Skip to content

দেশের কোনও মেডিক্যাল ল্যাবেরই আন্তর্জাতিক মান-সনদ নেই

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ বিজ্ঞানের সঙ্গে প্রযুক্তিও যুক্ত হওয়ায় একুশ শতকে নির্ভুল রোগনিরূপণকে চিকিৎসার পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রোগনিরূপণ যদি ভুল হয়, চিকিৎসাও ভুল হতে বাধ্য। ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হওয়ারও আশঙ্কা থাকে। আবার, সঠিক রোগনিরূপণই শেষ কথা নয়। সঠিক পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দিতে না পারলে ডিগ্রিধারী বড় চিকিৎসক ধরেও লাভ হয় না রোগীর। চিকিৎসকও সব নন। চাই প্রয়োজনীয় নার্সিং ও কাউন্সেলিং। সব কিছুর সমন্বয়েই নিশ্চিত হয় বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা। বাংলাদেশের কোনও সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালেরই এই মান নেই বলে মনে করে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি)। বেশি রোগী দেখেন বলে চিকিৎসকরা রোগীদের পর্যাপ্ত সময় দেন না এবং দক্ষ নার্সের অভাবে অধিকাংশ হাসপাতালেই উন্নত চিকিৎসার পরিবেশ নেই বলেও অভিমত প্রতিষ্ঠানটির।

বিএবির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশের কোনও হাসপাতালস্থ বা হাসপাতালের বাইরের রোগনিরূপণ কেন্দ্রেরই নেই আন্তর্জাতিক মান-সনদ (অ্যাক্রেডিটেশন) । সম্প্রতি রাজধানীর দুটি ল্যাব এ সনদ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দেশে এ আন্তর্জাতিক মান-সনদ (আইএসও-১৫১৮৯) দেওয়ার এখতিয়ার রাখে বিএবি। সনদ দেওয়ার আগে ল্যাবের ‘গুণগত ব্যবস্থাপনা’ ও ‘কারিগরি শর্ত’ পূরণের দিকটি যাচাই-বাছাই করা হয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনেক খ্যাতনামা ল্যাব বিদেশ থেকে আইএসও-৯০০১ সনদ অর্জন করলেও তা যথেষ্ট নয়। কারিগরি শর্তপূরণে প্রয়োজন আইএসও-১৫১৮৯ সনদের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএবির উপপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, সংবিধান অনুযায়ী একজন রোগীর যেমন সঠিক ও মানসম্মত চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রয়েছে, তেমনই ল্যাবগুলোরও মানসম্মত সেবা প্রদানে বাধ্যবাধকতা আছে। যে ল্যাব রোগীর স্বাস্থ্য-পরীক্ষা করছে, তাদের তা করার সক্ষমতা আছে কি না, সেটা দেখার জন্যই বিএবি। তবে সরকার বিএবির তেমন ক্ষমতা দেয়নি যে ইচ্ছা করলেই যে-কোনও ল্যাবে গিয়ে তাদের সক্ষমতা যাচাই করা যেতে পারে। শুধু যেসব প্রতিষ্ঠান অ্যাক্রেডিটেশনপ্রাপ্ত, সেইসব প্রতিষ্ঠানে নজরদারি করার অধিকার আছে আমাদের। তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্যি, এ দেশে কোনও মেডিক্যাল ল্যাবেরই আন্তর্জাতিক মান-সনদ নেই, যা বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে খুবই জরুরি।

মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, কোনও মেডিক্যাল ল্যাবকে অ্যাক্রেডিটেটেড হতে হলে ‘গুণগত ব্যবস্থাপনা’ ও ‘কারিগরি শর্ত’র ৪৪টি ধাপ পূরণ করতে হয়। শর্তগুলো পূরণ হলে রোগীদের প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। কিন্তু শর্তপূরণ না-করেই দেশের অনেক ল্যাব কর্তৃপক্ষ নিজেদের বিশ্বমানের বলে দাবি করে। এটা জনগণের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা। তিনি জানান, আইএসও-১৫১৮৯ সনদধারী ল্যাবের রিপোর্ট শুধু দেশে নয়, বিশ্বের সর্বত্র স্বীকৃত হবে।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে ৫ ক্ষেত্রে অ্যাক্রেডিটেশনের ম্যান্ডেট দেওয়া হয় বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডকে- ১. বিভিন্ন পরীক্ষাগার, ২. সনদ প্রদানকারী সংস্থা, ৩. পরিদর্শন সংস্থা, ৪. প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ও ৫. ব্যক্তি। ২০১২ সালে মান-সনদ দেওয়ার সমতা অর্জন করার পর বাংলাদেশ শিল্প ও গবেষণা পরিষদকে (বিসিএসআইআর) প্রথম আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্য মান-সনদের স্বীকৃতি সনদ প্রদান করে সংস্থাটি। এ পর্যন্ত স্বায়ত্তশাসিত এ সংস্থা দেশে মাত্র ১২টি প্রতিষ্ঠানকে মান-সনদ প্রদান করেছে। বাকিসব সনদ না পেয়েই করে ‘বিশ্বমান’ কলরব। (আমাদের সময়)

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫