বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ মালয়েশিয়ার নিখোঁজ বিমান ও এর আরোহীদের সন্ধানে যখন সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অক্লান্ত চেষ্টা চলছে তখনই মিলল আরেক নতুন খবর। এতে বলা হয়, মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের আরেকটি জাম্বো বিমানকে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণ করতে হয়েছিল। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এমনটা ঘটেছিল বলে বলা হয়। তবে পাইলটদের কথোপকথন রেকর্ডকারী ব্ল্যাকবক্স ছিল না বিমানটিতে। যুক্তরাজ্যের বিমান দুর্ঘটনা তদন্তকারীরা এ তথ্য ফাঁস করেছেন।
গতকাল এ খবর দিয়েছে যুক্তরাজ্যের ডেইলি মিরর অনলাইন। এতে বলা হয়, গোয়েন্দারা বলেছেন, মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিমানের ক্ষেত্রে এ ঘটনা ঘটেছিল। ওই বিমানটি ছিল বোয়িং ৭৪৭। বিমানটি ২০১২ সালের ১৭ই আগস্ট হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। কিন্তু উড্ডয়নের কিছু পরে এর একটি ইঞ্জিনে বেশ কম্পন সৃষ্টি হয়। লন্ডনের বিমান দুর্ঘটনা তদন্তকারী সংস্থা এয়ার এক্সিডেন্টস ইনভেস্টিগেশন ব্রাঞ্চ বলেছে, বিমানটি ফিরে আসে হিথ্রোতে। তখন ককপিটে আলো জ্বলছিল। তবে বেশ কিছু ত্রুটিও ধরা পড়ে। কোনো কোনো সিস্টেমে পর্যাপ্ত জ্বালানি শক্তি যায়নি। এ অবস্থায় স্থানীয় সময় রাত ১১টা ২০ মিনিটের সময় পাইলট ৩৪০ যাত্রী ও ২২ ক্রু নিয়ে নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হন। ওই বিমানের ককপিটে ছিল ভয়েস রেকর্ডার। এতে দু’ঘণ্টার কথোপকথন রেকর্ড থাকার কথা।
কিন্তু গতকাল প্রকাশিত রিপোর্টে এয়ার এক্সিডেন্টস ইনভেস্টিগেশন ব্রাঞ্চ বলেছে, ককপিটের ওই ভয়েস রেকর্ডারটি হারিয়ে গিয়েছিল। বিমানে তা পাওয়া যায়নি। এটা হতে পারতো একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা। তারা রিপোর্টে আরও বলেছেন, তখন মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ এ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। একই সঙ্গে এ প্রক্রিয়াকে আধুনিকায়ন করার কথা বলেছিল।
ওদিকে মালয়েশিয়ার নিখোঁজ ফ্লাইট এমএইচ ৩৭০ বোয়িং ৭৭৭-২০০ বিমানটির উদ্ধারে অংশগ্রহণকারী একটি বিমান থেকে ভারত মহাসাগরে একটি নতুন সঙ্কেত পাওয়া গেছে। অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তারা গতকাল এ কথা বলেছেন। জাহাজ থেকে এর আগে পাওয়া সঙ্কেতের মতো এ সঙ্কেতকে ফ্লাইট এমএইচ ৩৭০-এর বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ সঙ্কেত নিয়ে আরও বিশ্লেষণের দরকার রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী একটি এলাকায় ব্ল্যাকবক্সের মতো সঙ্কেত পাওয়ায় সেখানে গতকাল তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। এখন ধরে নেয়া হচ্ছে ওই এলাকায়ই থাকতে পারে নিখোঁজ বিমানটির ব্ল্যাকবক্স।
