বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক॥ খাতনার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে জার্মানির এক আদালতের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে বার্লিনে বিক্ষোভ করেছেন সেখানে বসবাসকারী কয়েকশ মুসলমান অধিবাসী। একই রায়ের বিরুদ্ধে আলাদাভাবে বিক্ষোভ করেছেন ইহুদিরাও । তারা ধর্ম পালনের স্বাধীনতার দাবিতে এই বিক্ষোভ করেন রোববার। এর আগেও মুসলমান ও ইহুদিরা বিক্ষোভ করেন।
সংবাদ সংস্থাগুলির খবরে জানা গেছে, গত জুনে জার্মানির বড় শহর কোলনের একটি আদালত খাতনা করার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে একটি রায় প্রকাশ করেন। বিচারকের দেওয়া রায়টি শুধুমাত্র কোলন অঞ্চলের জন্য প্রযোজ্য হলেও পুরো জার্মানিতেই চিকিৎসকরা খাতনা করা থেকে বিরত রয়েছেন । চিকিৎসকরা আদালতের রায়ের প্রসঙ্গে তুলে খাতনা সার্জারি করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। এতে সমস্যায় পড়েছেন মুসলমানরা। ইহুদিরাও তাদের ধর্মীয় বিধিবিধান অনুযায়ী খাতনা করতে পারছেন না।
মুলত নাৎসী নৃসংশতার ক্ষতবহনকারী জার্মানিতে এই রায়টি বেশ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে । বার্লিনের বেবেলপাজ এলাকায় কাছাকাছি অবস্থান নিয়ে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন মুসলমান ও ইহুদিরা । তারা রায়টিকে বিতর্কিত উল্লেখ করে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন।
এসব বিক্ষোভকারীর প্ল্যাকার্ডে লেখা হচ্ছে , জার্মানি আবারো ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে যাচ্ছে, আবার ফিরে আসছে হিটলারের নীতি ইত্যাদি। মুসলমানদের প্ল্যাকার্ডে লেখা হয়েছে, ইসলামের দৃষ্টিতে খাতনা ফরজ কাজ না হলেও অনুকরণীয় স্বাস্থ্যবিধি। ইসলামের পথ প্রদর্শক হযরত মোহাম্মদ (স:) নিজে খাতনা করেছেন এবং অনুসারীদের তা করতে উৎসাহিত করেছেন। এই হিসেবে খাতনা করা তাদের জন্য সুন্নত কাজ।
বার্লিনে ইহুদিদের সাবেক প্রধান লালা সিউসকিন্ড বলেন, খাতনা ইহুদিদের জন্য একটি ধর্মীয় আচার। ইহুদি ধর্মের রীতি অনুযায়ী কোনো বালকের আট বছর বয়সে খাতনা করতে হয়। এটা নিষিদ্ধ করা যাবেনা।
অন্যদিকে মুসলমানরা বলছেন, ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী একেক দেশে একেক বয়সে খাতনা করা হয়। তবে সবাইকে এটা করতে হয়। এটা না করলে কেউ নিজেকে মুসলমান ভাবতে পারেন না। এজন্য তাদের এটা করতেই হবে।
এদিকে কোলন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হওয়ার পর বার্লিনে নির্দিষ্ট কয়েকজনের খাতনার অনুমতি দেওয়া হলেও মুসলমান বা ইহুদিরা স্বাধীনভাবে তা করতে পারছেন না এখনো। তবে সরকার জার্মানির ১৫ টি রাজ্যেই খাতনার পক্ষে একটি আইন পাসের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন বলে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে। জার্মানির চ্যালেন্সরের মুখপাত্র বলেছেন, খাতনার লক্ষে অস্ত্রোপচারে কোন নিষেধাজ্ঞা থাকবে না। মুসলমান ও ইহুদিরা ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তা করতে পারবেন। তবে বিক্ষোভকারীরা স্বাধীনভাবে খাতনা করার বিষয়টিকে নিয়ে আইন পাসের দাবি করছেন।
উল্লেখ্য, জার্মানিতে দেড় লাখ ইহুদি ও সাড়ে ৪ লাখ মুসলমান বসবাস করেন। সম্প্রতি খাতনা করার সময় একজন ইহুদি বালকের জননাঙ্গে ক্ষত হয়ে যায়। বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন এক চিকিৎসক। শুনানি শেষে আদালত কোলন শহরে খাতনার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
জার্মানিতে খাতনার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি
আপডেট :June 18, 2014
0
সম্পর্কিত আরও সংবাদ
সাম্প্রতিক সংবাদ
আর্কাইব
প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার
প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার
ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।
সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫
