বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ আগের দিন বলেছিলাম ব্রাজিল যদি শুরুতে গোল পেয়ে যায় তাহলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে পারবে। শেষ পর্যন্ত তাই হয়েছে। কলম্বিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে তারা সেমিফাইনালে উঠে গেছে। দলের শক্তি, সমর্থন, ভেন্যু সবদিক দিয়েই ব্রাজিল এগিয়েছিল। কিন্তু কলম্বিয়া এবার যে ছন্দময় খেলা খেলছিল তাতে ব্রাজিলিয়ানরা বেশ ভয়েই ছিল। সত্যি বলতে কি, ব্রাজিল ম্যাচ জিতবে কিনা এ নিয়ে অনেকের সন্দেহ ছিল। আমি বলেছিলাম কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলবে না। কিন্তু কলম্বিয়াকে দাবিয়ে রাখতে স্বাগতিকদের প্রয়োজন ছিল শুরুতে গোল পাওয়া। জানি না আমার সঙ্গে অন্যরা একমত হবেন কিনা। আমার দৃষ্টিতে কোয়ার্টার ফাইনালে শুরু থেকেই ব্রাজিলকে উজ্জীবিত মনে হয়েছে। যা আগের ম্যাচগুলোতে দেখা যায়নি। ১৯৫০ সালে বিশ্বকাপের আয়োজন করে তারা দুর্ভাগ্যক্রমে শিরোপা জিততে পারেনি। দিয়াগোরা ভালোমতো জানতেন প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া যথেষ্ট শক্তিশালী। ভুল করলেই কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হবে। তাই অধিনায়ক হিসেবে তাকে বিশেষ দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হয়েছে। সাত মিনিটের মাথায় তারই গোলে ব্রাজিল এগিয়েছিল। আমার তখন মনে হচ্ছিল তারা আরও গোল পেয়ে যাবে। কিন্তু আক্রমণভাগ নিস্তেজ থাকাতে কলম্বিয়াও ম্যাচ ধরে ফেলে। লক্ষ্য করলে দেখবেন নেইমারকে শুরু থেকে কড়া পাহাড়ায় রাখা হয়েছিল। তারপরও কিন্তু সতীর্থ হাল্ক ও অস্কারকে ঠিকই বল যোগান দিয়েছেন। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আশা করছিলাম নেইমার জাদুকরী নৈপুণ্য প্রদর্শন করবেন। তা হয়নি। এক্ষেত্রে তাকে ব্যর্থও বলবো না। কারণ ওকে প্রতিপক্ষরা খেলতেই দেয়নি। ফাউলের পর ফাউলে শিকার হয়েছেন। মোহামেডান-আবাহনীর ম্যাচে আক্রমণভাগে খেলোয়াড়রা বোতলবন্দী হয়ে পড়লে ডিফেন্ডাররা গোল দিতে তৎপর হয়ে উঠেন। ব্রাজিল কিন্তু সেই কাজটা করেছে সফলভাবেই। দুটো গোলই করেছেন ডিফেন্ডাররা। দিয়াগো সিলভা সহজভাবে গোল করলেও ৬৯ মিনিটে ডেভিড লুইজের গোলটা ছিল অসাধারণ। ইরানের বিপক্ষে ফ্রি কিকে চমৎকার গোল করে শেষ মুহূর্তে ব্রাজিলকে জয় এনে দিয়েছিলেন। আর কলম্বিয়া যখন গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে লড়ছিল তখুনি লুইজ ফ্রি কিকে জালে বল পাঠালেন। ২ গোল দেওয়ার পরও ব্রাজিল কেন নেগেটিভ ফুটবল খেললো সেটাই প্রশ্ন। থিয়াগো যে ফাউলে হলুদ কার্ড দেখলেন তা আমাকে অবাক করেছে। এমন যদি হতো গোল হয়ে যাচ্ছে তাহলে এ ফাউল মেনে নেওয়া যেত। থিয়াগো নিশ্চয় জানতেন অরেকটি হলুদ কার্ড পেলেই তিনি সেমিফাইনালে নামতে পারবেন না। ও কার্ড দেখার পরই ব্রাজিল ছন্দটা হারিয়ে ফেলে। এরপর ম্যাচ কলম্বিয়ার নিয়ন্ত্রণে ছিল। রদ্রিগেজতো বার বার ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছিলেন। বয়স কম হলেও নিজেকে তুলে ধরেছেন দারুণভাবে। পেনাল্টি গোলে ব্যবধান কমালেও কড়া মার্কিংয়ে থাকার পরও বার বার প্রতিপক্ষের ডিফেন্স লাইন ভেঙে ফেলছিলেন। গোলরক্ষক সিজারের ফাউল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আমি কিন্তু বলবো সিজার কেন অন্য গোলরক্ষক হলেও একই কাজ করতেন। কারণ নিশ্চিত যখন গোল হয়ে যাচ্ছে তখন এ ধরনের ফাউল করতেই পারেন। কারণ পেনাল্টি থেকে গোল যে হবে এর কোনো নিশ্চয়তা নেই।
যাক রদ্রিগেজ ঠিকই জালে বল পাঠিয়েছেন। ম্যাচের সবচেয়ে বড় ঘটনা ছিল আহত হয়ে নেইমারের মাঠ ছাড়াটা। নেইমার তখন যে পজিশনে ছিল সেখানে গোল হওয়ার কথা নয়। তারপরও জুনিকা এমন মারাত্মদক ফাউল করলেন বুঝতে পারলাম না। অবাক লেগেছে স্প্যানিজ রেফারি কার্লোসের ভূমিকা দেখে। এমন ফাউলে নিশ্চিত লালকার্ড দেখানোর কথা। অথচ তার পকেট থেকে হলুদ কার্ডও বের হলো না। মারাত্মদক ইনজুরিতে সেমিতো বটেই ফাইনালে উঠলেও নেইমার খেলতে পারবেন না। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন কয়েক সপ্তাহ তাকে হাসপাতালেই থাকতে হবে। নেইমার নেই। থিয়াগো সিলভাও আউট। সুতরাং জার্মানির বিপক্ষে ব্রাজিল সত্যিই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেল। বাংলাদেশ প্রতিদিন
