Skip to content

আওয়ামী লীগকে ৫০ লাখ টাকা দান করেছেন এমপি বদি

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ কক্সবাজারের বহুল আলোচিত আওয়ামী লীগদলীয় এমপি আবদুর রহমান বদি নিজ দলের তহবিলে ৫০ লাখ টাকা দান করার কথা উল্লেখ করেছেন জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে। তবে এর বিপরীতে কোনো রসিদ নেওয়া হয়নি বলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দেওয়া ওই বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরেই ওই টাকা দিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেছেন। তিনি আয়কর নথিতেও এ টাকা দান করার কথা উল্লেখ করেছেন। দুদকের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছেন, অবৈধ সম্পদ বৈধ করতেই ওই টাকা দান দেখিয়েছেন তিনি। যদিও তিনি কমিশনে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে প্রায় শতকোটি টাকা গোপন করেছেন।

দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. আহসান আলী বলেন, ‘এমপি বদির সম্পদ বিবরণী কমিশনে জমা হয়েছে। আমাদের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত ও ওনার জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীর তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। অসংগতি পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

দুদকের প্রধান কার্যালয়ে গত বৃহস্পতিবার নিজে উপস্থিত হয়ে এমপি বদি নিজের ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের বিবরণ পেশ করেন। এর মধ্যে স্ত্রী শাহীনা আকতার, মেয়ে সামিয়া রহমান সামী, ছেলে আবদুল্লাহ আরমান শাওনের নামে সম্পদের হিসাব উল্লেখ করা হয়। বিবরণীতে বলা হয়, মেসার্স রহমান এজেন্সি, মেসার্স সামিয়া এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স শাওন এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি ব্যবসা পরিচালনা করে তিনি বৈধ উপায়ে ওই সম্পদ অর্জন করেছেন। সম্পদ বিবরণীতে স্ত্রী শাহীনা আকতারের নামে পাঁচ লাখ টাকার হিসাব দেখানো হয়। নিজের নামে মেসার্স রহমান এজেন্সি, মেয়ে সামিয়া রহমান সামীর নামে মেসার্স সামিয়া এন্টারপ্রাইজ ও ছেলে আবদুল্লাহ আরমান শাওনের নামে মেসার্স শাওন এন্টারপ্রাইজের মালিকানা উল্লেখ করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘ইয়াবা ব্যবসা এবং চাঁদাবাজিসহ অবৈধ উপায়ে যে সম্পদের পাহাড় এমপি বদি গড়ে তুলেছেন, তার চার ভাগের এক ভাগও সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখ করেননি। তাঁর প্রায় শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে। ওই অবৈধ সম্পদের বেশ কিছুর তথ্য-প্রমাণ দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। তিনি আরো বলেন,‘ অবৈধ সম্পদকে বৈধ করতেই তিনি আওয়ামী লীগের তহবিলে ৫০ লাখ টাকা দান করেছেন। ওই টাকার উৎস কোথায়, দলীয় তহবিলে টাকা জমা দেওয়ার রসিদও সম্পদ বিবরণীর সঙ্গে তিনি জমা দেননি। তবে ২০১৩-১৪ সালের আয়কর নথিতেও এই টাকার কথা উল্লেখ করেছেন।

দুদক সূত্র জানায়, জীবনে প্রথম এমপি হয়ে কয়েক শ কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন কক্সবাজারের আবদুর রহমান বদি। চাঁদাবাজি আর ইয়াবা ব্যবসা করে দুবাইয়ে প্রায় শতকোটি মূল্যের তিনটি স্বর্ণের দোকান, একাধিক গাড়ি-বাড়ি, পাঁচটি ফ্ল্যাট, বহুতল শপিং মল, প্রায় দুই শ একর জমি এবং তিনটি জাহাজ, একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। দুদক সূত্র আরো জানায়, ১৫ কোটি টাকায় নির্মিত এমপি বদির রয়েছে তিনটি জাহাজ। তিনটি জাহাজই টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন পর্যন্ত চলাচল করে। কক্সবাজারের সার্কিট হাউস রোডেই রয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকায় নির্মিত ১২ তলা ভবন। কক্সবাজার শহরেই স্ত্রীর নামে রয়েছে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের ছয়তলা আলিশান বাড়ি। রাজধানীর বারিধারা, উত্তরায় রয়েছে পাঁচটি ফ্ল্যাট। গত পাঁচ বছরে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ও হালিশহরে ছোট বোন শামসুন্নাহারের নামে দুটি বাড়ি করেছেন এমপি বদি। শুধু তা-ই নয়, টেকনাফ, উখিয়া, ইনানী, বাহারছড়া ও সেন্ট মার্টিন এলাকায় এমপি বদি, তাঁর স্ত্রী, বোন ও ভাইদের নামে প্রায় দুই শ একর জমি রয়েছে। কক্সবাজারে কলাতলীতে একটি রেস্টহাউসের মালিকও তিনি। এমপি বদির সম্পদ অনুসন্ধান করতে গিয়ে এমনই তথ্য পান অনুসন্ধান কর্মকর্তা। এমন তথ্যসংবলিত অনুসন্ধান প্রতিবেদন কমিশনে জমাও দিয়েছেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা।

তবে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে এমপি আবদুর রহমান বদির মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি। সম্প্রতি দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি কোনো বেআইনি কারবারে জড়িত নই। মাদক কিংবা চাঁদাবাজির কোনো প্রমাণ দেখাতে পারবে না। আমি যা কিছু করেছি তা বৈধভাবে করেছি। কিছু মিডিয়া, যারা ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তারা প্রশাসন থেকে ফায়দা নেওয়ার জন্য আমার নাম ব্যবহার করছে।’

গত ১২ জানুয়ারি থেকে কক্সবাজার-৪ আসনের এমপি বদিসহ সাবেক ও বর্তমান সাতজন এমপি-মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে দুদক। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ইতিমধ্যে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বদিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে বদির আয় বেড়েছে ৩৫১ গুণ। গত পাঁচ বছরে আয় করেছেন ৩৬ কোটি ৯৬ লাখ ৯৯ হাজার ৪০ টাকা। বার্ষিক আয় সাত কোটি ৩৯ লাখ ৩৯ হাজার ৮০৮ টাকা ও বার্ষিক ব্যয় দুই কোটি ৮১ লাখ ২৯ হাজার ৯২৮ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। (কালেরকন্ঠ)

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫