বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ দৌলতপুর, গজারিয়া মুন্সিগঞ্জ থেকে: নদীর তীর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পর্যন্ত নেই কোনো জনবসতি। নেই কোনো গাছপালা। কড়া রোদেও অপেক্ষার ক্লান্তি নেই তাদের। চোখের জল আর মাথার ঘাম যেন এক হয়ে গেছে। প্রায় বিচ্ছিন্ন চরেও হাজারো উৎসুক মানুষের অপেক্ষা।
স্বজন হারানো মানুষের চোখের জলে অপেক্ষা। উদ্ধারকর্মীদের অপেক্ষা লাশ আর লঞ্চ উদ্ধারের। সেই সঙ্গে অপেক্ষমান মেঘনা পাড়বাসী। তপ্ত রোদ থেকে বাচঁতে কিংবা স্বজন হারানোদের রোদের তাপ থেকে একটু হলেও শীতলতা দিতেই যেনো কেউবা চাটাই টাঙিয়ে তৈরি করছেন তাবু।
কান্নায় মেঘনা পাড়ের বাতাস ভাড়ি হয়ে উঠেছে। স্থানীয় মানুষ আর স্বজনরাও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। অপেক্ষমান মানুষের মাঝে পানি ও শুকনা খাবার বিতরণ করছেন স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীরা।
মেয়েকে হারিয়ে মেঘনা পাড়ে দুই দিন ধরে কাঁদছেন মরিয়ম বেগম। মরিয়ম বেগমর মতো হাজারো মানুষ অপেক্ষা করছে মেঘনা পারে।
তবে উদ্ধার কাজে সন্তুষ্ট নয় স্থানীরা। শাহীন ইসলাম বলেন, প্রায় দুই দিন হতে চলল এখনো লঞ্চ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এটা দুঃখজনক।
তবে প্রশাসন থেকে বলা হচ্ছে, চেষ্টার কোনো ত্রুটি হচ্ছে না। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের পরিচালক (ত্রান) বলেন, আশা করছি সন্ধ্যার আগেই লঞ্চ উদ্ধার হবে। কিছু মানুষ সাঁতরে পাড়ে উঠতে পেরেছে। আমাদের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী লঞ্চে প্রায় তিনশ’ যাত্রী ছিলো। আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি।
এ ঘটনায় মন্ত্রণালয় থেকে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া লাশ হস্তান্তরের সময় নিহতের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।
বৃহষ্পতিবার রাত থেকে নৌমন্ত্রী শাহজাহান খানসহ মন্ত্রণালয়ের অন্য কর্তা ব্যক্তিরাও উপস্থিত আছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গজারিয়া উপজেলার দৌলতপুর গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায় এমভি মিরাজ-৪। লঞ্চডুবির পর থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ২২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মৃতের সংখা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে অর্ধশতাধিক। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
