জেলা প্রতিনিধি, ফেনী ॥ শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ফেনীর বৃহত্তম স্বর্ণ দোকান আবেদীন জুয়েলার্স থেকে প্রায় ১০০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় ফেনী শহরের ট্রাংক রোডে এ ঘটনা ঘটে। এসময় পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ভয়ে আতঙ্কে দিকবিদিক ছুটাছুটি শুরু করে লোকজন।
এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মিয়ার বাজার এলাকা থেকে মাইক্রোবাসসহ দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল ও ১৫টি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, সন্ধ্যা পৌনে ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত ফেনী প্রেসক্লাবের সামনে টানা শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। পরে আবেদীন জুয়েলার্স থেকে প্রায় ১০০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী আবুল খায়ের জানান, মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণে ফেনী প্রেস ক্লাবসহ আশ-পাশের এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। মানুষ দিকবিদিক ছুটাছুটি করতে থাকে। কিছুক্ষণ পর শোনা যায় আবেদীন জুয়েলার্সে লুটপাট হয়েছে।
আবেদীন জুয়েলার্সের সত্ত্বাধিকারী জয়নাল আবেদীন বিস্তারিত কিছু জানাতে না পারলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন শতভরি স্বর্ণ লুট হয়েছে। তবে পরিমাণ আরো বাড়তে পারে।
ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল হক বাংলামেইলকে জানান, ৮ থেকে ১০ মুখোশধারী সন্ধ্যার দিকে ট্রাংক রোডের খাজা আহম্মদ গলিতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক ছড়ায়। পরে তারা আবেদীন জুয়েলার্সে ভাঙচুর করে শোকেসে থাকা স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে যায়। আশপাশ থেকে অবিস্ফোরিত অন্তত ১০টি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে স্বর্ণ উদ্ধারের দাবিতে জেলা জুয়েলারি ব্যবসায়ী সমিতি আগামীকাল রোববার জেলায় ধর্মঘট ডেকেছে। সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হোসেন ধর্মঘট সফল করতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত বুধবার শহরের ন্যাশনাল জুয়েলার্স থেকে ৩ কোটি টাকার স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
