Skip to content

গণজাগরণ মঞ্চে বিরোধের নেপথ্যে

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
: গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যে মঞ্চের ঘোষিত কর্মসূচির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলেন, এর পেছনে বরাবরই দুই ধরনের স্বার্থ কাজ করেছে। আর এই স্বার্থের বিষয়টিকে ঘিরে মঞ্চসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও সবসময়েই দুটো ভিন্ন ভাগে বিভক্ত ছিলেন।

গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে গণজাগরণ মঞ্চের জন্ম হওয়ার পরে পেরিয়ে গেছে এক বছরেরও কিছু বেশি সময়। কিন্তু গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িত বিভিন্ন দলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বন্দ্ব ও কোন্দল সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে।

মঞ্চের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িতদের দাবি- মঞ্চের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণে তারা বরাবরই দুটো প্রধান ভাগে বিভক্ত ছিলেন।

জন্মলগ্নে মঞ্চের একদিকে ছিলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সদস্য ও নেতা-কর্মীরা। গণজাগরণ মঞ্চের শুরু থেকেই, আরো সঠিক করে বলতে গেলে প্রথম দিন থেকেই, এর উপর পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য সক্রিয়ভাবে চেষ্টা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। বিভিন্ন উপলক্ষকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ বরাবরই সাহায্য পেয়ে এসেছে জাসদ ছাত্রলীগ-ছাত্রমৈত্রী-ছাত্র আন্দোলনসহ আরো বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের। আর এগুলোর অভিভাবক সংগঠন হলো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের বাইরে যে বামপন্থী সংগঠনগুলো রয়েছে- ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফ্রন্ট, ছাত্র ফেডারেশন, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী, ছাত্র ঐক্য ফোরাম ইত্যাদি সংগঠনও জোটবদ্ধ হয়ে মঞ্চের ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছিল।

ফলে প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই মঞ্চের কর্মসূচি, আন্দোলনের সময়কাল এবং নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে বরাবরই মঞ্চসংশ্লিষ্টদের মধ্যে মতভেদ ছিল এবং আছে।

ছাত্রলীগ নেতৃত্বাধীন অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলো বারবার অন্য সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে যে তারা ছাত্রলীগসংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীদের ক্ষতিসাধন করার চেষ্টা করছে। এছাড়াও সংগঠনের তহবিল নিয়ে কোনো স্বচ্ছতা না থাকা ও মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী আচরণের অভিযোগও রয়েছে।

বিভিন্ন অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন উপলক্ষকে কেন্দ্র করে গণজাগরণ মঞ্চ যেকোনো কর্মসূচিকে সামনে রেখে মঞ্চসংশ্লিষ্ট এবং মূলত ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ঠ কিছু বাণিজ্যিক সংস্থা, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান পেয়ে এসেছে।

মঞ্চের সঙ্গে জড়িত দ্বিতীয় গ্রুপ অর্থাৎ বামপন্থী অংশের নেতারা সবসময় বলে এসেছেন- যখনই বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে মঞ্চ আওয়াজ তুলতে শুরু করেছিল তখন থেকেই শাসকদলের কাছে সংগঠনটি ক্রমাগত নুইয়ে পড়তেও শুরু করেছিল। শুরু থেকেই শাসকদল আওয়ামী লীগ সংগঠনটিকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে ফেলার চেষ্টা করেছিল এবং এই উদ্দেশ্য পূরণের কাজে নিজেদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে তারা বিশেষভাবে ব্যবহার করেছে।

গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে ঘনিষ্ঠরা বিশ্বাস করেন, যতটুকু প্রয়োজন ছিল তার থেকেও অনেক বেশি পরিসরে এবং বেশি সময় ধরে শাহবাগ আন্দোলনকে বিস্তৃত করা হয়েছিল।

তারা জানান- শাহবাগ আন্দোলনের মূল দাবি হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধনের মাধ্যমে যখন যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হলো, তখনই মঞ্চের কর্মসূচিতে একটি বিরতি আসা উচিত ছিল। তারপর প্রয়োজন অনুসারে আন্দোলন কার্যক্রমকে পর্যায়ক্রমে এগিয়ে নেয়া যেতে পারতো।

তারা আরো জানান- মঞ্চের সঙ্গে জড়িত শীর্ষ ব্যক্তিদের দূরদর্শিতার অভাবও মঞ্চের কার্যক্রম উল্টোদিকে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ যার জন্য শুরু থেকেই ধীরে ধীরে সাধারণ জনগণের সমর্থন হারাতে শুরু করেছিল গণজাগরণ মঞ্চ। এ সময় তারা মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের বরাত দিয়ে বলেন, আন্দোলনের সময়কাল ও পরিসর অযথা না বাড়ানো যে কতটা প্রয়োজন তা সঠিক সময়ে উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি।

সূত্র জানায়, রংপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ইমরান এইচ সরকার তার ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। শোনা যায়, মঞ্চের নেতৃত্ব ইমরানের হাতে তুলে দেয়ার কাজটি বেশ গুছিয়েই করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। কারণ দলের প্রতি বরাবরই অত্যন্ত অনুগত ছিলেন তিনি। আর মঞ্চের উত্থানকালে অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলো ইমরানকে মেনে নিয়েছিল। কারণ তাদের ধারণা ছিল একটি নতুন মুখ নেতৃত্বে এলে তা লক্ষ্য অর্জনের জন্য সহায়ক হবে।

গণজাগরণ মঞ্চ এবং ছাত্রলীগের মধ্যে প্রথম দ্বন্দ্ব দেখা যায় আন্দোলন চলাকালীন সময়ে স্লোগান দেয়াকে কেন্দ্র করে। মঞ্চের দাবি ছিল- নিরপেক্ষ আন্দোলন হিসেবে এর মূল স্লোগান হবে ‘জয় বাংলা, জয় জনতা’। আর সে সময় মঞ্চের সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ঠ হয়ে কাজ করার প্রচেষ্টায় ব্যস্ত ছাত্রলীগের দাবি ছিল- মূলত আওয়ামী লীগের স্লোগান হিসেবেই খ্যাত ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানটিই হবে গণজাগরণ মঞ্চেরও স্লোগান।

পরবর্তী সময়ে আবারো আরেকটি বিষয়কে সামনে রেখে ছাত্রলীগ ও ছাত্রলীগবিরোধী সংগঠনগুলো দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়। গত বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধনের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন অপরাধীদের বিরুদ্ধে শাস্তির আবেদন করে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়ার বিধান গ্রহণ করে সরকার। আইনটি সংশোধনের পর ছাত্রলীগ চেয়েছিল যেন গণজাগরণ মঞ্চ ধীরে ধীরে গতি হারাতে থাকে। কিন্তু ছাত্রলীগবিরোধী অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলো আন্দোলন অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মঞ্চের অন্যতম একজন সমন্বয়ক জানান, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ গত বছরের মার্চ মাসে শেষ বার মঞ্চের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। গণজাগরণ মঞ্চের ছয় দফা দাবি আদায়ের কর্মসূচি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও করার সিদ্ধান্ত নেয়া হলে এর প্রতিবাদে তিনি বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান। এরপর থেকে আর কখনোই তাকে মঞ্চের সঙ্গে দেখা যায়নি।

আর স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের জন্য জাতীয় সংগীত গেয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার লক্ষ্যে ‘লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা’ শিরোনামে করা আয়োজনটির জন্য তহবিল গঠনের সময় জামায়াতের মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংকের কাছ থেকে সরকার আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করলে সরকারের কঠোর সমালোচনা করে গণজাগরণ মঞ্চ। সর্বশেষ এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই মঞ্চ ও ছাত্রলীগের মধ্যে প্রকাশ্যে দ্বন্দ্ব দেখা যায় যা অত্যন্ত তীব্র আকার ধারণ করে।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গত ২৬ মার্চ গণজাগরণ মঞ্চের পূর্বঘোষিত কর্মসূচিটি পালন করার কথা ছিল সংগঠনটির জন্মস্থান ‘প্রজন্ম চত্বর’ হিসেবে পরিচিত শাহবাগের একটি নির্ধারিত জায়গায়। কিন্তু ওইদিন মঞ্চের কর্মসূচি পালনের জন্য নির্ধারিত স্থানে ‘গৌরব একাত্তর’ নামে ছাত্রলীগের একটি উপদল সাময়িক অবস্থান গ্রহণ করলে গণজাগরণ মঞ্চ নিজেদের কর্মসূচি অন্যস্থানে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। পরে মঞ্চের কর্মসূচিটি পালিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে।

একইদিন গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা পদদলিত করার অভিযোগ আনে ছাত্রলীগ। পরের দিন একই অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মঞ্চবিরোধী একটি মিছিল বের করে ছাত্রলীগ।

গত ৪ এপ্রিলও একই সময়ে শাহবাগে একটি কর্মসূচি আয়োজন করে গণজাগরণ মঞ্চ এবং ছাত্রলীগের আরেকটি উপদল ‘মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড’। যখন দুই সংগঠনের লোকজন কর্মসূচি পালনের জন্য নির্ধারিত জায়গায় একত্রিত হতে শুরু করে তখন তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে হামলার ঘটনাও ঘটে। পরে শাহবাগ থানায় একে অপরের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি অভিযোগ করেন তারা।

গৌরব একাত্তরের সাধারণ সম্পাদক এফ এম শাহীন ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত নড়াইল জেলার একটি স্থানীয় ছাত্রলীগ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সে সময় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি মেহেদী ইসলামকে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা গেছে।

গণজাগরণ মঞ্চের উপর যারা হামলা করেছে তাদের সঙ্গে কখনোই ছাত্রলীগের কেউ জড়িত ছিলেন না দাবি করে ছাত্রলীগ প্রধান সোহাগ বলেন, “গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে আমাদের কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তাদের যে দাবি, সেই একই দাবি আদায়ের জন্যও আমরা কাজ করছি। তবে আমাদের আন্দোলন নিয়ে আমরা পৃথকভাবে অগ্রসর হচ্ছি।”

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণজাগরণ মঞ্চের আরেক সমন্বয়ক জানান- মঞ্চের সঙ্গে শুরু থেকে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বেশ কিছু ব্যক্তিকে বেশ কিছুদিন ধরে একেবারেই তোয়াক্কা করছেন না মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান, বরং তাদের বাদ দিয়ে নবেন্দু সাহা জয়, রেশমী আকতার, সৈয়দা সুলতানা অ্যানি এবং ইমরুল কায়েস নামের বেশ কিছু নতুন মুখ নিয়ে মঞ্চের গঠনতন্ত্র বদলে ফেলার চেষ্টা করছেন তিনি।

একজন সাবেক ছাত্রনেতা জানান, যে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে গণজাগরণ মঞ্চের শুরু হয়েছিল তার অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছেন মঞ্চসংশ্লিষ্টরা। এখন গণমাধ্যমে চেহারা দেখানোসহ নানাভাবে নিজ নিজ স্বার্থ আদায়ের কাজেই ব্যস্ত রয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই আর্থিক বিষয়সহ মঞ্চের অধিকাংশ বিষয়ে ইমরান নিজেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তিনি বলেন, “সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষিতে একাধিকবার ক্ষমতাসীন দলের কঠোর সমালোচনা করায় মঞ্চের ব্যাপারে সরকার ক্ষুব্ধ বলে জানিয়েছেন ইমরান।”

আর্থিক বিষয়ে অস্বচ্ছতা নিয়ে অভিযোগ প্রসঙ্গে বাপ্পাদিত্য দাবি করেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি নিজে কখনো কারো কাছ থেকে টাকা নেননি। যারাই অনুদান দেয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেতেন, তাদের প্রত্যেককেই শাহবাগে এসে সবার সামনেই তা দিতে হতো বলেও জানান তিনি। তবে মঞ্চের অর্থ সংগ্রহের জন্য আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাংক হিসাব নেই কেন তা নিয়ে কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

এতদিন ধরে চলমান একটি আন্দোলনকে ঘিরে ভুল বোঝাবুঝি হওয়াটাকে খুবই স্বাভাবিক হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি জানান, আলোচনার মাধ্যমে চলমান দ্বন্দ্ব নিরসনের ব্যাপারে মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে ইমরান এইচ সরকার অত্যন্ত আশাবাদী। ।
বেঙ্গলিনিউজটোয়েন্টিফোর.কম ডেস্ক

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫