোভো। গত বছরের শেষ প্রান্তিকে অ্যামাজন সরবরাহ করে মোট ৫৮ লাখ ট্যাবলেট। আসুস ও লেনোভা সরবরাহ করে ৩৯ ও ৩৪ লাখ ট্যাবলেট। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মিলিতভাবে মোট ২ কোটি ৩৩ লাখ ট্যাবলেট বিক্রি করে, যা ঠিক আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ কোটি ৯৫ লাখ বেশি।
এদিকে অপারেটিং সিস্টেমগুলোর মধ্যে ট্যাবলেটের বাজারে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে গুগলের তৈরি অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমটি। বিশ্বজুড়ে বর্তমানে অনেক ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, যারা স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটের মতো মোবাইল ডিভাইস সরবরাহ করছে। এর মধ্যে চীনেই সর্বাধিক নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। চীনের এ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় সবগুলোই অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমচালিত মোবাইল ডিভাইস তৈরি করছে। এদিকে স্যামসাংয়ের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানও তাদের বেশির ভাগ মোবাইল পণ্যে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহার করছে।
উল্লেখ্য, গুগল অ্যান্ড্রয়েডের নির্মাতা হলেও বিশ্বজুড়ে অ্যান্ড্রয়েড দিয়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবসা করছে স্যামসাং। বিশ্লেষকদের মতে সহজ ব্যবহার ও বিভিন্ন রকমের অ্যাপ ব্যবহারের সুবিধা থাকায় গ্রাহকদের কাছে এ অপারেটিং সিস্টেম ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে।
এসব ইতিবাচক দিকের কারণেই গত বছর বিশ্বজুড়ে মোট ট্যাবলেট সরবরাহ দাঁড়িয়েছে ২১ কোটি ৭১ লাখে। যেখানে ২০১২ সালে বিশ্বজুড়ে মোট ১৪ কোটি ৪২ লাখ ট্যাবলেট বিক্রি হয়েছিল। এর ফলে ২০১২ সালের তুলনায় ২০১৩ সালে এসে ট্যাবলেট সরবরাহের হার ৫০ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মতো স্থিতিশীল বাজারগুলোয় এ ধরনের পণ্য বিক্রি খুব বেশি বাড়ছে না। উদীয়মান বাজারের গ্রাহকরাই ট্যাবলেট ও স্মার্টফোনের মতো মোবাইল ডিভাইসের মূল ক্রেতা। এ ধরনের বাজারের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে এসব পণ্যের বিক্রি আরো বাড়বে বলে মন্তব্য করেন বিশ্লেষকরা।
