Skip to content

‘অবৈধ’ সম্পদের মাশুল দিলেন হাওলাদার

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ জাতীয় পার্টির বিদায়ী মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে রয়েছে অবৈধভাবে জমি দখল ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ। ইতোমধ্যে তা যাচাই বাছাইয়ের সিদ্ধান্তও নেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ কারণেই রুহুল আমিন হাওলাদারকে জাতীয় পার্টির মহাসচিবের পদ থেকে চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরিয়ে দিয়েছেন বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

জাতীয় পার্টির ওই সূত্রটি বাংলামেইলকে বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রুহুল আমিন হাওলাদারের সম্পদের যাচাই-বাছাই করছে। এ কারণে জাপা চেয়ারম্যান কৌশলে রুহুল আমিন হাওলাদারকে সরিয়ে দিয়েছেন।’

দুদক সূত্রে জানা গেছে, নবম সংসদ নির্বাচনের আগে রুহুল আমিন হাওলাদারের টাকা ছিল ১৭ লাখ ৬৮ হাজারের কিছু বেশি। পাঁচ বছর পর এসে এখন তার নিজের নগদ টাকাই আছে ৬ কোটি ৬৬ লাখের বেশি। গতবার তার কোনো শেয়ার বা বন্ড ছিল না। এবার স্বামী-স্ত্রীর ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার, দুটি ল্যান্ডক্রুজার গাড়ি, প্লটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পদ বেড়েছে।

নির্বাচন কমিশনে রুহুল আমিন হাওলাদারের জমা দেয়া হলফনামা অনুযায়ী তার বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট বা দোকানভাড়া থেকে আয় হয়েছে ১ কোটি ৬২ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। গতবার এ খাত থেকে আয় হয়েছিল ১৩ লাখ আট হাজার ৯৩৮ টাকা। সংসদ সদস্যের পারিতোষিক হিসেবে তার বার্ষিক আয় ১৩ লাখ ৮৯ হাজার ৬২৫ টাকা।

গত পাঁচ বছরে রুহুল আমিন হাওলাদার ৬৭ লাখ ৯৪ হাজার পাঁচশ ৩০ টাকা দামের একটি ও তার স্ত্রী ৫৯ লাখ ৪৪ হাজার পাঁচশ ৩০ টাকা দামের আরেকটি গাড়ির মালিক হয়েছেন। দুটো গাড়িই ল্যান্ডক্রুজার ব্র্যান্ডের। তার স্ত্রীর একশ ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ অন্যান্য অলঙ্কার রয়েছে। হলফনামায় উল্লেখ আছে, তিনি ধার দিয়েছেন ১০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। স্ত্রীকেও অর্থ ধার দিয়েছেন তিনি।

রুহুল আমিন হাওলাদারের নামে শুলশানে ১২ দশমিক ৭ কাঠা জমি রয়েছে। স্ত্রীর নামে পূর্বাচলে সাড়ে ৭ কাঠা জমি রয়েছে। রুহুল আমিনের আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন আছে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৭৬ হাজার ১৩৮ টাকা মূল্যের। স্ত্রীর নামে গতবারের মতো এবারো ১০ লাখ টাকার দালান ও একটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়।

তবে জাতীয় পার্টির অপর একটি সূত্র আবার জানিয়েছে, রুহুল আমিন হাওলাদারের নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত রাখতে দুতিয়ালী ভূমিকা; পার্টির চেয়ারম্যান, চেয়ারম্যানের স্ত্রী ও সরকার পক্ষকে ম্যানেজ করে চলা, অবৈধভাবে তার সম্পদ বেড়ে যাওয়ায় দুদকের অনুসন্ধানের খবরে তাকে মহাসচিব পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এরশাদের একক সিদ্ধান্তে নারাজ দলের নেতাকর্মীরা। এরশাদের এ সিদ্ধান্তের পেছনে সরকারের ওপর মহলের একটা সংকেত আছে বলেও অনেকে মনে করছেন।

আবার অনেকে এটাকে হঠাৎ রদবদল বলতে চাচ্ছেন না। কেননা তাদের অনেকের কাছে এ খবর বেশ পুরনো। তারা জানতেন পার্টির এই শীর্ষ পদে নতুন একজনকে মহাসচিব করা হবে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে পার্টির একজন ভাইস চেয়ারম্যান বাংলামেইলকে বলেন, ‘রুহুল আমিনের দুতিয়ালী চরিত্রের কারণে তার বিরুদ্ধে অনেকেই ক্ষ্যাপা। তিনি কখনো স্যারের কাছে আবার কখনো ম্যাডামের কাছে গিয়ে সুবিধা নিতে চাইতেন। তাছাড়া তিনি স্যারের কথা মতো নির্বাচনে মনোনয়নও প্রত্যাহার করেননি। ফলে স্যার তার উপর অনেকটা ক্ষুদ্ধ। হয়ত তারই এটা ফলাফল।’

অন্য একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, ‘সরকার চাইছে রওশন এরশাদ দলের চেয়ারম্যান হোক। আর হাওলাদার বাদে অন্য কেউ দলের মহাসচিব হোক। এ সিদ্ধান্ত মূলত সরকারের সংকেত অনুযায়ীই হয়েছে। শুধু স্যার এটাকে বাস্তবে রূপ দিলেন।’

আবার কেউ বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করায় অবৈধভাবে জমি দখল ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনে রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। এরই ধারাবাহিকতায় তাকে জাপার মহাসচিব পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

তবে রুহুল আমিন হাওলাদার মহাসচিবের পদ হারাচ্ছেন তা তিনি আগেই বুঝতে পেরেছিলেন। গত ২ এপ্রিল যুব সংহতির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমনই ইঙ্গিত দেন তিনি।

হাওলাদার বলেন, ‘এতোদিন যে জাতীয় পার্টির মহাসচিব আছি তা একমাত্র আল্লাহর রহমতেই আছি। ভবিষ্যতে মহাসচিব থাকবো কি না জানি না।’ বাংলামেইল২৪ডটকম

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫