Skip to content

হামলা জন্য দায়ী সমঅধিকার : সুলতানা কামাল

জেলা প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম ॥ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিটির কো-চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল বলেছেন, ‘আলোচনা এড়িয়ে সমঅধিকার আন্দোলন রাঙামাটিতে হামলা চালিয়েছে। হামলার জন্য সমঅধিকার আন্দোলন দায়ী।’

শনিবার রাঙামাটিতে হামলার পর চট্টগ্রামে ফিরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তিনি।
পার্বত্যাঞ্চলের বাঙালিদের সংগঠন সমঅধিকারের নেতৃত্বে এই হামলার শিকার হওয়ার পর পুলিশ পাহারায় চট্টগ্রামে নিয়ে আসা বেসরকারি সংস্থা পার্বত্য কমিশনের প্রতিনিধি দলকে।
সংবাদ সম্মেলনে সুলতানা কামাল বলেন, ‘সমঅধিকারের সঙ্গে আলোচনার কথা ছিল। আলোচনায় না এসে সকালে তারা রাঙামাটি পর্যটন এলাকায় জড়ো হয়ে হামলার চেষ্টা করে। পরে ফেরার সময় আমাদের গাড়িতে প্রচণ্ড আক্রমণ করা হয়।’
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, ‘শুক্রবার বিকেলে সমঅধিকার আন্দোলনের রাঙামাটি অংশের সঙ্গে বৈঠকের কথা ছিল। কিন্তু শুক্রবার তারা বৈঠকে আসেননি। খাগড়াছড়িতে থাকাকালে জানতে পারি তারা রাঙামাটিতে অবরোধ ডেকেছে। এরপর বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।’
গত বুধবার খাগড়াছড়ি সফরের মধ্য দিয়ে এই কমিশনের পার্বত্য চট্টগ্রামে কর্মসূচি শুরু হয়। রাঙামাটি হয়ে তাদের বান্দরবান যাওয়ার কথা ছিল।
সুলতানা কামাল বলেন, ‘শনিবার সকালেও আমরা অপেক্ষায় ছিলাম। তাদের সঙ্গে যোগাযোগেরও চেষ্টা করেছিলাম। রাঙামাটির পর্যটন মোটেল এলাকায় অবস্থান করছিল সিএইচটি কমিশনের প্রতিনিধি দল।’
সুলাতানা কামাল বলেন, ‘সকালে পর্যটন থেকে বেরিয়ে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করি। অবরোধ দেখতে পেয়ে আবার ফেরত যাই। সেখানে একজন মহিলা শুরুতে একাই আসেন। ক্রমে ক্রমে মানুষ জমতে শুরু করে। তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছিল।’
সমঅধিকারের নেতাকর্মীদের পর্যটন মোটেলে জড়ো হওয়ার বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তার জন্য সেখানে পুলিশ ছিল। তারপরও তারা ভিড় করে পর্যটনের ভেতর এসে আমাদের গাড়ি চালককে হুমকি দিয়ে যায়।’
পরে রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ওসি কমিশনের দলের সঙ্গে দেখা করে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন বলে জানান তিনি।
সুলতানা কামাল বলেন, ‘সামনে-পেছনে ও পাশে পুলিশ প্রহরা নিয়ে রওনা হই। রাঙামাটির ডিজিএফআই কার্যালয়ের কাছাকাছি পৌঁছালে হামলাকারীরা পেছন থেকে প্রচণ্ড আক্রমণ চালায়। বড় বড় পাথর নিক্ষেপ করা হয়। গাড়ির সব কাচ পাথরের আঘাতে ভেঙে যায়। গাড়ির সামনে বসা ওসির (সোহেল ইমতিয়াজ) বুকে-মাথায় আঘাত লাগে। চোখে কাচ ঢুকে যায়। হামলায় ইলোরা দেওয়ানের মাথা ফেটে যায়। হাতে ব্যথা পান ইফতেখারুজ্জামান ও গলায় আঘাত পান গাড়িচালক।’
এরপর কয়েক দফায় গাড়িবহরে হামলা করা হয় জানিয়ে সুলতানা বলেন, পুলিশ চেষ্টা করেছিল। কিন্তু অনবরত বিভিন্ন জায়গা থেকে আঘাত করা হচ্ছিল।
পর্যটন মোটেল এলাকায় যে মহিলার নেতৃত্বে বিক্ষোভ দেখানো হয় তার নাম জানতে চাইলে সুলতানা বলেন, ‘শুনেছি তার নাম নুরজাহান। তিনি সমঅধিকারের নেত্রী।’
কমিশনের পার্বত্য চট্টগ্রাম সফরের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে সুলতানা কামাল বলেন, ‘১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তিচুক্তি সম্পাদনের পর কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, কতটা হয়নি এবং বাধা অতিক্রমের বিষয়ে আলোচনার জন্যই ছিল এই সফর। ভুক্তভোগী জনগোষ্ঠী, আদিবাসী-বাঙ্গালি, জনপ্রশাসন, দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনী, জেএসএস-ইউপিডিএফ, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি ও সম-অধিকারের সঙ্গেও প্রতিবার আলোচনা করি।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন, অ্যাডভোকেট খুশি কবির, ড. ইফতেখারুজ্জামান ও অধ্যাপক স্বপন আদনান।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫