Skip to content

উপজেলা নির্বাচন বিজয় নিশ্চিত করতে আ.লীগের সাংগঠনিক সফর

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো উপজেলা নির্বাচনেও বিজয় নিশ্চিত করতে মরিয়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে নানামুখী তৎপরতাও শুরু করেছে দলটি। সাত বিভাগের জন্য সাতটি সাংগঠনিক কমিটির সদস্যরা শুরু করেছেন জেলা-উপজেলা সফর। কেন্দ্রীয় তৎপরতা বৃদ্ধিই এসব সফরের মূল উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দলের ঢাকা বিভাগীয় প্রধান সমন্বয়ক ও সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন।

রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বে প্রধান হিসেবে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও সমন্বয়ক হিসেবে রয়েছেন আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। সাংগঠনিক সফর নিয়ে জানতে চাইলে আবু সাঈদ জানান, সাংগঠনিক সফরের মধ্যে দিয়ে উপজেলা নির্বাচনে একক প্রার্থী নির্বাচন ও দলীয় কর্মকাণ্ডের তদারকি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সিংড়া, নাটোর, মোহনপুর, জয়পুরহাটের কালায়, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া, ধুপচাচিয়া, আটঘড়িয়া, সাথিয়াসহ ৪০টি উপজেলার মধ্যে ১৫টিতে একক প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছে। বাকিগুলোও দ্রুত সম্পন্ন হবে।

এবারের উপজেলা নির্বাচনে একক প্রার্থী নির্বাচনের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচন নির্দলীয় দাবি করা হলেও মূলত জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয় দলীয়ভাবে। উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ের কোনো বিকল্প নেই। তাই কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বে প্রধান হিসেবে রয়েছেন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী। সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করছেন খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। সাংগঠনিক সফরের বিষয়ে খালিদ মাহমুদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন তো ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগ। আমরা কাজ করছি, টিম মিটিং হয়েছে। এটা চলমান প্রক্রিয়া। সংক্ষিপ্ত সফর নয়। পরবর্তী কাউন্সিল পর্যন্ত এই সফর চলতে থাকবে।’
উপজেলা নির্বাচন এ সফরের আসল উদ্দেশ্য নয় বলেও দাবি করেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।

বরিশাল বিভাগের প্রধান হিসেবে রয়েছেন দলটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও সমন্বয়ক হিসেবে রয়েছেন আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারির পূর্বেই একক প্রার্থী নির্বাচনের সব জটিলতা সমাধান হয়ে যাবে।’

সিলেট বিভাগের প্রধান হিসেবে আছেন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সমন্বয়ক হিসেবে আছেন মিজবাহ উদ্দিন সিরাজ। মিজবাহ উদ্দিন সিরাজ জানান, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজারসহ সকল জেলায় যাতে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী নির্বাচিত হয়ে আসতে পারে সেই লক্ষ্যে কাজ করছেন তিনি।

খুলনা বিভাগের প্রধান হিসেবে রয়েছেন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। এ বিভাগে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন বি এম মোজাম্মেল হক। সফরের বিষয়ে মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমাদের কাজ দশ দিন আগে থেকেই শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ জায়গায় প্রার্থী নিশ্চিত হয়ে গেছে।’

চট্টগ্রাম বিভাগের প্রধান হিসেবে রয়েছেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন বীর বাহাদুর উ শৈ সিং। বীর বাহাদুর বলেন, ‘এখনো কোনো কাজ করা হয়নি।’ কারণ হিসেবে জানান, এই কমিটির প্রধান ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ অসুস্থ থাকায় দলগতভাবে কাজ শুরু হয়নি। তবে শনিবার থেকে কাজ শুরু করেছি।

এদিকে ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের ঐক্য বজায় রাখা সম্ভব হলেও উপজেলা নির্বাচনে তা রাখা যাবে কি না এমন সন্দেহ দেখা গেছে সংগঠনের জেলা-উপজেলা ও তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মীর মাঝে।

তবে এমন আশঙ্কার কথা উড়িয়ে দিচ্ছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। তাদের ভাষ্য, পরিস্থিতি অতটা আশঙ্কাজনক নয়। আমরা আশান্বিত। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়ে তৃনমূল নেতাকর্মীদের কাছে ইতোমধ্যে চিঠি পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

এ কারণেই জেলা-উপজেলায় একক প্রার্থী নির্বাচিত হবে বলেও জানান তারা।

স্থানীয় সংসদ সদস্যরা আশা প্রকাশ করে বলছেন, দলের সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী দলের একক প্রার্থী নির্বাচিত করার জন্য আমরা কাজ করছি। কোথাও একাধিক প্রার্থী থাকলে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতার নিয়ে আসা হবে। এরমধ্যে যার অবস্থান ভালো তার পক্ষেই কাজ করা হবে বলে।

স্থানীয়রা বলছেন, উপজেলা বা স্থানীয় নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া অনেক কঠিন। তাই আগে থেকেই মনোনীত প্রার্থী ঠিক করে রাখা সম্ভব নয়। তাই দলগতভাবে নির্বাচন করা অনেক কষ্টসাধ্য। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি আওয়ামী লীগ সভাপতির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ কয়েকজন নেতা বলছেন, কাগজে-কলমে এটি নির্দলীয় নির্বাচন হলেও প্রার্থী চূড়ান্ত হচ্ছে দলীয় বিবেচনায়। তবে এটি ছেড়ে দেয়া হয়েছে তৃণমূল নেতাদের ওপর।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ায় কোথাও কোনো প্রার্থীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হয়নি স্বীকার করে নিয়ে এ নেতারা বলেন, উপজেলা নির্বাচনে বিএনপিসহ ১৯ দলের শরিকরা অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে আওয়ামী লীগকে অনেকটা শঙ্কায় ফেলেছে। এ উপজেলা নির্বাচন এখন মর্যাদার লড়াই হিসেবে পরিণত হয়েছে।

গত ২৮ জানুয়রি আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে উপজেলা নির্বাচন প্রসঙ্গে সাংসদদের বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচনে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে একক প্রার্থী নিশ্চিত করবেন। নিজের পছন্দের বা পকেটের নয়।’

তৃণমূলের নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে প্রত্যেক উপজেলায় একক প্রার্থী নিশ্চিত এবং দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য ভূমিকা পালন করতেও নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে দেন।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫