স্পোর্টস ডেস্ক ॥ তারকা খেলোয়াড়দের নামের ভার, ইতিহাস ও ঐতিহ্য– সবখানেই শ্রেয়তর ছিল এসি মিলান। সেই তুলনায় অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে বলা চলে ‘কাচা বয়সের তরুণ’। কিন্তু খেলাটা যখন ফুটবল তখন এসব পূর্বানুমান খাটে না। তাই মঙ্গলবারের ময়দানি লড়াইয়ে এসি মিলানের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ডিয়াগো কস্তার অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদই। এদিন স্প্যানিশ দলটি ৪-১ গোলে জয় তুলে নিয়েছে। দুই লেগ মিলে জয়ের ব্যবধানটা ৫-১ গোলের।
১৭ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে ১৯৯৭ সালের পর আবারো চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ আটে নাম লিখিয়েছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। মারিও বালোতেল্লি-কাকা-রবিনহোদের কাঁদিয়ে ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতাটির পরের রাউন্ডে নাম লিখিয়েছে দিয়াগো কস্তা-আরদা তুরানরা। অবশ্য ঘরের মাঠে সুবিধাজনক অবস্থায় থেকে খেলা শুরু করেছিল অ্যাটলেটিকো। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম পর্বে ইতালিতে গিয়ে মিলানকে ১-০ গোলে হারিয়ে আসায় ড্র করলেই চলত স্প্যানিশ দলটির। সেক্ষেত্রে অ্যাওয়ে গোলের সুবিধা নিয়ে পরের রাউন্ডের টিকিট পেত তারা। কিন্তু স্বস্তির বানে গা ভাসায়নটি দিয়াগো সিমিওনের ছাত্ররা। বরং আক্রমণাত্মক মানসিকতায় মিলানকে নিয়ে ছেলেখেলা খেলেছে, বাঁজিয়ে দিয়েছে তাদের বিদায় ঘণ্টা।
ম্যাচের আয়ু তখন তিন মিনিট। সম্ভবত ভিসেন্ত ক্যালেদন স্টেডিয়ামের দর্শকরা তখনো ঠিকভাবে সিটেই বসতে পারেননি। কিন্তু তখনই স্বাগতিক সমর্থকদের আনন্দের উপলক্ষ এনে দেন দিয়াগো কস্তা। কোকের হাওয়ায় ভাসানো বল দারুণ ক্ষিপ্রতায় মিলানের জালে জড়িয়ে দেন স্প্যানিশ এই ফরোয়ার্ড। অনেকটা উড়ে গিয়ে, শরীর কসরতকারীদের মতো লক্ষ্যভেদ করেন ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত এই অ্যাটাকার। ২৭ মিনিটে জোরালো এক হেডারে এই গোলটি শোধ দেয় মিলান। যখন দলটির অধিনায়ক কাকা গোল করেন। কিন্তু এই গোলটি যেন মৌঁচাকে ঢিল ছুঁড়ে দেয়! তেতে ওঠে অ্যাটলেটিকো। এরপর গুণেগুণে আরো তিনটি গোল দেয় মাদ্রিদের দলটি। যাতে ৪-১ গোলের বড় পরাজয় হয় মিলানের। অ্যাটলেটিকোর পরের তিনটি গোল করেন আরদা তুরান, রাউল গার্সিয়া ও দিয়াগো কস্তা। খেলার ৪০, ৭১ ও ৮৫ মিনিটে গোল করেন তারা।
দিনের অন্য ম্যাচে বায়ার্ন মিউনিখ ও আর্সেনাল ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। তাতে প্রথম লেগে ইংল্যান্ডে গিয়ে ২-০ গোলে জয়কে পুঁজি করে ৩-১ গোলের অগ্রগামীতায় পরের রাউন্ড নিশ্চিত করে চ্যাম্পিয়নস লিগের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। এদিন আলিয়াঞ্জ অ্যারেনার ম্যাচটিতে বায়ার্নের পক্ষে গোল করেন বাস্তিয়ান শোয়েনস্টেইগার। আর আর্সেনালের পক্ষে লুকাস পোডলস্কি।
