Skip to content

ক্লান্ত বিএনপি জাতীয় ইস্যুতেও উদাসীন!

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
সাংগঠনিক দুর্বলতায় এযাবৎ সব আন্দোলনেই ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি। কিন্তু এই ব্যর্থতার দায় কখনো তারা সরকারের ঘাড়ে চাপিয়েছে আবার কখনো নিজেদের সফল বলে দাবি করেছে। অবশ্য বিরোধী দমনে সরকারের কঠোর অবস্থানও এর জন্য কমবেশি দায়ী বলে মনে করেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।

প্রথম দিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে জোটবদ্ধ আন্দোলন করে বিএনপি। সে আন্দোলন সরকারের দমনমূলক আচরণ ও কেন্দ্রীয় সংগঠনের দুর্বলতার কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছে। এরপর সরকার যখন হাইকোর্টের রায়ের অজুহাতে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দরজা বন্ধ করে দেয়ার কথা বললো তখন বিএনপি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে নামলো। কিন্তু ওই একই কারণে সেসব লাগাতার আন্দোলন সফলতার মুখ দেখেনি। এসব আন্দোলন কর্মসূচির সময় সমন্বয়হীনতার বিষয়টিও বারবার সামনে এসেছে।

বিএনপির সব কর্মসূচি, হুমকি উপেক্ষা করে সরকার যখন প্রায় একাই জাতীয় নির্বাচন করে ফেললো তখন সক্রিয় তৃণমূলও দমে যায় দলটির। তবে উপজেলা নির্বাচনে মোটামুটি ভালো ফল করার পর তৃণমূল কিছুটা হলেও চাঙা হয়। এই সুযোগে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি, অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার মতো জাতীয় ইস্যু নিয়ে আন্দোলনের ডাক দিয়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়িয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে মধ্যবর্তী নির্বাচন আদায়ের চেষ্টা চালায় বিএনপি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে, ৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দেশে বিদেশে সমালোচিত হলেও সরকার বিষয়টি ম্যানেজ করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে আবারো ঝিমিয়ে পড়েছে বিএনপির তৃণমূল। সাথে কেন্দ্রও। এখন অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ব্যর্থতায় চরম হতাশাগ্রস্ত বিএনপি সবকিছুতেই উদাসীন হয়ে পড়েছে। মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী পুলিশ বিজিপির গুলিতে বিজিবি সদস্য নিহত হওয়ার পরও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না জানানো তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত।

গত বুধবার মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) সদস্যদের গুলিতে নিহত হন বিজিবির নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমান। শুক্রবার দুপুরে মিজানুর রহমানের লাশ শনাক্ত করতে গেলে বিজিবির ওপর ফের গুলিবর্ষণ করে বিজিপি। এসময় বিজিবিও পাল্টা গুলি ছোঁড়ে। পাঁচ শতাধিক রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় শনিবার রাষ্ট্রদূত উ পি থান ওকে তলব করে কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়ে মিয়ানমারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যা সমাধানে তাকে একদিনের সময় বেঁধে দেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এছাড়া ঘটনার পর বিজিপি প্রচার করে, গুলিতে আরএসও (রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন) বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপের এক সদস্য মারা গেছে। পরে শুক্রবার বিজিবি সদস্য নিহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তারা।

এতো সব ঘটনা ঘটলেও নীরব ছিল বিএনপি। ঘটনার তিন দিনের মাথায় শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তো দূরের কথা গণমাধ্যমে একটা বিবৃতিও দেয়া হয়নি। অবশেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিন্দা জানিয়ে এবং নিহত বিজিবি সদস্যের মরদেহ দ্রুত ফিরিয়ে আনার দাবিতে বিবৃতি দেয়া হয়। অথচ বিকেল সোয়া ৫টার দিকেই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে তাও তাদের জানা ছিল না। এর ঘণ্টাখানেক পর রাত ৯টা ১০ মিনিটে সংশোধনী পাঠিয়ে আবারো বিবৃতি দেয়া হয় কিন্তু সেটি ছিল একেবারেই অপরিবর্তিত। অবশ্য সোয়া ১১টায় আবারো সংশোধনী দিয়ে ‘মরদেহ দ্রুত ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান’ এর অংশটি বাদ দেয়া হয়।

অথচ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যায় বরাবরই আওয়ামী লীগ সরকারের ‘নতজানু’ পররাষ্ট্র নীতিকে দায়ী করে আসছে বিএনপি। এমনকি এ ইস্যুতে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করেছে তারা।

এতোদিন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যার ঘটনা নিয়মিত হলেও সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দানবীয় চেহারা প্রকাশ করলো মিয়ানমার। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যার ঘটনায় বিএনপির প্রতিবাদী কণ্ঠ থাকলেও মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে বিজিবি সদস্যকে হত্যার ঘটনায় তিন দিন পর্যন্ত টু শব্দও করেনি দলটি। যদিও ১৮ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামী আগেই এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় ফোন করা হলে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ঘটনা সরকারের ব্যর্থতা। এ বিষয়ে আরো আগে গুরুত্ব সহকারে সরকারের দিক থেকে পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ ছিল।’

এরপর রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ বিষয়ে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠানো হয়।

বিবৃতিতে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অবিলম্বে নিহত নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমানের মরদেহ দেশে ফেরত দেয়া এবং নিখোঁজ বিজিবি সদস্যদের উদ্ধার করে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। অথচ বিকেলেই নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমানের মরদেহ যে হস্তান্তর করা হয়েছে তা জানেই না বিএনপি। অবশ্য এর আগেও এরকম একাধিক বিষয়ে লজ্জাজনক অজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছে দলটি।

মনে হচ্ছে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহত করার ব্যর্থ আন্দোলনের ক্লান্তি এখনও ভর করে আছে দলটির ওপর। চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দলগুছিয়ে কঠোর আন্দোলনের যাওয়ার কথা বলেছেন। দল গোছানোর অংশ হিসেবে বেশ কয়েকটি জেলায় নতুন সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কথা ছিল ৪৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবে। কিন্তু কোনো অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো নয়।

দলের নেতাদের মধ্যে যে কোন্দল, প্রতিযোগিতা এবং আস্থা-বিশ্বাসের সঙ্কট রয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। কেন্দ্রীয় কমিটি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন না করে তৃণমূলে হাত দেয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। ফলে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে ভয়ানক বিপদসীমার মধ্যে রয়েছে।

বিদ্যুৎ, গ্যাস, যানজটসহ জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিএনপি সরকার বিরোধী আন্দোলন চাঙা করতে পারছে না। পাশাপাশি সাম্প্রতিক নারায়ণগঞ্জের সাত খুন ও সারা দেশে খুন-অপহরণ-গুমের ঘটনায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বিএনপি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেনি। দলের অভ্যন্তরে উদাসীনতা ক্রমেই বেড়ে যাওয়ার যথেষ্ট কারণ নিহিত রয়েছে এইসবের মধ্যেই।

তবে বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতার অভিযোগ মানতে নারাজ দলের প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদীন ফারুক। তিনি বলেন, ‘বিএনপি মোটেই সাংগঠনিকভাবে দুর্বল নয়। তার প্রমাণ উপজেলা নির্বাচন।’

বাংলাদেশ মিয়ানমার সিমান্তে বিজিবি সদস্য নিহতের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে প্রতিবাদ না জানানো বিএনপির দুর্বলতা নয়। এটা নেতৃত্বের দুর্বলতা। যারা এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত তাদের যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ ছিল। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সবসময় জাতীয় ইস্যুতে সোচ্চার।’
বাংলামেইল২৪ডটকম

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫