স্টাফ রিপোর্টার ॥ গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে প্রতিটি জেলায় টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার তৈরির (টিটিসি) কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে বিসিক আয়োজিত ‘বিসিকের অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘টিটিসির মধ্য দিয়ে দক্ষ কারিগর তৈরি করা হবে। তাহলে দক্ষ জনবল বিদেশে পাঠানো সহজ হবে। এর মধ্য দিয়ে দেশের রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পাবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘পাকিস্তান আমলে এদেশে কোনো কলকারখানা ছিল না। অর্থনীতির গতি বাড়ে এমন কোনো কার্যক্রম সেসময় ছিল না। এরপর গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করার জন্য সরকার বিধবা ভাতা, পরিত্যাক্তা ভাতা চালু করেছে। পাশাপাশি গ্রামের বেকার যুবকদের জন্য ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা হয়েছে।’
গোলটেবিল বৈঠকে অর্থপ্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘সব সেক্টরেই কালের পরিক্রমায় উঠানামা থাক। তবে তাতে থেমে গেলে চলবে না। সব সমস্যাকে কাটিয়ে উঠে আবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে। আমরা বাঙালি জাতির সার্বিক বিকাশ চাই। শুধু অর্থে নয় চিন্তায়ও বিকাশ চাই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা নতুন প্রজন্মকে নিয়ে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। সময় এসেছে কুটির শিল্পকে সামনে নিয়ে আসার। একে আড়াল করে রাখা উচিত নয়।’
এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘সুযোগ পেলে আমাদের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের কারিগররা হেলিকপ্টার বানাতে পারবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের কৃষিখাতে বিপ্লব ঘটেছে। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পেও এ ধরনের বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। রাজনৈতিক অস্থিরতায় গার্মেন্টস শিল্পগুলো নানা ধরনের প্রণোদনা পায়। কিন্তু আমার জানামতে আজ পর্যন্ত কোনো ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মালিক কোনো ধরনের প্রণোদনা পায়নি।’
উল্লেখ্য, বর্তমানে বিসিকের বাস্তবায়িত শিল্পনগরীগুলোতে বিভিন্ন খাতে প্রায় ৪ হাজার দুইশরও বেশি শিল্প ইউনিট উৎপাদনরত রয়েছে। এসব শিল্প ইউনিটে প্রায় পাঁচ লাখ চার হাজার লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। শুধুমাত্র গত ২০১২-১৩ অর্থবছরেই এসব শিল্পনগরীর শিল্প কারখানাগুলোতে ৩৬ হাজার ৯৭ কোটি টাকার পণ্য সামগ্রী উৎপাদিত হয়েছে। এসব পণ্যের ৫৮ শতাংশ রফতানিযোগ্য।
