জেলা প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম ॥ কেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপারে সীল মারা এবং ভোট দানে বাধা দান গুলিবর্ষণসহ নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেও চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাশঁখালিতে জামায়াতের বিজয় ঠেকাতে পারেনি শাসক দল আওয়ামী’লীগ। এ দুটি উপজেলায় বিএনপি ও আওয়ামী’লীগের সঙ্গে লড়াই করে বিশাল ভোটের ব্যবধানে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানসহ তিনটি পদেই জামায়াত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।
সাতকানিয়াতে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে কারাগারে আটক জামায়াত নেতা জসিম উদ্দিন (মোটরসাইকেল) পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৫০০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী’লীগ সমর্থিত প্রার্থী নুরুল আবছার চৌধুরী (কাপ-পিরিচ) পেয়েছেন ৪২ হাজার ৪০০ ভোট। বিএনপি’র দক্ষিণ জেলার সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আনারস প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৬ হাজার ২৪৪ ভোট।
ভাইস চেয়ারম্যান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদেও জামায়াত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। তারা হলেন, মোহাম্মদ ইব্রাহিম চৌধুরী (টিউবওয়েল) ও অধ্যক্ষ দুরদানা ইয়াছমিন (কলস)।
এদিকে বাঁশখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম (আনারস) হয়েছেন। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদেও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করেন।
উপজেলার মোট ১১০টি কেন্দ্রের মধ্যে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা জহিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৩৪২ ভোট বিজয়ী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী আওয়ামী’লীগের প্রার্থী মো. খোরশেদ আলম (দোয়াত-কলম) পেয়েছেন ৫২ হাজার ৮৯০ ভোট।
উপজেলা রিটার্নিং অফিসার সর্বশেষ ৩৫টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করার পর বাকি কেন্দ্রের ফল ঘোষণা বন্ধ রাখলেও বিভিন্ন সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা গেছে।
এ দিকে উপজেলা রিটার্নিং অফিসার সর্বশেষ ৩৫টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করার পর সরকার দলীয় সমর্থকদের চাপে ফলাফল ঘোষণা বন্ধ রেখেছেন বলে অভিযোগ করেছে জামায়াত প্রার্থীরা।
জামায়াত প্রার্থীদের অভিযোগ, সব পদে আওয়ামী’লীগের প্রার্থীদের ভরাডুবি দেখে আওয়ামী’লীগের সন্ত্রাসীরা রিটার্নিং অফিসারকে ফলাফল ঘোষণা করতে দিচ্ছে না। দলের সশস্ত্র ক্যাডাররা পুরো উপজেলা সদর এলাকা দখল করে রেখে ওই এলাকায় কাউকে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।
রাতে ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে থাকায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। উপজেলা সদর এলাকায় যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।
এদিকে রোববার চতুর্থ দফায় চট্টগ্রামে সাতটি উপজেলায় নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। বাকি পাঁচটি উপজেলায় সরকার সমর্থক প্রার্থীরা জিতেছেন। এবারের নির্বাচনে বিএনপি একটিও পায়নি।
