বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অধ্যয়ন বিভাগে ‘অতিরিক্ত টাকা’ নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির প্রতিবাদে কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে ধর্মঘট করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম ছাত্র সংগঠনগুলো।
সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হলেও তার আগেই প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা ওই দুই অনুষদে এসে তালা ঝুলিয়ে দেয়। সকাল থেকে কয়েক দফায় মিছিল শেষে কলা ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ শুরু করে তারা।
সামজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে চালু হওয়া নতুন এই বিভাগে অন্যান্য বিভাগের তুলনায় তিনগুনেরও বেশি ‘টিউশন ফি’ নির্ধারণের প্রতিবাদে গত রোববার এই ধর্মঘটের ডাক দেয় প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলো।
চলতি শিক্ষাবর্ষে(২০১৩-১৪) এই বিভাগে প্রথমবারের মতো স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম চলছে।
একই অনুষদের অন্যান্য বিভাগে স্নাতক পর্যায়ে পড়ালেখার জন্য যেখানে চার বছরে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাগে, সেখানে নতুন এই বিভাগে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে মোট এক লাখ ৩৭ হাজার টাকা।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, “এতো বড় অংকের বেতন নেয়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিবিরুদ্ধ। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও যদি এতো টাকা দিয়ে পড়তে হয়, তাহলে নিম্নমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্তরা উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে।”
টাকার এই অংক আগে জানানো হয়নি অভিযোগ করে এ বিভাগে সদ্য ভর্তি হওয়া আরিফুর রেজা চয়ন বলেন, “যাদের পরিবারের সমার্থ্য আছে তারা হয়তো পড়তে পারবে। কিন্তু অনেকে ভর্তির যোগ্য হলেও এতো বেশি টাকা লাগবে বলে এ বিভাগে আসতে পারবে না।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, “সিদ্ধান্তটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করে নেওয়ায় ঠিক আছে বলেই মনে হয়।”
একই অনুষদে দুই রকম টিউশন ফি থাকা উচিৎ কি-না জানতে চাইলে উপাচার্য বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
শফিউল আলাম বলেন, “আমি আগেই বলেছি আমাদের বিভাগে ব্যবহারিক ক্লাস বেশি, এ কারণে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেশি অর্থ নিতে হচ্ছে। তবে তা যে কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আট ভাগেরও কম।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দ না থাকায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেশি টাকা নিতে হচ্ছে মন্তব্য করে শফিউল আলম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বল্প বাজেট থেকে আমাদের টাকা দিতে গেলে অন্য বিভাগকেও দিতে হবে, যা বহন করা সম্ভব নয়।”
ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখার সভাপতি মারুফ বিল্লাহ তন্ময় মনে করেন, একই মান বজায় রেখে বিভাগ চালানোর সামর্থ্য যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাই থাকে, তাহলে এ বিভাগ চালু করাই ঠিক হয়নি।
এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ২০ বছর মেয়াদী নীতিমালাকে দায়ী করেন তিনি, যেখানে ধীরে ধীরে নিজস্ব আয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার কথা বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান এ কে আজাদ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্ত্যব্য করতে রাজি হননি।
স্নাতকোত্তর কোর্স চালুর মধ্য দিয়ে ২০১২ সালে যাত্রা শুরু করে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অধ্যয়ন বিভাগ। এবারই প্রথম ৩০টি আসন নিয়ে এ বিভাগে স্নাতক কোর্স চালু হচ্ছে।
তবে এ বিভাগে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী বাছাইয়ে আলাদা কোনো পরীক্ষা নেয়া হয়নি। মানবিকের ‘খ’ ইউনিট ও সমন্বিত ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকা স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন।
সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকোর্স চালু ও ফি বাড়ানোর প্রতিবাদে কয়েকটি ছাত্র সংগঠন আন্দোলনে নামলে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী তাতে যোগ দেন। আন্দোলনের এক পর্যায়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ।
ছাত্রলীগরা নেতাকর্মীরাও আন্দোলনরতদের ওপর হামলা চালায়, যাতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। এরপর অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেয়া হয়।(বিডিনিউজ)
