Skip to content

তদন্তে বেরিয়ে আসছে থলের বিড়াল

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ থলের বিড়াল বেরিয়ে আসছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের স্বামী আবু বকর সিদ্দিক (এ বি সিদ্দিক) অপহরণ রহস্যের। তবে গত আট দিনে ১০ প্রশ্নের যথাযথ উত্তর রিজওয়ানা কিংবা তার স্বামীর কাছ থেকে না পেলেও বিভিন্ন সূত্র থেকে গোয়েন্দারা পেয়েছেন চমকপ্রদ তথ্য। প্রাথমিকভাবে পাওয়া এসব স্পর্শকাতর তথ্যগুলো এখন গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে বলে জানা গেছে। তবে ইতোমধ্যে পাওয়া তথ্য নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তদন্ত সংশ্লিষ্ট কিংবা গোয়েন্দারা।

অন্যদিকে, ১০ প্রশ্নের উত্তর না পাওয়ায় অপরাধ বিশেষজ্ঞরাও এ বি সিদ্দিকের অপহরণ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ঝড় উঠেছে এ ঘটনাটি নিয়ে। এ কারণে এর নেপথ্য কাহিনী পুরোপুরিভাবে উন্মোচন করে জাতির সামনে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন তারা। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অপহরণের ঘটনার তদন্তে রিজওয়ানা ও তার স্বামী অনেক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় সুকৌশলে অসহযোগিতা করছেন। উদ্ধার হওয়ার পর ছয় দিনে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদেও তাদের বক্তব্যে ভিন্নতা পাওয়া গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা ওয়াহিদ জানান, এ বি সিদ্দিক অপহরণ ঘটনা রহস্য উপন্যাসের মতো সন্দেহজনক। রহস্য উপন্যাসে অপহরণ কাহিনী ঘটে থাকে। সেখানে বড় মানুষকে অপহরণ করা হয়। যিনি অপহরণ হন তিনি নিজেও এ ধরনের কাহিনী তৈরি করেন। উপন্যাসের ক্ষেত্রে কেউ কেউ নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে গড়ে তুলতে এমন ঘটনা ঘটায়। এখানেও তেমনি মনে হয়েছে।

নানা ঘটনার পরস্পর বিরোধিতায় মনে হয় পুরো ঘটনাটি একটি সাজানো নাটক। তিনি বলেন, সমাজে অপরাধ থাকবে। বাংলাদেশে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। নানা ডাইমেনশনে মানুষের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে। শত্রু থাকতে পারে। কিন্তু এ ঘটনায় জড়িতদের সন্দেহ করা হলো রিজওয়ানার ব্যক্তি দ্বন্দ্বের বিষয়কে নিয়ে। এ বি সিদ্দিক যতটা সাদামাটা তার কর্মক্ষেত্র ততটা সাদামাটা কিনা? তার নিজের কাজের জন্যও তো অপহরণ হতে পারে। সে সব কথা না বলে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দেওয়া হলো। সূত্র মতে, সুরাহা না হওয়া প্রশ্নগুলো হলো- প্রথম, গত ১৬ এপ্রিল বেলা আড়াইটার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভুইগড় ভূঁইয়া ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে এ বি সিদ্দিক অপহৃত হলেও ব্যস্ততম ওই রাস্তায় কোনো প্রত্যক্ষদর্শীর খোঁজ পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের ওই রাস্তায় দিনের বেশিরভাগ সময় যানজট লেগে থাকলেও গাড়ি চালকের বক্তব্য অনুযায়ী নীল মাইক্রোবাসে হাত-পা-চোখ বাঁধা এ বি সিদ্দিককে কেউ দেখেনি।

এমন প্রত্যক্ষদর্শীর খোঁজও পাননি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তৃতীয়, এ বি সিদ্দিকের বক্তব্য অনুযায়ী প্রথমে দুই দফা ফেরি পার হলেও আসার পথে কোনো ফেরি ছিল না। দীর্ঘ সময় ধরে ফেরিতে মাইক্রোবাসটি অবস্থান করছিল। তবে সেখানেও কোনো লোক তাকে দেখতে পায়নি। চতুর্থ, অপহৃত অবস্থায় এ বি সিদ্দিককে রাখা কক্ষ থেকে তিনি হেলিকপ্টারের শব্দ শুনেছেন। একই সঙ্গে চোখ বাঁধা থাকলেও তিনি কীভাবে সময় বলে দিতে পারলেন? পঞ্চম, মিরপুর আনসার ক্যাম্পের সামনে রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ বি সিদ্দিক মুক্তি পান। তবে ওই সময় থেকে সোয়া ১টা পর্যন্ত তিনি কোথায় ছিলেন? সরাসরি ধানমন্ডি না গিয়ে তিনি উল্টোপথে কাজী পাড়া গেলেন কেন? ষষ্ঠ, গণমাধ্যমের সামনে কথা বলার সময় বহুবার রিজওয়ানা তার স্বামীর বক্তব্য কেড়ে নিয়ে নিজে কথা বলেছেন। এর কারন কী? সপ্তম, এ বি অপহরণের দিনই গাড়িচালককে রিজওয়ানা নিজের জিম্মায় নিয়েছিলেন কেন? ওই দিন গাড়িচালকের সঙ্গে র্যাব-পুলিশ কথা বলতে পারেনি। অষ্টম, এ বি সিদ্দিকের কোনো শত্রু নেই দাবি করে রিজওয়ানা নিজেকে সামনে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। এর রহস্য কী? নবম, অপহরণকারীদের অতিথিসুলভ ব্যবহার, মুরগি এবং গরুর মাংস দিয়ে আপ্যায়ন। বিভিন্ন সময় এ বি সিদ্দিককে ‘মামা’ এবং ‘ভাই’ সম্বোধন। বাড়িতে ফেরার সময় ইতিহাসের প্রথম কোন অপহরণকারী ভিকটিমকে নগদ ৩০০ টাকা পকেটে দিয়ে মানবিক হয়ে পড়লো ! এর রহস্য কী? দশম, জোরপূর্বক গাড়িতে ওঠানো, পরে বিভিন্ন সময় মারধরের কথা বলেছেন এ বি সিদ্দিক। তবে শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই। সর্বশেষ কোনো শর্ত ছাড়াই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। অপরাধ প্রতিবেদন ভিত্তিক অনুষ্ঠান পরিপ্রেক্ষিত’র নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ বোরহান কবীর বলেন, এ বি সিদ্দিক অপহরণ আর উদ্ধারের ঘটনাটি বিস্ময়কর। অপরাধ বিজ্ঞানের কোনো ধারায়ই এটি পড়ে না। কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি তাকে অপহরণ করে ৩৫ ঘণ্টার মধ্যে তার গায়ে একটি আঁচড়ও দিল না, এটি হতে পারে না। উল্টো তাকে টাকা দিল, মুরগির মাংস, গরুর মাংস খাওয়াল, কেউ মামা বলে, কেউ ভাই বলে ডাকল- পুরো বিষয়টি হতবাক হওয়ার মতো।

তিনি বলেন, প্রথম, অপহরণ করা হয় মুক্তিপণ আদায় করার জন্য। এটিই সবচেয়ে বেশি হয়। দ্বিতীয়, কেউ স্বেচ্ছায়, রাজনৈতিক কিংবা অন্য কোনো কারণে আত্দগোপনে থেকে নিজেকে অপহৃত হিসেবে প্রচার করে বিশেষ ফায়দা নেওয়ার জন্য। এসবের অনেক উদাহরণ রয়েছে। প্রসঙ্গত, ১৬ এপ্রিল বেলা আড়াইটার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভুইগড় থেকে এ বি সিদ্দিক অপহৃত হওয়ার ৩৫ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার রাতে তাকে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা। এর আগে ফতুল্লা মডেল থানায় করা মামলায় তার স্ত্রী রিজওয়ানা হাসান উল্লেখ করেন, পেশাগত কারণে আমি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করে আসছি, যা অনেকের অর্থনৈতিক স্বার্থকে ক্ষুণ্ন করেছে। প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে এসব মহল বিভিন্ন সময়ে আমার বিরুদ্ধে প্রচার মাধ্যমে নানা অপপ্রচার চালিয়েছে এবং বিভিন্নভাবে আমাকে আমার কাজ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছে। আমার স্বামী নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র থাকতে পারে। বেঙ্গলিনিউজটোয়েন্টিফোর.কম

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫