বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অবকাঠামো ঘাটতি পূরণে ২০২০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে ৭৪০ থেকে এক হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন। অন্যভাবে বললে, প্রতিবছর মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১০ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ ব্যয় করতে হবে অবকাঠামো উন্নয়নে।
আবার এই অবকাঠামোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যাতায়াত খাতেই বছরে ৩৬০ থেকে ৫৪০ কোটি ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন, যা মোট বিনিয়োগের অর্ধেকের বেশি। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের পরই টাকার অঙ্কে বাংলাদেশকে বেশি বিনিয়োগ করতে হবে।
গতকাল বুধবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘অবকাঠামো ঘাটতি কমিয়ে দারিদ্র্য হ্রাস’ শিরোনামের প্রতিবেদনে এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রকাশ উপলক্ষে রাজধানীর গুলশানের ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রতিবেদনে ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এসব দেশে কী পরিমাণ বিনিয়োগ প্রয়োজন, তার হিসাব দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের জন্য পাঁচটি উপখাত চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে যাতায়াত তথা সড়ক ও রেল অবকাঠামোকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। মোট বিনিয়োগের প্রায় অর্ধেক এই খাতে বিনিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। অন্য খাতগুলো হলো বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ, সেচ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জনগণ কেমন অবকাঠামো সুবিধা পায়, তার একটি চিত্রও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি ১০০ জনে ৫৮ জন মুঠোফোন কিংবা ল্যান্ডফোন সুবিধা পায়। আর বাংলাদেশের ৪৭ শতাংশ জনগোষ্ঠী বিদ্যুৎ-সুবিধার আওতায় এসেছে। উন্নত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার সুবিধা পায় ৫৫ শতাংশ জনগোষ্ঠী। আর ৮৩ শতাংশ জনগণের কাছে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।
তবে সড়ক সুবিধার হিসাব দিতে গিয়ে বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশের প্রতি এক হাজার ব্যক্তির জন্য ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ৯ দশমিক ৭ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে প্রতি এক হাজার ভুটানবাসীর জন্য। ভারতীয় নাগরিকেরা এই হিসাবে সুবিধা পায় সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়ক।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ১৯৯০-২০১২ সাল পর্যন্ত পানি সরবরাহ ও পয়োব্যবস্থাপনা, যাতায়াত, জ্বালানি ও টেলিযোগ—এই চারটি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ চিত্র প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
এতে দেখা গেছে, আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশে শুধু টেলিযোগাযোগ ও জ্বালানি খাতেই বেসরকারি বিনিয়োগ হয়েছে। এর মধ্যে টেলিযোগাযোগ খাতে ১৬৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগ হয়েছে। আর জ্বালানি খাতে মাত্র ২০ লাখ ডলার বিনিয়োগ হয়েছে। তবে বেসরকারি বিনিয়োগের আলোচ্য চারটি খাতেই বেসরকারি খাত থেকে ভারতে মোট ৩০ হাজার ৬৩২ কোটি ডলার বিনিয়োগ এসেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ব্যাপক অবকাঠামো ঘাটতি রয়েছে। এই অঞ্চলের দারিদ্র্য বিমোচন ও কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য ২০২০ সাল পর্যন্ত দুই লাখ ছয় হাজার ৪০০ কোটি ডলার প্রয়োজন। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ভারতের। এই দেশটির দরকার এক লাখ ৭২ হাজার ৬০০ কোটি ডলার।
দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের মধ্যে বৈষম্যরোধে পরিবার ও ব্যক্তি পর্যায়ে অবকাঠামো সুবিধা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এ জন্য অবকাঠামো খাতে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আর সমৃদ্ধি অর্জনই নীতিকৌশলের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে।
এদিকে প্রতিবেদনটি প্রকাশ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, নেপাল ও পাকিস্তানের গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের আয়োজন করা হয়। এতে প্রতিবেদনের সহ-লেখক ও বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়ার টেকসই উন্নয়নবিষয়ক অর্থনীতিবিদ লুইস আন্দ্রে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় দ্রুত দারিদ্র্য বিমোচন ও প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে। কিন্তু এখনো কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে না। নগরায়ণের গতিও শ্লথ। এ ছাড়া ব্যাপক অবকাঠামো ঘাটতি রয়েছে। এগুলো ভবিষ্যতের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। ওএম
বেঙ্গলিনিউজটোয়েন্টিফোর.কম
