Skip to content

আরেকটি স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ ত্বকি হত্যাকাণ্ডের পর গতকাল নারায়ণগঞ্জে আরেকটি স্বতঃস্ফূর্ত ও সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাত খুনের আসামিদের গ্রেফতার ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বানে এ

হরতাল পালিত হয়।
সকাল ৯টায় কথা হচ্ছিল নগরীর আল্লামা ইকবাল রোডের বাসিন্দা একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষক জাকির হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, আমি একটি ব্যাচেলর ম্যাসে থাকি। আমাকে বাইরে নাশতা খেতে হয়। ৯টায় আমার ছাত্রছাত্রীরা এসে পড়ে। সকাল ৭টা থেকে ঘুরছি। নগরীর কোথাও কোনো হোটেল খোলা নেই। বাধ্য হয়ে এক বন্ধুর বাসায় যাচ্ছি নাশতা খেতে।
কথা হল নগরীর গলাচিপা মোড়ে অবস্থিত খাবারের হোটেল ‘আলম কেবিনের’ কর্মচারি সেলিমের সঙ্গে। সেলিম জানান, ‘অনেকের কষ্ট হবে জানি। কিন্তু এমন সাতজন খুনের পর প্রতিবাদ না জানালে তো যেকোনো দিন আমরাও খুন হয়ে যেতে পারি।’
হরতালের সময় নগরীর কোথাও কোনো দোকানপাট খোলা ছিল না। নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে রিকশাও চলেনি। সকাল ৬টা থেকেই নগরীর চাষাঢ়া, ২নং রেলগেট, নিতাইগঞ্জসহ বিভিন্ন পয়েন্টে আইনজীবী সমিতি, গণসংহতি আন্দোলন, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকি মঞ্চ, বিএনপি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও বাংলাদেশ লেবার পার্টি হরতালের সমর্থনে পৃথক পৃথক মিছিল বের করে। তাদের পিকেটিংয়ের কারণে নগরীতে কোনো যান চলাচল করেনি। চাষাঢ়া থেকে নিতাইগঞ্জ পর্যন্ত নগরীর প্রাণকেন্দ্রে কোনো দোকানপাট খোলেনি।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন জানান, হত্যা-গুমের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে হরতাল পালন করছে। নগরীতে কোনো ধরনের যানবাহন চলছে না।
নগরীর ২নং রেলগেট এলাকা দখল করে সমাবেশ করতে থাকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। সকাল ৯টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে একটি খালি বাস ঘোরানোর সময় হরতাল সমর্থকদের ইট নিক্ষেপের শিকার হয় দূরপাল্লার একটি বাস। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিঙ্ক রোডের নতুন কোর্ট এলাকায়ও একটি বাস ভাঙচুর করা হয়। সকাল ৮টায় আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী নগরীর নিতাইগঞ্জ এলাকা থেকে একটি কালো পতাকা মিছিল বের করে। হরতালের কারণে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জে সারাদিন ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
এলাকাবাসী সূত্র জানায়, সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনকে ফতুল্লার কুতুবপুর নাগরিক কমিটির ব্যানারে হরতাল সমর্থকরা আটকে দেয়। ফলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। নারায়ণগঞ্জ, চাষাঢ়াসহ বিভিন্ন রেলস্টেশনে অনেক যাত্রী এসে ট্রেনের খোঁজ করলেও ট্রেন না পেয়ে চলে যান। চাষাঢ়া রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার সানোয়ার হোসেন জানান, নিরাপত্তার কারণে তারা ফতুল্লা থেকে নারায়ণগঞ্জ স্টেশনের দিকে ট্রেন আনেননি।
হরতালের সমর্থনে সকাল ৭টায় সিদ্ধিরগঞ্জপুল এলাকায় একটি মিছিল বের করে খুন হওয়া প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের সমর্থকরা। এরপর এই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস চলাচল করেনি। স্থানীয় রুটের কিছু বাস দেখা গেলেও বাসের সংখ্যা ছিল খুবই কম।
দিনভর আইনজীবীরা আদালত বর্জন করে জেলাজজ প্রাঙ্গণ ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিঙ্ক রোডে মিছিল করেন।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫