বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ নির্মাণাধীন আটতলা ভবন। ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়ে গেছে তিনতলা পর্যন্ত কাঠামো। তবে আশ্চর্যের বিষয় ভবন নির্মাণের জন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে নকশারও অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এরই মধ্যে অবৈধ এই ভবন নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করতে গিয়ে রাজউকের দুই পরিদর্শকও হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এ চিত্র খোদ রাজধানীর অভিজাত এলাকা ইস্কাটনের ‘ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চ বিদ্যালয়ের’।
অন্যদিকে, সড়ক লাগোয়া অবৈধ এ ভবনের নিচে তৈরি করা দোকান রীতিমতো আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পার্শ্ববর্তী ভবনের বাসিন্দাদের। দোকানের গা ঘেঁষেই ১০, ইস্কাটন গার্ডেনের চারতলা ভবনের প্রবেশ দ্বার। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির একক সিদ্ধান্তে খেলার মাঠের ওপর নির্মাণাধীন এ অবৈধ ভবন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবক এবং বিশেষজ্ঞরা।
নগরবিদ অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, শিশুদের খেলার মাঠে ভবন নির্মাণ করে অন্যায় করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। আবার এ অবৈধ ভবনে তৈরি করা হচ্ছে দোকান। তাও আবার আরেকটি আবাসিক ভবনের প্রবেশদ্বারের সামনে। এসব কি উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে তা এলাকাবাসীর কাছে স্পষ্ট। তাদের কয়েকজন আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ম্যানেজিং কমিটিতে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন থাকার কারণে রাজউক সেভাবে অ্যাকশনে হয়তো যায়নি। তবে আমার বক্তব্য ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে দ্রুত ভবনটি ভেঙে দেওয়া উচিত।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইস্কাটন লেডিস ক্লাবের বিপরীতে সরকারি খাসজমিতে ১৯৭৩ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা মরহুমা তৈয়বা হক। ২২ শতাংশ জমির ওপর বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে সরকারি অনুমোদনে পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। পরে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয়। ইস্কাটন গার্ডেনের মূল সড়ক-সংলগ্ন এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে পাঁচশ’। এত দিন বিদ্যমান পাঁচতলা ভবনের সামনে ছোট খেলার মাঠে শিক্ষার্থীদের অ্যাসেম্বলি হয়ে আসছিল। সেখানেই শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করত। কিন্তু সামান্য এ খেলার মাঠটি ভরাট করে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ বাড়ানোর লক্ষ্যে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অথচ ২০১০ সালে ফ্যাসিলিটিস বিভাগের পক্ষ থেকে ওই জায়গাটিতে ভবন নির্মাণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে খেলার মাঠ একইসঙ্গে এসেম্বলির জায়গাটুকু অক্ষত রেখে স্কুলের মূল ভবনের জায়গায় প্রয়োজনে সুউচ্চ ভবন তৈরা করা যেতে পারে এমন প্রস্তাব পেশ করা করা হয়েছিল তৎকালীন স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। তবে বর্তমান ম্যানেজিং কমিটি স্কুলের ফান্ড ভেঙে ভবন নির্মাণের জন্য উঠেপড়ে লাগে। স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কক্ষ থেকে নামিয়ে ফেলা হয় প্রতিষ্ঠাতা মরহুমা তৈয়বা হকের ছবি। একপর্যায়ে এলাকাবাসী এবং অভিভাবকদের মতামত উপেক্ষা করে রমনা থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবুল বাশারের একক সিদ্ধান্তে এবার স্কুলের ফান্ড খরচ করেই আটতলা ভবন নির্মাণ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে এ ভবন নির্মাণের জন্য রাজউক থেকে নকশা অনুমোদন করানো হয়নি। এলাকার বাসিন্দারা রাজউক চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এবং ২ মার্চ চিঠি দিলেও গতকাল পর্যন্ত ভবনের নির্মাণকাজ অব্যাহত ছিল। তবে রমজানের ছুটির কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
তবে জাহিদুজ্জামান ফারুক নামের এক অভিভাবক বলেন, বাচ্চারা এখন কোথায় খেলাধুলা করবে? কোথায় হবে এ্যাসেম্বলি? আবার স্কুল ভবনে দোকান এ বিষয়টিও বেমানান। আমরা যে কোনো মূল্যে স্কুলের ভালো পরিবেশ চাই। ম্যানেজিং কমিটিরও উচিত স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মতামত নিয়ে আইন অনুসারে কাজ করা। নইলে বাচ্চারা এ স্কুল থেকে কী শিক্ষা নেবে? স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক সানজিদা আক্তার বলেন, আমি কখনো শিক্ষায় বাণিজ্যিকীকরণের পক্ষে নই। বাচ্চাদের খেলার মাঠে কেন ভবন নির্মাণ করতে হবে? তাহলে তো সরকারি অনুদানেই তা করা যেত ২০১০ সালে। স্কুলে ত্রিশ বছর শিক্ষকতা করার পর ২০১১ সালের ডিসেম্বরে অবসরে এসেছি। এখন এ ব্যাপারে কোনো কথা বলতে চাই না। তবে যে কোনো মূল্যে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা উচিত। নইলে এর প্রভাব পড়বে কোমলমতি বাচ্চাদের ওপর। ভবন নির্মাণের বিষয়ে রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী এমদাদুল ইসলাম বলেন, রাজউক থেকে কোনো নকশার অনুমোদন নেওয়া হয়নি। কোনো ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেনি স্কুল কর্তৃপক্ষ। পরিদর্শনে রাজউকের লোক পাঠানো হয়েছিল। শীঘ্রই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজউকের দুই পরিদর্শক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে অবগত নই বলে এড়িয়ে যান তিনি। এদিকে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবুল বাশারের দাবি, স্কুল-কলেজের বিল্ডিং করতে গেলে রাজউকের অনুমতি লাগে না। নিজস্ব অর্থায়নে বিল্ডিং করছি। তবে এখন অনুমতির প্রক্রিয়া চলছে। বাংলাদেশ প্রতিদিন
