Skip to content

ধরাছোঁয়ার বাইরে পরিকল্পনাকারীরা

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
একরাম হত্যাকান্ডে জড়িত কিলার গ্রুপের ১৪ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করলেও এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা। গ্রেপ্তারকৃতদের গতকাল ফেনী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। রিমান্ডে নেয়া হয়েছে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ দেখানো ওয়ার্ড কমিশনার শিবলুকেও। হত্যাকান্ডের ৬ দিন পর আত্মগোপনের স্থান পরিবর্তনকালে পুলিশের জালে ধরা পড়েছে কিলিং মিশনের মূল বাস্তবায়নকারী আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদ চৌধুরী। ফেনীর বারাহীপুর এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা থেকে সন্ধ্যা ৭টার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপরদিকে কিলিং মিশনের নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের যেসব প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে ফেনীতে। উল্টো তাদের পক্ষে সাফাই গাইছে জেলা আওয়ামী লীগ। কেন্দ্রের নির্দেশে এবং জেলা আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাফাই গেয়ে প্রতিদিন ধারাবাহিকভাবে সম্মেলন ও মানববন্ধন করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতারা।

এছাড়া বিচারের দাবিতে কর্মসূচি দেয়ার ক্ষেত্রে বাধা ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে একরাম অনুসারীদের। গতকাল ফেনীতে সংবাদ সম্মেলন করে প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তার, গ্রেপ্তারকৃতদের ফেনীর বদলে অন্য কোন কারাগারে পাঠানো এবং মামলার তদন্তভার সিআইডির কাছে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফাউন্ডেশনের নেতারা। ওদিকে ফেনীর রাজনৈতিক মহল মনে করছেন, পরিবারের সদস্যদের জোর করে তড়িঘড়ি মামলা দায়েরের পর এবার সুষ্ঠু তদন্ত না করেই তড়িঘড়ি চার্জশিট দেয়া হতে পারে। বর্তমান সরকারের আমলেই বিচার কার্যক্রম শেষ করে কৌশলে বাঁচিয়ে দেয়া হতে পারে পরিকল্পনাকারীদের।

ঢাকা ও ফেনীতে গ্রেপ্তারকৃত ১৩ জন রিমান্ডে: একরাম হত্যাকান্ডের ঘটনায় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র‌্যাব ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে শুক্রবার রাতে। শনিবার রাতে তাদের ফেনী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তারকৃত ৮ আসামি ও ফেনী পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণের নাটক সাজানো ওয়ার্ড কমিশনার শিবলুকে গতকাল ফেনী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুল বাশারের আদালতে হাজির করা হলে ৮ দিনের করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। অন্যরা হলো- আবিদ, সৈকত, অনিক, শানান, সিফাত, শিপন, হেলাল ও নাফিজ। এর আগে ফেনীতে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারকৃত ইকবাল, আনোয়ার, আলমগীরসহ চারজনকে ৫ দিনের করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

মামলা সিআইডিতে হস্তান্তরের দাবি: একরামুল হক হত্যাকান্ডের বিচারের দাবিতে গতকাল ফেনীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ ফাউন্ডেশন। সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম এহছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল সংবাদ সম্মেলনে তিনটি দাবি জানান। তিনি বলেন, ফেনী পুলিশের মাধ্যমে তদন্ত হলে তা নিরপেক্ষ হবে না। আমরা সিআইডির কাছে মামলার তদন্তভার হস্তান্তরের দাবি জানাচ্ছি। তিনি বলেন, এ হত্যাকান্ডে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারকৃতদের ফেনী কারাগারে রাখা হলে তারা জামাই আদরে থাকবে। তাই তাদের অন্য জোন জেলা বা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরের দাবি জানাচ্ছি। তিনি দাবি করেন, হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। এ সময় সংগঠনের আহ্বায়ক ও মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, ফেনী সদরের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রহমান বিকমসহ দেশের বিভিন্ন জেলার অন্তত অর্ধশতাধিক চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন।

উপরের নির্দেশে ধারাবাহিক সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন: একরাম হত্যাকান্ডের ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন নিয়ে দারুণ অস্বস্তিতে পড়েছে আওয়ামী লীগ। ফলে হত্যাকান্ডের বিচারের দাবিতে যত না সোচ্চার তার চেয়ে জেলা নেতারা বেশি সোচ্চার অভিযুক্তদের পক্ষে সাফাই গাওয়ার প্রতিযোগিতায়। ঘটনার দু’দিন পর সংবাদ সম্মেলন করে প্রধান অভিযুক্ত সদর আসনের এমপি নিজাম হাজারীর পক্ষে সাফাই বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগ। পরদিন সংবাদ সম্মেলন করে একরামের নিজ উপজেলা ফুলগাজী আওয়ামী লীগ। শনিবার নিজামের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমের অপপ্রচারের অভিযোগ তোলা হয় দাগনভূঞা উপজেলা আওয়ামী লীগের তরফে। গতকাল ছাগলনাইয়া ও সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেই নিজাম হাজারীর পক্ষে সাফাই গেয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগের এ ধারাবাহিক সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনের নেপথ্যে রয়েছে উপরের নির্দেশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই উপজেলা সভাপতি জানান, তারা একরাম হত্যাকান্ডের ঘটনায় মর্মাহত। কিন্তু ফেনী আওয়ামী লীগের মুরব্বি হিসেবে খ্যাত এক নেতা প্রতিটি উপজেলা সভাপতিকে জেলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে জেলা কমিটির ড্রাফট করা বক্তব্য তারা সংবাদ সম্মেলনে পাঠ করেছেন কেবল। তারা বলছেন, যেখানে কেন্দ্র থেকে নির্দেশ এসেছে সেখানে আমরা অসহায়। বাস্তবে দেখা গেছে, প্রতিটি সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য প্রায় একই। আওয়ামী লীগের এক উপজেলা সাধারণ সম্পাদক বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে মামলা দায়েরসহ সবকিছুতে তাড়াহুড়া করা হচ্ছে। এতে আসল খুনিদের বিচার নিয়ে দিন দিন সংশয় বাড়ছে। রাজধানীতে র‌্যাবের হাতে ৮ অভিযুক্ত গ্রেপ্তার ও ফেনীতে আরেক অভিযুক্তের আত্মসমর্পণ নাটকের পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে শনিবার রাতে জরুরি সভা করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। অথচ হত্যাকান্ডের ৬ দিন কেটে গেলেও বিচার চেয়ে একটি পোস্টার পর্যন্ত সাঁটানো হয়নি ফেনীতে।

হরতাল প্রত্যাহারে চাপ: ওদিকে একরাম হত্যাকান্ডের পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আজ উপজেলায় হরতাল ডেকেছে ফুলগাজী ছাত্রলীগ। কিন্তু তাদের সে হরতাল প্রত্যাহারে দলের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর‌্যায় থেকে চাপ দেয়া হচ্ছে। এমনকি রাজপথে তৎপর হলে পুলিশকে দিয়ে অ্যাকশনেরও ভয় দেখানো হয়েছে। ফুলগাজী উপজেলা ছাত্রলীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা জানান, একদিকে একরামের প্রতি ভালবাসা অন্যদিকে দলের চাপ। ফলে হরতাল ঘোষণার পর নিরাপদ অবস্থান চলে গেছি। ওদিকে শনিবার ফুলগাজীতে গ্রেপ্তারকৃত আলমগীর হোসেনের বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে একরাম সমর্থক ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। একরাম সমর্থকরা জানান, হত্যাকান্ডের অন্যতম খুনি একরামের ওপর গুলি চালানো সন্ত্রাসী রুটি সোহেল প্রায় আনন্দপুরে আলমগীর হোসেনের বাড়িতে অবস্থান করতেন। (মানবজমিন)

বেঙ্গলিনিউজটোয়েন্টিফোর.কম ডেস্ক

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫