Skip to content

ব্র্যান্ডের নামে বিক্রি হচ্ছে নিম্নমানের চাল

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ মিল মালিকরা বস্তায় চাল ভরে বিভিন্ন নাম দিয়ে বাজারজাত করছেন। গুণ-মানে ভালো হওয়ায় কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের ওই চালের চাহিদা বেশি, ব্র্যান্ড হিসেবেও তা পরিচিত হয়ে উঠেছে। এসব চালের দামও কিছুটা বেশি। এ সুযোগই কাজে লাগাচ্ছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। বস্তা নকল করে তারা নিম্নমানের চাল বিক্রি করছেন। ফলে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতা।

ব্যবসায়ীরা জানান, ব্র্যান্ডেড চাল বিক্রি ক্রমেই বাড়ছে। এসব ব্র্যান্ডের মধ্যে রশিদ, সাগর, উত্সরব, এরফান, রজনীগন্ধা, আকবর, হক, মোজাম্মেল, সিরাজ, দাদা, জোয়ারদার প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। সাধারণ মানের তুলনায় এসব চালের দাম কিছুটা বেশি। প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) ব্র্যান্ডেড মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। অন্যদিকে সাধারণ মানের একই পরিমাণ মিনিকেটের দাম ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, বেশি লাভের আশায় ছোট মিলগুলো ব্র্যান্ডেড বস্তা নকল করে সাধারণ মানের চাল বাজারজাত করছে। এছাড়া খুচরা পর্যায়েও ভালো মানের চাল বিক্রি করে খালি বস্তায় ভরা হচ্ছে নকল চাল। বিভিন্ন দোকান থেকেও খালি বস্তা সংগ্রহ করছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা।

মিল মালিকরা জানান, ব্র্যান্ডেড চাল নকল হওয়ায় ক্রেতার আস্থা নষ্ট হচ্ছে। ফলে তাদের চাল বিক্রি কমার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রতারণা রোধে বর্তমানে চালের বস্তার মুখে কার্ড লাগানো হয়েছে। আবার বস্তার ভেতরেও কোম্পানির কার্ড দেয়া হচ্ছে, যাতে চাল একাধিকবার বস্তাজাত না হয়। অনেকে আবার খুচরা বিক্রি বন্ধে ছোট বস্তায় চাল বাজারজাত করছেন।

কুষ্টিয়ার রশিদ অ্যাগ্রো ফুডের স্বত্বাধিকারী আবদুর রশিদ বলেন, ‘অসাধুদের হাত থেকে ব্র্যান্ড বাঁচানো দুষ্কর হয়ে পড়েছে। আমাদের বস্তায় টোকেন লাগানো হয়েছে। তার পরও নকল হচ্ছে। খুচরা পর্যায়ে প্রতারণা বন্ধে ৫ থেকে ২০ কেজি চালের বস্তা বাজারে আনার পরিকল্পনা করছি।’

বাংলাদেশ রাইস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, ব্র্যান্ডেড কোম্পানির বস্তায় নিম্নমানের চাল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর অভিযোগ রয়েছে। দুই বছর আগে বাজারে ‘উত্সব’ ব্র্যান্ডের কাছে প্রথম এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়। বর্তমানে মিল মালিক ও ব্যবসায়ীরা এ ধরনের অভিযোগ অহরহই করছেন।

রামপুরার চাল ব্যবসায়ী মালেক হোসেন দুই সপ্তাহ আগে কারওয়ান বাজার থেকে সাগর ব্র্যান্ডের আট বস্তা চাল কেনেন। তিনি বলেন, ‘খুচরা বিক্রির জন্য বস্তা কাটার পর দেখা যায়, আগের তুলনায় এ চাল নিম্নমানের। পরে আড়ত থেকে তা বদল করে এনেছি।’

বাবুবাজারের এসবি রাইস এজেন্সির মনির হোসেন বলেন, বর্তমানে ক্রেতারা সুপার শপে কেনাকাটায় অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন। ওই সব স্টোরে চাল প্যাকেটজাত অবস্থায় থাকে। ফলে পরখ করে নেয়ার সুযোগ কম। ক্রেতাদের অনেকেই সচেতন নন। ফলে চালের বাজারে প্রতারণা বাড়ছে।

চালের বাজার এখন অসাধু ব্যবসায়ীদের দখলে উল্লেখ করে বাংলাদেশ রাইস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপাতি কাওসার আলম বলেন, এ বিষয়ে একাধিকবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। প্রশাসনিক সহযোগিতা ও জনসচেতনতা ছাড়া এসব প্রতারণা বন্ধ করা সম্ভব নয়।বণিকবার্তা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫