Skip to content

থানায় আটক অপরাধীদের ‘ক্রিমিনাল ডাটাবেজ’

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ কারাগারের পর এবার থানা থেকেই ক্রিমিনাল ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিডিএমএস) তৈরির কাজ করছে পুলিশ। আর এজন্য আটক অপরাধীদের ফিঙ্গার প্রিন্ট, ছবি, শরীরের কোনো অংশের বিশেষ চিহ্ন, হাতের ছাপ, পায়ের ছাপসহ অন্যান্য সব ব্যবস্থা করা হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে রাজধানীর প্রতিটি থানায় উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

কয়েকটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে।

কর্মকর্তারা জানান, এর আগে থানায় তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের শুধু ছবি তুলে রাখা হতো। কিন্তু বর্তমানে ফ্রিঙ্গার প্রিন্ট, শরীরে দাগ বা চিহ্ন আছে কিনা সবকিছু পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে অপরাধী শনাক্ত ও অপরাধীদের ব্যাপারে ডাটাবেজ তৈরির জন্যই এই ব্যবস্থা বলে জানান তারা।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতরা গ্রেপ্তারের পর সহজেই জামিনে মুক্তি পেয়ে আবার একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। বেশির ভাগ সময়ে এসব অপরাধী নিজেদের নাম-ঠিকানা গোপন করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালায়। কিন্তু এই ডাটাবেজের কারণে তারা মিথ্যা বললেও সহজেই ধরা পড়ে যাবে।

কর্মকর্তারা বলেন, অনেক সময় চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নাম করে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে। পরবর্তী সময়ে সে গ্রেফতার হলে ডাটাবেজের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় আসলে ওই নামের সন্ত্রাসী সে না।

এছাড়াও সন্ত্রাসীদের নামের সঙ্গে মিল থাকায় অনেক নিরীহ লোক ভোগান্তি পোহান। অপরাধীদের ডাটাবেজ থাকায় এখন আর এ ভোগান্তি নেই বললেই চলে। আগে শুধু কারাগারে থাকা অপরাধীদের ফিঙ্গার প্রিন্টসহ যাবতীয় তথ্য নিয়ে ডাটাবেজ তৈরি করা হতো। কিন্ত বর্তমানে থানা থেকেও এ ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

কাফরুল থানার ওসি আব্দুল কাইয়ুম বাংলানিউজকে বলেন, সম্প্রতি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে আমরা সব ধরনের অপরাধীর ফিঙ্গার প্রিন্ট, ছবি, শরীরে বিশেষ ধরনের কোন চিহ্ন, পায়ের ছাপ এগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা করছি।

রামপুরা থানার অপারেশন অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বাংলানিউজকে অপরাধীদের তথ্য সংরক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সূত্র জানায়, ময়মনসিংহে জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় পলাতক জঙ্গি রাকিব তার অবয়ব পাল্টে ফেলে। কিন্তু ক্রিমিনাল ডাটাবেজ থাকার ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে তাকে শনাক্ত ও আটক করা গেছে। বাকি দু’জনও কেমন অবয়ব ধারণ করতে পারে তার ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি তারা নিজেকে যেভাবে লুকানোর চেষ্টা করুক না কেন শনাক্ত করা যাবে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানায়, সারাদেশের অন্তত ২৫ লাখ বিভিন্ন ধরনের অপরাধী শনাক্ত করার সব রকম ব্যবস্থা রয়েছে। তারা নিজেদের লুকানোর যতই চেষ্টা করুক, আমরা তাদের শনাক্ত করতে পারবো।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি প্রথমে এই কাজ করলেও পুলিশ ও র‌্যাব এখন এই ডাটাবেজ তৈরি অব্যাহত রেখেছে। নিত্য নতুন যে সব সন্ত্রাসী আটক হচ্ছে তাদের এই ডাটাবেজের আওতায় আনা হচ্ছে। ভবিষ্যতে তারা নিজের মুখমন্ডল পাল্টে ফেলে র‌্যাব পুলিশকে ধোকা দিয়ে আবার নতুন করে অপরাধ করলেও চিহ্নিত করা সহজ হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান বাংলানিউজকে বলেন, ঢাকা মহানগর পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ সন্ত্রাসী অপরাধীদের ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করার কাজ অব্যাহত রেখেছে। ইতিমধ্যে যে সব সন্ত্রাসী ও অপরাধী ধরা পড়েছে তাদের এসব কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়া নতুন যারা আটক হচ্ছে তাদেরকেও এই ডাটাবেজের আওতায় আনা হচ্ছে। আর এই ডাটাবেজের নাম হচ্ছে ক্রিমিনাল ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিডিএমএস)।

তিনি বলেন, এই সিডিএমএস পদ্ধতিতে অপরাধীদের নাম-ঠিকানা ছাড়াও অতীত রেকর্ড, ছবি, শরীরের কোনো অংশের বিশেষ চিহ্ন, হাতের ছাপ, আঙ্গুলের ছাপ, চোখ, পায়ের ছাপ এমনকি সন্দেহভাজন পৃষ্ঠপোষকদের নামও উল্লেখ করা থাকেব।

সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার বিজয় কৃষ্ণ কর বাংলানিউজকে বলেন, সিআইডি প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে অপরাধী শনাক্তের এই কাজ করে আসছে। কিন্তু বর্তমান প্রযুক্তির এই যুগে অপরাধীরাও তাদের অপরাধের ধরন পাল্টেছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে তারাও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে নানা অপরাধ সংঘটিত করছে। বিশেষ একবার ধরা পড়ার পর নিজের গতি প্রকৃতি পাল্টিয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে তারা। তাদের সহজেই চিহ্নিত করার জন্য পুলিশ ও প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের এই ডাটাবেজ তৈরি করছে। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫